
মোঃ মনিরুজ্জামান ব্যুরো চিফ, রংপুর বিভাগ: মানুষের জন্য আবাসিক হোটেলের কথা আমরা সবাই জানি, কিন্তু এবার খোদ গরুর জন্য গড়ে তোলা হয়েছে এক অভিনব ‘আবাসিক হোটেল’। বিভাগীয় নগরী রংপুরের প্রবেশদ্বার মর্ডান মোড়ের ধর্মদাস এলাকায় ব্যক্তি উদ্যোগে নির্মিত এই হোটেলটি এখন সারা দেশে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। যেখানে মাত্র ৫০ টাকা ভাড়ায় মিলছে এক একটি গরুর রাত যাপনের নিরাপত্তা ও সুব্যবস্থা।নিরাপদ আশ্রয়ে ৪-৫শ গরু: ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেনের নিজস্ব চিন্তাভাবনা থেকে গড়ে ওঠা এই আবাসিক হোটেলে ৪০০ থেকে ৫০০টি গরু একসঙ্গে রাখার ব্যবস্থা রয়েছে। রংপুর অঞ্চলের সুস্বাদু ও দেশি জাতের গরুর ব্যাপক চাহিদা রয়েছে চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, বরিশাল, শরীয়তপুর ও কক্সবাজারসহ দেশের দক্ষিণাঞ্চলে। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকাররা গরু কিনে এখন আর নিরাপত্তা বা রাখার জায়গা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েন না।
আগে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা পাইকাররা গরু কিনে রাখার জায়গা পেতেন না। ট্রাকে করে গরু পাঠানোর আগ পর্যন্ত গরুগুলো নিয়ে অনিরাপদ অবস্থায় থাকতে হতো। অনেক সময় চুরির ভয়ও থাকতো। চট্টগ্রাম থেকে আসা ব্যাপারী মমিন সরকার জানান, “একটি ট্রাকে ৩০-৪০টি গরু লাগে। এগুলো সংগ্রহ করতে এক সপ্তাহ সময় লাগে। এখন হাটে হাটে ঘুরে গরু কিনে এই হোটেলে নিরাপদে রাখছি।” শরীয়তপুরের ব্যাপারী আব্দুল মতিনও জানালেন, এর আগে গরু ছিনতাইয়ের শিকার হলেও এখন এই হোটেলের সুবাদে তিনি নিশ্চিন্ত।
শুধু বাইরের পাইকার নয়, স্থানীয় গৃহস্থরাও এই হোটেলের সুবিধা নিচ্ছেন। অনেক সময় হাটে কাঙ্ক্ষিত দাম না পেলে গরু বাড়িতে ফিরিয়ে নেওয়া কষ্টকর হয়ে পড়ে। এমন অবস্থায় পীরগাছার আফজাল হোসেনের মতো অনেক খামারি নামমাত্র ভাড়ায় এখানে গরু রেখে পরবর্তী হাটে বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন।
খাবার ও সেবার সুব্যবস্থাহোটেলটিতে গরু রাখার পাশাপাশি খড় ও গো-খাদ্যের সুব্যবস্থা রয়েছে। মালিকরা চাইলে নিজেরাই গরুকে খাওয়াতে পারেন, অথবা হোটেলের ১৫ জন দক্ষ কর্মচারীর সহায়তা নিতে পারেন। পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন পরিবেশে সার্বক্ষণিক গরুগুলোর যত্ন নেওয়া হয়।কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনাএই উদ্যোগ কেবল সমস্যার সমাধানই দেয়নি, সৃষ্টি করেছে কর্মসংস্থানও। হোটেলের ১৫ জন কর্মচারী ছাড়াও গো-খাদ্য বিক্রির মাধ্যমে আরও ২০ জন মানুষের রুটি-রুজির ব্যবস্থা হয়েছে। হোটেলের মালিক আলমগীর হোসেন জানান, ১০ লাখ টাকা অগ্রিম দিয়ে জায়গাটি মাসিক ভাড়ায় নিয়ে তিনি এই সেবা চালু করেছেন।
এ বিষয়ে রংপুর বিভাগীয় প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আব্দুল হাই সরকার এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়ে বলেন, “এটি নিঃসন্দেহে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ। এর ফলে দূর-দূরান্ত থেকে আসা পাইকার ও স্থানীয় গৃহস্থরা একদিকে যেমন নিরাপত্তা পাচ্ছেন, অন্যদিকে অনেকের কর্মসংস্থানও সৃষ্টি হচ্ছে।”রংপুরের এই গরুর ‘আবাসিক হোটেল’ এখন গবাদি পশু বিপণন ও সংরক্ষণে এক নতুন মডেল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, সরকারি বা বেসরকারিভাবে এমন আরও কয়েকটি হোটেল নির্মাণ করা হলে এ অঞ্চলের পশুপালন খাতে বৈপ্লবিক পরিবর্তন আসবে।
প্রতিবেদকের নাম 



















