Dhaka ১১:৪০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বান্দরবানে উন্নয়ন ও সমন্বয় জোরদারে বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দ্রুতই প্রাথমিকে ৬০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ: শিক্ষামন্ত্রী মার্কিন নৌ-অবরোধ না তুললে লোহিত সাগরের বাণিজ্য পথ বন্ধের হুমকি ইরানের উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ২০০ কোটি ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী এসএসসি ও এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষা নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে হোসেনপুরে মতবিনিময় সভা ডলুপাড়ায় সাংগ্রাইয়ের জলকেলি: মন্ত্রী-এমপির উপস্থিতিতে সম্প্রীতির মহোৎসব লাল মুক্তিবার্তা ও ভারতীয় তালিকা থেকে ৬৪৭৬ ‘ভুয়া’ মুক্তিযোদ্ধা বাদ ধামইরহাটে স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এলজিইডি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: নীরব দপ্তর, ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয়রা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫

ক্ষমতার চেয়ে দেশপ্রেম বড়: ডা. জুবাইদা রহমান

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৯:১৩:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ২৩৫ সময় দেখুন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, বিএনপির রাজনীতি হলো পরিকল্পনা, ঐক্য ও মানবিক মর্যাদার রাজনীতি। এখানে ‘আমি’ নয়, ‘আমরা’ সবার আগে। ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে দেশ, ক্ষমতার চেয়ে দেশপ্রেম বড়। এ দর্শন নিয়েই আমরা এগোতে চাই। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না। আজ বুধবার বিকেলে হাতিরঝিল অ্যাম্পিথিয়েটারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ উপলক্ষে বিএনপির নির্বাচনী পরিচালনা পেশাজীবী কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ভাষানটেক ও কড়াইল বস্তি থেকে আসা তিন বোন, পোশাক শিল্পের দুই পরিশ্রমী নারী শ্রমিক এবং একজন পরিবহন শ্রমিকের কষ্টের কথা আমরা শুনেছি। এ সমস্যাগুলো শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি একটি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও জনগণের অংশগ্রহণ থাকলে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। তিনি আরও বলেন, শ্রমিকের ঘামের সঠিক মূল্য দিতে হবে, মেধাভিত্তিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনগণই রাষ্ট্রের মূল শক্তি, নেতা নয়। ভাষানটেক, কড়াইল ও সাততলার বস্তিবাসী থেকে শুরু করে নারী পোশাক শ্রমিক ও পরিবহন শ্রমিক, সবার কণ্ঠ মিলেছে এক জায়গায়। ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির মতবিনিময় সভায় ডা. জুবাইদা রহমান তুলে ধরেন একটি সমতা, সম্মান ও পরিকল্পনাভিত্তিক বাংলাদেশের রূপরেখা। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির নির্বাচনী পরিচালনা পেশাজীবী কমিটির দলনেতা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।

আরও পড়ুনঃ  হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ২৮ দিনে ১৬৯ শিশুর মৃত্যু

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পোশাক শ্রমিকসহ সব শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শুধু নিত্যপণ্যের দাম নয়, যাতায়াত ও চিকিৎসা ব্যয়সহ সার্বিক জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে মজুরি নির্ধারণ করা হবে। প্রতি পাঁচ বছর নয়, দুই বছর অন্তর মজুরি পুনর্নির্ধারণে কমিশন গঠন করা হবে। তিনি আরও বলেন, নারী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ আবাসন ও যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ নয়, বরং কড়াইলসহ বিভিন্ন বস্তিতে বহুতল ভবন নির্মাণ করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হবে, যা নির্মাণ শুরুর আগেই বস্তিবাসীদের নামে হস্তান্তর করা হবে। পরিবহন খাতকে দেশের ‘লাইফলাইন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের জন্য বিমা চালু করা হবে। দুর্ঘটনা বা অসুস্থতায় সরকারি ভর্তুকির মাধ্যমে চিকিৎসা ও পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

ভাষানটেক: আবাসন, কাজ ও নারীর ক্ষমতায়নের দাবি: ভাষানটেক বস্তিবাসীদের পক্ষে সভায় বক্তব্য দেন গৃহিণী তানিয়া আক্তার। তিনি বলেন, বিএনপি শাসনামলে ভাষানটেকে দরিদ্র ও অসহায়দের জন্য একটি আবাসন প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে প্রকৃত দরিদ্ররা কোনো ঘর পাননি। তিনি বলেন, তারেক রহমান ‘ঘরের লোক’ এবং একজন দেশপ্রেমিক নেতা। তিনি নির্বাচিত হলে সাধারণ মানুষ সরাসরি তাদের অভাব, অভিযোগ জানাতে পারবে। ভাষানটেক, ধামালকোট ও সাততলা এলাকার প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি গৃহিণীদের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি এবং বাল্যবিয়ে রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুনঃ  উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ২০০ কোটি ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

