
মোঃ রমজান আলী, আটোয়ারী,(পঞ্চগড়) প্রতিনিধি
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কার্যালয় থেকে জারি করা একটি বিজ্ঞপ্তি পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলায় ফ্যামিলি কার্ড শুমারির জন্য তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার পদে ৪৫ দিনের অস্থায়ী নিয়োগ দেওয়া হবে, ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে খবরটি আপাতদৃষ্টিতে একটি সাধারণ সরকারি প্রশাসনিক নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি। কিন্তু মাঠপর্যায়ে এই ৪৫ দিনের অস্থায়ী চাকরির জন্য আবেদন জমা পড়েছে দুটি পদে তিন (০৩) হাজার। যেখানে শিক্ষাগত যোগ্যতা অনুযায়ী স্নাতক বা তদূর্ধ্ব ডিগ্রিধারী তরুণ-তরুণীরাও লাইনে দাঁড়িয়েছেন। আর এই চিত্রটি আবারও স্পষ্ট করে তুলেছে আমাদের বর্তমান সমাজ ও বেকার যুবসমাজের এক করুণ বাস্তবতাকে।
স্বপ্নের করুণ সমীকরণ
বছরের পর বছর ধরে পরিবারের শত কষ্ট সহ্য করে পড়াশোনা শেষ করা, রাত জেগে চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া, কিংবা পরিবারের মুখে হাসি ফোটানোর যে স্বপ্নগুলো বুক আগলে লালন করা হয়—তার শেষ পরিণতি যেন কেবলই টিকে থাকার এক সংগ্রাম।
একটি মাত্র চাকরির বিজ্ঞপ্তি পেলেই যেখানে প্রতিযোগিতা শুরু হয় হাজার হাজার প্রার্থীর মধ্যে, সেখানে ৪৫ দিনের এই ক্ষণস্থায়ী কাজটুকুও এখন অনেকের কাছে খড়কুটো আঁকড়ে ধরার মতো আশ্রয়।
“বছরের পর বছর লেখাপড়া করে একটা স্থায়ী সম্মানজনক কাজের আশায় বসে থাকা। কিন্তু বাস্তবতার চাপে আজ ৪৫ দিনের অস্থায়ী কাজের পেছনেও আমাদের ছুটতে হচ্ছে। পরিবারের স্বপ্ন আর নিজের পরিশ্রম—সব যেন এই অল্পদিনের নিয়োগের কাছে এসে থমকে দাঁড়ায়। এক হতাশাগ্রস্ত চাকরিপ্রত্যাশী তরুণ বেকারত্বের ভয়াবহতা পঞ্চগড়ের সীমান্তবর্তী উপজেলা আটোয়ারীতে শিক্ষার হার সন্তোষজনক হলেও স্থানীয় পর্যায়ে কর্মসংস্থানের সুযোগ অত্যন্ত সীমিত। ফলে সামান্য মেয়াদের বিজ্ঞপ্তিতেও আবেদনের ঢল নামে। মানসিক চাপ ও অনিশ্চয়তা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সম্পন্ন করার পরও যখন ৪৫ দিনের অস্থায়ী তথ্য সংগ্রহকারী বা সুপারভাইজার পদের জন্য লাইনে দাঁড়াতে হয়, তখন তা তরুণদের আত্মমর্যাদা ও মানসিক শান্তিতে চরম আঘাত হানে। পরিবারের প্রত্যাশার বোঝা গ্রামীণ সমাজে সন্তানের পড়াশোনা শেষ হলে পরিবারের প্রত্যাশা থাকে আকাশচুম্বী। সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে না পেরে অনেক তরুণ-তরুণী বাধ্য হয়ে যে কোনো কাজের সুযোগ পেলেই ঝাঁপিয়ে পড়ছে। ফ্যামিলি কার্ড শুমারির মতো প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে হয়তো সাময়িকভাবে কিছু মানুষের কাজের সুযোগ হয় এবং সরকারের সামাজিক সুরক্ষাবলয় জোরদার হয়। কিন্তু এই নিয়োগ প্রক্রিয়াটি আমাদের উচ্চশিক্ষিত যুবসমাজের দীর্ঘদিনের জমতে থাকা বেকারত্ব ও হতাশার চিত্রকেই নতুন করে উসকে দিল। শিক্ষিত তরুণদের বছরের পর বছরের শ্রম ও পরিবারের ত্যাগ শেষ পর্যন্ত যেন কয়েক দিনের অস্থায়ী নিয়োগের প্রতিযোগিতাতেই সীমাবদ্ধ না থাকে—এটাই এখন আটোয়ারীর সচেতন মহল ও তরুণ প্রজন্মের একটাই দাবি।
প্রতিবেদকের নাম 




















