Dhaka ০৬:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দীঘিনালায় তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার স্বেচ্ছাসেবীদের ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন ডিসির মানবিক ছোঁয়ায় হাসলেন শারীরিক প্রতিবন্ধী মারিয়া ভোলা জেলা ঐক্য ফোরামের দুই বছর মেয়াদি পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন ১২ বছরেও এমপিওভুক্ত হয়নি কালাই অটিস্টিক বিদ্যালয়,সংকটে শিক্ষা কার্যক্রম দেনমোহর পরিশোধের শর্তে খোলা তালাকের আপোষনামা, চুক্তি অমান্যের অভিযোগ জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি নেতাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে ফরিদপুরে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ কবিতা প্রাথমিক ট্রিটমেন্টটাও করানোর সুযোগ দেয়নি ওরা: সারজিস গ্যাস সংকটে রান্নায় বিদ্যুৎ ব্যবহারে বাড়তি খরচের বোঝা দেনমোহর পরিশোধের শর্তে খোলা তালাকের আপোষনামা, চুক্তি অমান্যের অভিযোগ

দেনমোহর পরিশোধের শর্তে খোলা তালাকের আপোষনামা, চুক্তি অমান্যের অভিযোগ

উপজেলা প্রতি নিধি মো: আরিফুল ইসলাম ভাঙ্গুড়া (পাবনা)

পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌরসভার উত্তর মেন্দা ১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি পরিবারের খোলা তালাকের আপোষ মীমাংসা পত্রকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আজ ২৯ শে জুলাই (বুধবার) আপোষনামার শর্ত অনুযায়ী দেনমোহরের অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় এবং উভয় পক্ষের ভিন্নমুখী দাবির কারণে বিষয়টি এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্ট্যাম্পে সম্পাদিত আপোষ মীমাংসা পত্র অনুযায়ী, প্রথম পক্ষ মো. ইসমাইল হোসেন (পিতা: মো. মোবারক হোসেন), গ্রাম- মাস্টারপাড়া, ডাকঘর ও থানা- ভাঙ্গুড়া, জেলা- পাবনা এবং দ্বিতীয় পক্ষ মোছা. গোলাপী খাতুন (পিতা: মো. সিরাজুল ইসলাম), গ্রাম- উত্তর মেলা, ডাকঘর ও থানা- ভাঙ্গুড়া, জেলা- পাবনার মধ্যে ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিবাহ সম্পন্ন হয়।

আরও পড়ুনঃ  পদত্যাগী রাষ্ট্রপতির অতীত কর্মকাণ্ড যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে: আইনমন্ত্রী

নথিতে উল্লেখ রয়েছে, দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় উভয় পক্ষের সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে এলাকাবাসী, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠকে দেনমোহরসহ সকল হিসাব-নিকাশ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আপোষ মীমাংসা সম্পন্ন হয়।

আপোষনামা অনুযায়ী, কাবিনের পরিমাণ ছিল ৫ লক্ষ টাকা। তবে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ৩ লক্ষ টাকা পরিশোধের শর্তে খোলা তালাকে সম্মত হন দ্বিতীয় পক্ষ। এর মধ্যে ৩০ হাজার টাকা তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করা হয় এবং অবশিষ্ট ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে পরিশোধ করার কথা উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে সম্পূর্ণ অর্থ বুঝে পাওয়ার পর দ্বিতীয় পক্ষ ভবিষ্যতে দেনমোহর বা এ-সংক্রান্ত কোনো দেওয়ানি কিংবা ফৌজদারি দাবি করবেন না বলেও আপোষনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ফরিদপুরের বোয়ালমারীতে ইউনিয়ন ভূমি উপসহকারী কর্মকর্তা সাময়িক বরখাস্ত

এছাড়া আপোষনামায় বলা হয়েছে, কোনো পক্ষ চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে অপর পক্ষ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন এবং শর্ত ভঙ্গের ক্ষেত্রে আপোষনামার কার্যকারিতা নিয়ে আইনি প্রশ্ন সৃষ্টি হতে পারে।

এ বিষয়ে মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, “আমাকে ওই সময় প্রান নাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তাই আমি স্ত্রীকে ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছি। আমি এখন আমার স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করতে চাই।”

অন্যদিকে মোছা. গোলাপী খাতুন বলেন, “আমি আমার স্বামীর সঙ্গে আর সংসার করবো না। তিনি আমাকে জমির প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ে করেছিলেন। আমি আগের সংসার থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে এসেছিলাম, সেগুলোও আমাকে ফেরত দেননি। এছাড়া আমাকে ৫ শতাংশ জমি দেওয়ার কথা বলেছিলেন, সেটিও আজ পর্যন্ত দেননি। তাই আমি তার সঙ্গে আর সংসার করতে চাই না।

আরও পড়ুনঃ  বগুড়া বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও আধুনিকায়নে মতবিনিময় সভা, আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও বিমানঘাঁটি স্থাপনের পরিকল্পনা

সালিশ বৈঠকে উপস্থিত সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন— ইমরান হোসেন (প্রথম পক্ষের ভাই), ভাঙ্গুড়া পৌর কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. পান্না হোসেন, পৌর যুবদল নেতা মো. আলামিন এবং মোছা. মিতা খাতুন (দ্বিতীয় পক্ষের খালা)।

বর্তমানে আপোষনামার শর্ত বাস্তবায়ন এবং উভয় পক্ষের দাবি-দাওয়া নিয়ে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের রায় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। তাই বিষয়টি এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে উভয় পক্ষের আত্মীয়-স্বজনরা।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

দীঘিনালায় তথ্য সংগ্রহকারী ও সুপারভাইজার স্বেচ্ছাসেবীদের ব্যবহারিক পরীক্ষা সম্পন্ন