কড়াইল: শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্থায়ী বসবাসের আকুতি: কড়াইল বস্তিবাসীদের পক্ষে সভায় কথা বলেন সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার বিথি। তিনি বলেন, বারবার উচ্ছেদ অভিযানের কারণে কড়াইলবাসীর স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। দরিদ্র জনবসতির জন্য তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহারে যে স্থায়ী আবাসনের পরিকল্পনা রয়েছে, তা এলাকাবাসীর মতামতের ভিত্তিতে বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, কড়াইলে কোনো সরকারি প্রাথমিক বা মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই। ফলে শিক্ষার হার ও মান দুটোই শোচনীয়। কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিজ্ঞান গবেষণাগার স্থাপনের দাবি জানান তিনি চিকিৎসা সেবা ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে প্রসূতি মা ও নবজাতকদের জীবন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জরুরি ভিত্তিতে একটি ডেলিভারি সেন্টার ও শিশুদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের দাবি জানান।

সাততলা: অগ্নিঝুঁকি ও নারী নিরাপত্তার প্রশ্ন: সাততলা বস্তিবাসীদের পক্ষে সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নার্গিস আক্তার বলেন, ঘনবসতি ও অবৈধ গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। উন্নত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা এবং ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার দাবি জানান তিনি।তিনি বলেন, এলাকায় কোনো সরকারি ডেলিভারি সেন্টার বা প্রসূতি হাসপাতাল নেই। ফলে অনেক নারী ঝুঁকিপূর্ণভাবে ঘরে সন্তান প্রসব করতে বাধ্য হন। এ সংকট নিরসনে একটি আধুনিক ডেলিভারি সেন্টার স্থাপনের আহ্বান জানান তিনি। নারী নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, মাদকাসক্তদের দৌরাত্ম্যে নারীদের চলাচল অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। পর্যাপ্ত আলো ও স্ট্রিট লাইট স্থাপনের দাবি জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  দেশের সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৫ দিনের টানা ছুটি শুরু

পরিবহন শ্রমিকদের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও হয়রানির অভিযোগ পরিবহন শ্রমিকদের পক্ষে নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, অটোরিকশার আধিক্যে দুর্ঘটনা বাড়ছে এবং সনাতন রিকশাচালকরা যাত্রী সংকটে পড়ছেন। চালকরা দৈনিক ১৬–১৮ ঘণ্টা কাজ করেও পরিবার চালাতে পারছেন না। লাইসেন্স নবায়ন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং রাস্তায় হয়রানির অভিযোগ তুলে ধরে তিনি শ্রমিকবান্ধব পরিবহন নীতির দাবি জানান।

নারী পোশাক শ্রমিকদের ক্ষোভ ও দাবি নারী পোশাক শ্রমিকদের পক্ষে ফাতেমা খাতুন বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা যেখানে ৬ মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি পান, সেখানে পোশাক শ্রমিকরা পান মাত্র ৪ মাস। পোশাক শ্রমিকরা রোবট নন। এ বাস্তবতা মেনে নিয়ে ছুটি ৬ মাস করার দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, অনেক কারখানায় নারী শ্রমিকদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সুপারভাইজারদের গায়ে হাত তোলা, কুপ্রস্তাব এবং জোরপূর্বক অতিরিক্ত কাজ করানো বন্ধ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে শ্রমিকদের জন্য সুলভ মূল্যে রেশনিং ব্যবস্থা চালু এবং নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। সভা শেষে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ এবং সবার আগে বাংলাদেশ। এ নীতিতেই আমরা একটি মানবিক ও সমতার বাংলাদেশ গড়তে চাই।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

বান্দরবানে উন্নয়ন ও সমন্বয় জোরদারে বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ক্ষমতার চেয়ে দেশপ্রেম বড়: ডা. জুবাইদা রহমান

