Dhaka ১১:২৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে গোডাউন ভেঙে সার লুট

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৮:২৯:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১৯ সময় দেখুন

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ এবার কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ডিলারের গুদামের দরজা ও টিনের বেড়া ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে কৃষকদের বিরুদ্ধে। ডিলারের দাবি, এ সময় গুদাম থেকে প্রায় ১৫০ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের দাবি, সার লুটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আজ সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বন্দবের ইউনিয়নের মহিলা কলেজ মোড় এলাকায় মেসার্স মিতা-হাসান এন্টারপ্রাইজের গুদামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির সার ডিলার মো. মতিউর রহমান। স্থানীয়রা জানান, সার নেওয়ার জন্য মধ্যরাত থেকেই কৃষকেরা গুদামের সামনে অপেক্ষা করছিলেন। সকাল ৯টার দিকে ডিলার তাদের জানান, পুলিশ এনে সার বিতরণ করা হবে। কিন্তু প্রায় দুই ঘণ্টা পরও পুলিশ না আসায় সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে সকাল ১১টার দিকে কয়েকজন গুদামের দরজা ও টিনের বেড়া ভেঙে ভেতরে ঢুকে সার নিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুনঃ  দোহাজারীতে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারে ব্যপক অভিযোগ

 

ডিলার মতিউর রহমান বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সার বিতরণ শুরুর কথা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে যান। এরই মধ্যে ধৈর্যহারা কৃষকেরা গুদাম থেকে আনুমানিক দেড় শতাধিক বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যান। ঠিক কত বস্তা সার নেওয়া হয়েছে, তা হিসাব করার পর বলা যাবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবুল আলম বসুনিয়া বলেন, সার লুটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণভাবে সার বিতরণ করা হচ্ছে। ফেইসবুকে সার লুটের যেসব খবর ছড়িয়েছে, তা সঠিক নয়। তিনি বলেন, মঙ্গলবার থেকে খোলাবাজারে সার বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে। এতে সার নিয়ে ছড়ানো গুজবও দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রৌমারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রাসেল কবির বলেন, সার লুটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। কৃষক নন- এমন অনেক ভ্যান ও রিকশাচালক সার নিতে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন।

আরও পড়ুনঃ  কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে ধানাই-পানাই করবেন না : জামায়াত আমির

 

 

তারা সার সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করছেন বলেও তিনি জানান। রৌমারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বলেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সার সংকট তৈরি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুবুল হাসান বলেন, আমি নিজেই বিভিন্ন সার ডিলার পয়েন্টে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। একটি সার বিক্রয়কেন্দ্রে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

আরও পড়ুনঃ  নাটোরের লালপুরে প্রস্তাবিত সৌর বিদ্যুৎ কেন্দ্র এলাকা পরিদর্শনে চীনা প্রতিনিধি দল
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

কুড়িগ্রামে গোডাউন ভেঙে সার লুট

আপডেটের সময়: ০৮:২৯:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধিঃ এবার কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলায় ডিলারের গুদামের দরজা ও টিনের বেড়া ভেঙে সার নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে কৃষকদের বিরুদ্ধে। ডিলারের দাবি, এ সময় গুদাম থেকে প্রায় ১৫০ বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যাওয়া হয়েছে। তবে স্থানীয় প্রশাসন ও পুলিশের দাবি, সার লুটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। আজ সোমবার ৭ সেপ্টেম্বর) সকাল ১১টার দিকে উপজেলার বন্দবের ইউনিয়নের মহিলা কলেজ মোড় এলাকায় মেসার্স মিতা-হাসান এন্টারপ্রাইজের গুদামে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান প্রতিষ্ঠানটির সার ডিলার মো. মতিউর রহমান। স্থানীয়রা জানান, সার নেওয়ার জন্য মধ্যরাত থেকেই কৃষকেরা গুদামের সামনে অপেক্ষা করছিলেন। সকাল ৯টার দিকে ডিলার তাদের জানান, পুলিশ এনে সার বিতরণ করা হবে। কিন্তু প্রায় দুই ঘণ্টা পরও পুলিশ না আসায় সেখানে উত্তেজনা তৈরি হয়। একপর্যায়ে সকাল ১১টার দিকে কয়েকজন গুদামের দরজা ও টিনের বেড়া ভেঙে ভেতরে ঢুকে সার নিয়ে যান বলে অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনার ছবি ও ভিডিও পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

আরও পড়ুনঃ  ধুনটে শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

 

ডিলার মতিউর রহমান বলেন, সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সার বিতরণ শুরুর কথা ছিল। কিন্তু পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় প্রশাসনের সহযোগিতা নিতে তিনি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে যান। এরই মধ্যে ধৈর্যহারা কৃষকেরা গুদাম থেকে আনুমানিক দেড় শতাধিক বস্তা ইউরিয়া সার নিয়ে যান। ঠিক কত বস্তা সার নেওয়া হয়েছে, তা হিসাব করার পর বলা যাবে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহাবুবুল আলম বসুনিয়া বলেন, সার লুটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণভাবে সার বিতরণ করা হচ্ছে। ফেইসবুকে সার লুটের যেসব খবর ছড়িয়েছে, তা সঠিক নয়। তিনি বলেন, মঙ্গলবার থেকে খোলাবাজারে সার বিক্রির ব্যবস্থা করা হবে। এতে সার নিয়ে ছড়ানো গুজবও দূর হবে বলে আশা করা হচ্ছে। রৌমারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার রাসেল কবির বলেন, সার লুটের কোনো ঘটনা ঘটেনি। কৃষক নন- এমন অনেক ভ্যান ও রিকশাচালক সার নিতে এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন।

আরও পড়ুনঃ  দোহাজারীতে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারে ব্যপক অভিযোগ

 

 

তারা সার সংগ্রহ করে বেশি দামে বিক্রির চেষ্টা করছেন বলেও তিনি জানান। রৌমারী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক বলেন, একটি মহল পরিকল্পিতভাবে সার সংকট তৈরি করে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছে। তাদের চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে। রৌমারী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মাহবুবুল হাসান বলেন, আমি নিজেই বিভিন্ন সার ডিলার পয়েন্টে গিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। পাশাপাশি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা মাঠে কাজ করছেন। একটি সার বিক্রয়কেন্দ্রে কিছুটা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছিল। পরে প্রশাসনের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

আরও পড়ুনঃ  কুমিল্লা বিভাগ নিয়ে ধানাই-পানাই করবেন না : জামায়াত আমির