দেনমোহর পরিশোধের শর্তে খোলা তালাকের আপোষনামা, চুক্তি অমান্যের অভিযোগ

আপডেটের সময়: ০৫:৫৯:১০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

উপজেলা প্রতি নিধি মো: আরিফুল ইসলাম ভাঙ্গুড়া (পাবনা)

পাবনার ভাঙ্গুড়া পৌরসভার উত্তর মেন্দা ১ নম্বর ওয়ার্ডের একটি পরিবারের খোলা তালাকের আপোষ মীমাংসা পত্রকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। আজ ২৯ শে জুলাই (বুধবার) আপোষনামার শর্ত অনুযায়ী দেনমোহরের অর্থ পরিশোধ না হওয়ায় এবং উভয় পক্ষের ভিন্নমুখী দাবির কারণে বিষয়টি এলাকায় আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

স্ট্যাম্পে সম্পাদিত আপোষ মীমাংসা পত্র অনুযায়ী, প্রথম পক্ষ মো. ইসমাইল হোসেন (পিতা: মো. মোবারক হোসেন), গ্রাম- মাস্টারপাড়া, ডাকঘর ও থানা- ভাঙ্গুড়া, জেলা- পাবনা এবং দ্বিতীয় পক্ষ মোছা. গোলাপী খাতুন (পিতা: মো. সিরাজুল ইসলাম), গ্রাম- উত্তর মেলা, ডাকঘর ও থানা- ভাঙ্গুড়া, জেলা- পাবনার মধ্যে ৩০ জুন ২০২৫ তারিখে ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী বিবাহ সম্পন্ন হয়।

আরও পড়ুনঃ  সাহেব ফকিরের কবর জিয়ারত করলেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ

নথিতে উল্লেখ রয়েছে, দাম্পত্য জীবনে বনিবনা না হওয়ায় উভয় পক্ষের সম্মতিতে বিবাহবিচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। গত ২২ জুলাই ২০২৬ তারিখে এলাকাবাসী, গণ্যমান্য ব্যক্তি ও আত্মীয়-স্বজনের উপস্থিতিতে একটি সালিশ বৈঠকে দেনমোহরসহ সকল হিসাব-নিকাশ নিষ্পত্তির লক্ষ্যে আপোষ মীমাংসা সম্পন্ন হয়।

আপোষনামা অনুযায়ী, কাবিনের পরিমাণ ছিল ৫ লক্ষ টাকা। তবে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে ৩ লক্ষ টাকা পরিশোধের শর্তে খোলা তালাকে সম্মত হন দ্বিতীয় পক্ষ। এর মধ্যে ৩০ হাজার টাকা তাৎক্ষণিকভাবে পরিশোধ করা হয় এবং অবশিষ্ট ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা ২৯ জুলাই ২০২৬ তারিখে পরিশোধ করার কথা উল্লেখ রয়েছে। একই সঙ্গে সম্পূর্ণ অর্থ বুঝে পাওয়ার পর দ্বিতীয় পক্ষ ভবিষ্যতে দেনমোহর বা এ-সংক্রান্ত কোনো দেওয়ানি কিংবা ফৌজদারি দাবি করবেন না বলেও আপোষনামায় উল্লেখ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  সাঁতার শিখতে গিয়ে পুকুরে ডুবে ১১ বছরের শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু

এছাড়া আপোষনামায় বলা হয়েছে, কোনো পক্ষ চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করলে অপর পক্ষ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারবেন এবং শর্ত ভঙ্গের ক্ষেত্রে আপোষনামার কার্যকারিতা নিয়ে আইনি প্রশ্ন সৃষ্টি হতে পারে।

এ বিষয়ে মো. ইসমাইল হোসেন বলেন, “আমাকে ওই সময় প্রান নাশের হুমকি দেওয়া হয়েছিল। তাই আমি স্ত্রীকে ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছি। আমি এখন আমার স্ত্রীকে নিয়ে সংসার করতে চাই।”

অন্যদিকে মোছা. গোলাপী খাতুন বলেন, “আমি আমার স্বামীর সঙ্গে আর সংসার করবো না। তিনি আমাকে জমির প্রলোভন দেখিয়ে বিয়ে করেছিলেন। আমি আগের সংসার থেকে টাকা ও স্বর্ণালংকার নিয়ে এসেছিলাম, সেগুলোও আমাকে ফেরত দেননি। এছাড়া আমাকে ৫ শতাংশ জমি দেওয়ার কথা বলেছিলেন, সেটিও আজ পর্যন্ত দেননি। তাই আমি তার সঙ্গে আর সংসার করতে চাই না।

আরও পড়ুনঃ  মোংলায় বিশ্ব বাঘ দিবস উদযাপন

সালিশ বৈঠকে উপস্থিত সাক্ষীদের মধ্যে ছিলেন— ইমরান হোসেন (প্রথম পক্ষের ভাই), ভাঙ্গুড়া পৌর কৃষক দলের সাধারণ সম্পাদক মো. পান্না হোসেন, পৌর যুবদল নেতা মো. আলামিন এবং মোছা. মিতা খাতুন (দ্বিতীয় পক্ষের খালা)।

বর্তমানে আপোষনামার শর্ত বাস্তবায়ন এবং উভয় পক্ষের দাবি-দাওয়া নিয়ে বিষয়টি স্থানীয়ভাবে আলোচনার বিষয় হয়ে উঠেছে। অভিযোগগুলোর বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের রায় বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি। তাই বিষয়টি এখনও নিষ্পত্তির অপেক্ষায় রয়েছে উভয় পক্ষের আত্মীয়-স্বজনরা।