আপডেটের সময়: ০৯:১৩:০৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান বলেছেন, বিএনপির রাজনীতি হলো পরিকল্পনা, ঐক্য ও মানবিক মর্যাদার রাজনীতি। এখানে ‘আমি’ নয়, ‘আমরা’ সবার আগে। ব্যক্তি স্বার্থের ঊর্ধ্বে দেশ, ক্ষমতার চেয়ে দেশপ্রেম বড়। এ দর্শন নিয়েই আমরা এগোতে চাই। আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই যেখানে কোনো বৈষম্য থাকবে না। আজ বুধবার বিকেলে হাতিরঝিল অ্যাম্পিথিয়েটারে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ উপলক্ষে বিএনপির নির্বাচনী পরিচালনা পেশাজীবী কমিটির উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ভাষানটেক ও কড়াইল বস্তি থেকে আসা তিন বোন, পোশাক শিল্পের দুই পরিশ্রমী নারী শ্রমিক এবং একজন পরিবহন শ্রমিকের কষ্টের কথা আমরা শুনেছি। এ সমস্যাগুলো শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটি একটি রাষ্ট্রীয় ব্যর্থতার প্রতিচ্ছবি। তবে সঠিক পরিকল্পনা ও জনগণের অংশগ্রহণ থাকলে এসব সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব। তিনি আরও বলেন, শ্রমিকের ঘামের সঠিক মূল্য দিতে হবে, মেধাভিত্তিক কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে এবং বিচারহীনতার সংস্কৃতি দূর করে মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠা করতে হবে। জনগণই রাষ্ট্রের মূল শক্তি, নেতা নয়। ভাষানটেক, কড়াইল ও সাততলার বস্তিবাসী থেকে শুরু করে নারী পোশাক শ্রমিক ও পরিবহন শ্রমিক, সবার কণ্ঠ মিলেছে এক জায়গায়। ঢাকা-১৭ আসনে বিএনপির মতবিনিময় সভায় ডা. জুবাইদা রহমান তুলে ধরেন একটি সমতা, সম্মান ও পরিকল্পনাভিত্তিক বাংলাদেশের রূপরেখা। সভায় সভাপতিত্ব করেন বিএনপির নির্বাচনী পরিচালনা পেশাজীবী কমিটির দলনেতা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার।

আরও পড়ুনঃ  টেকনাফে কৃষক কার্ড বিতরণ অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কাল আসছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে পোশাক শ্রমিকসহ সব শ্রমজীবী মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে। শুধু নিত্যপণ্যের দাম নয়, যাতায়াত ও চিকিৎসা ব্যয়সহ সার্বিক জীবনযাত্রার ব্যয় বিবেচনায় নিয়ে মজুরি নির্ধারণ করা হবে। প্রতি পাঁচ বছর নয়, দুই বছর অন্তর মজুরি পুনর্নির্ধারণে কমিশন গঠন করা হবে। তিনি আরও বলেন, নারী শ্রমিকদের জন্য নিরাপদ আবাসন ও যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে। বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ নয়, বরং কড়াইলসহ বিভিন্ন বস্তিতে বহুতল ভবন নির্মাণ করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় ফ্ল্যাট বরাদ্দ দেওয়া হবে, যা নির্মাণ শুরুর আগেই বস্তিবাসীদের নামে হস্তান্তর করা হবে। পরিবহন খাতকে দেশের ‘লাইফলাইন’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, পরিবহন শ্রমিকদের জন্য বিমা চালু করা হবে। দুর্ঘটনা বা অসুস্থতায় সরকারি ভর্তুকির মাধ্যমে চিকিৎসা ও পরিবারকে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে।

ভাষানটেক: আবাসন, কাজ ও নারীর ক্ষমতায়নের দাবি: ভাষানটেক বস্তিবাসীদের পক্ষে সভায় বক্তব্য দেন গৃহিণী তানিয়া আক্তার। তিনি বলেন, বিএনপি শাসনামলে ভাষানটেকে দরিদ্র ও অসহায়দের জন্য একটি আবাসন প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে অব্যবস্থাপনা ও অনিয়মের কারণে প্রকৃত দরিদ্ররা কোনো ঘর পাননি। তিনি বলেন, তারেক রহমান ‘ঘরের লোক’ এবং একজন দেশপ্রেমিক নেতা। তিনি নির্বাচিত হলে সাধারণ মানুষ সরাসরি তাদের অভাব, অভিযোগ জানাতে পারবে। ভাষানটেক, ধামালকোট ও সাততলা এলাকার প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে দ্রুত সমাধানের দাবি জানান তিনি। পাশাপাশি গৃহিণীদের জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি এবং বাল্যবিয়ে রোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুনঃ  গণভোটের রায় বাস্তবায়নে প্রয়োজনে আবারও জীবন দেবো: ডা. শফিকুর রহমান

কড়াইল: শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্থায়ী বসবাসের আকুতি: কড়াইল বস্তিবাসীদের পক্ষে সভায় কথা বলেন সরকারি তিতুমীর কলেজের শিক্ষার্থী ফাতেমা আক্তার বিথি। তিনি বলেন, বারবার উচ্ছেদ অভিযানের কারণে কড়াইলবাসীর স্বাভাবিক জীবন ব্যাহত হচ্ছে। দরিদ্র জনবসতির জন্য তারেক রহমানের নির্বাচনী ইশতেহারে যে স্থায়ী আবাসনের পরিকল্পনা রয়েছে, তা এলাকাবাসীর মতামতের ভিত্তিতে বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, কড়াইলে কোনো সরকারি প্রাথমিক বা মাধ্যমিক বিদ্যালয় নেই। ফলে শিক্ষার হার ও মান দুটোই শোচনীয়। কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সাংস্কৃতিক কেন্দ্র, বিশ্ববিদ্যালয় ও বিজ্ঞান গবেষণাগার স্থাপনের দাবি জানান তিনি চিকিৎসা সেবা ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার অভাবে প্রসূতি মা ও নবজাতকদের জীবন সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে উল্লেখ করে তিনি জরুরি ভিত্তিতে একটি ডেলিভারি সেন্টার ও শিশুদের জন্য ডে-কেয়ার সেন্টার স্থাপনের দাবি জানান।

সাততলা: অগ্নিঝুঁকি ও নারী নিরাপত্তার প্রশ্ন: সাততলা বস্তিবাসীদের পক্ষে সাউথইস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নার্গিস আক্তার বলেন, ঘনবসতি ও অবৈধ গ্যাস-বিদ্যুৎ সংযোগের কারণে এলাকায় অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। উন্নত অগ্নিনির্বাপক ব্যবস্থা এবং ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার দাবি জানান তিনি।তিনি বলেন, এলাকায় কোনো সরকারি ডেলিভারি সেন্টার বা প্রসূতি হাসপাতাল নেই। ফলে অনেক নারী ঝুঁকিপূর্ণভাবে ঘরে সন্তান প্রসব করতে বাধ্য হন। এ সংকট নিরসনে একটি আধুনিক ডেলিভারি সেন্টার স্থাপনের আহ্বান জানান তিনি। নারী নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি বলেন, মাদকাসক্তদের দৌরাত্ম্যে নারীদের চলাচল অনিরাপদ হয়ে উঠেছে। পর্যাপ্ত আলো ও স্ট্রিট লাইট স্থাপনের দাবি জানান তিনি।

আরও পড়ুনঃ  উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ২০০ কোটি ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

পরিবহন শ্রমিকদের দীর্ঘ কর্মঘণ্টা ও হয়রানির অভিযোগ পরিবহন শ্রমিকদের পক্ষে নজরুল ইসলাম বাবু বলেন, অটোরিকশার আধিক্যে দুর্ঘটনা বাড়ছে এবং সনাতন রিকশাচালকরা যাত্রী সংকটে পড়ছেন। চালকরা দৈনিক ১৬–১৮ ঘণ্টা কাজ করেও পরিবার চালাতে পারছেন না। লাইসেন্স নবায়ন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার নামে অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং রাস্তায় হয়রানির অভিযোগ তুলে ধরে তিনি শ্রমিকবান্ধব পরিবহন নীতির দাবি জানান।

নারী পোশাক শ্রমিকদের ক্ষোভ ও দাবি নারী পোশাক শ্রমিকদের পক্ষে ফাতেমা খাতুন বলেন, সরকারি চাকরিজীবীরা যেখানে ৬ মাস মাতৃত্বকালীন ছুটি পান, সেখানে পোশাক শ্রমিকরা পান মাত্র ৪ মাস। পোশাক শ্রমিকরা রোবট নন। এ বাস্তবতা মেনে নিয়ে ছুটি ৬ মাস করার দাবি জানান তিনি। তিনি বলেন, অনেক কারখানায় নারী শ্রমিকদের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন ভয়াবহ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সুপারভাইজারদের গায়ে হাত তোলা, কুপ্রস্তাব এবং জোরপূর্বক অতিরিক্ত কাজ করানো বন্ধ করতে হবে। তিনি আরও বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিতে শ্রমিকদের জন্য সুলভ মূল্যে রেশনিং ব্যবস্থা চালু এবং নিরাপদ যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি। সভা শেষে ডা. জুবাইদা রহমান বলেন, আমার আগে আমরা, আমাদের আগে দেশ এবং সবার আগে বাংলাদেশ। এ নীতিতেই আমরা একটি মানবিক ও সমতার বাংলাদেশ গড়তে চাই।