
কায়সার আশ্রাফীঃ চট্টগ্রাম মহানগর প্রতিনিধি
স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও জনআস্থা বৃদ্ধির স্বার্থে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তথ্য ও অভিযোগ বক্স স্থাপন করা হয়েছে। বুধবার (১০ জুন) সকাল ১১ টার সময় ‘সিএমএম, চট্টগ্রাম সমীপে’ নামের এ ব্যবস্থাটি ৮ দফা প্রশাসনিক আদেশ জারির মাধ্যমে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট এ জি এম মনিরুল হাসান সরকার প্রবর্তন করেছেন। ‘জাস্টিস অব দি পিস’ হিসেবে চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক গতকালের ঘোষিত এ আট দফা প্রশাসনিক আদেশে বলা হয়েছে– চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্টেটের এজলাস কক্ষের বহিঃদেয়ালে সর্বসাধারণের সহজে দৃষ্টিগোচর এবং প্রবেশযোগ্য স্থানে ‘সিএমএম, চট্টগ্রাম সমীপে’ নামের একটি সুরক্ষিত ও সিলগালাকৃত তথ্য ও অভিযোগ বক্স স্থাপন করা হয়েছে। এ বক্সে জমা দেওয়ার পাশাপাশি তথ্য–উপাত্ত ও অপরাধের সংবাদ বা অভিযোগ চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট চট্টগ্রাম এর নির্ধারিত ইমেইল ঠিকানা cmmchattagram.shomipe@gmail.com বরাবরও পাঠানো যাবে। উল্লিখিত অভিযোগ বক্স ও নির্ধারিত ইমেইল উভয়ই এই আদেশের উদ্দেশ্যে তথ্য ও অভিযোগ গ্রহণের অনুমোদিত মাধ্যম হিসেবে গণ্য হবে। উক্ত অভিযোগ বক্সটি সরাসরি চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট, চট্টগ্রামের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে ও নিয়ন্ত্রণে পরিচালিত হবে বলেও আদেশে বলা হয়।
তথ্য ও অভিযোগ দাখিলের আওতা বিষয়ে আদেশে বলা হয়, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকার যেকোনো সেবাগ্রহীতা পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট বা অন্য কোনো সরকারি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে ঘুষ, অবৈধ আর্থিক সুবিধা বা অনৈতিক দাবি, ক্ষমতার অপব্যবহার, দুর্নীতি, অনিয়ম বা হয়রানিমূলক আচরণ, আদালত, বিচারক, ম্যাজিস্ট্রেট বা অত্র ম্যাজিস্ট্রেসির কোন কর্মকর্তা–কর্মচারীর নাম, পদ বা পরিচয় ব্যবহার করে প্রতারণা, প্রভাব বিস্তার বা অবৈধ সুবিধা গ্রহণের চেষ্টা, আদালতের নকলখানা থেকে সার্টিফিকেট কপি প্রাপ্তি, এফিডেভিট, জিআরও শাখা বা বিভিন্ন বিভাগের ফাইল এন্ট্রি এবং সংশ্লিষ্ট দপ্তরে আদালতের পরোয়ানা প্রেরণ বা প্রত্যাহারের ক্ষেত্রে কৃত্রিম বিলম্ব বা অনৈতিক দাবি, জামিননামা দাখিল, জামিনদার যাচাই এবং কারাগারে আসামি মুক্তির রিলিজ অর্ডার প্রেরণের প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে কোনরুপ অনৈতিক লেনদেন বা হয়রানি অথবা আদালতের কার্যক্রম বা বিচারিক ফলাফল প্রভাবিত করার নামে কোন অনৈতিক ও বেআইনী দাবি, মালখানা থেকে আদালতের আদেশমূলে জব্দকৃত আলামত বা যানবহাহন জিম্মায় প্রদানের ক্ষেত্রে কোন প্রকার বেআইনী ও অনৈতিক দাবি বা কালক্ষেপণ, বিচার প্রশাসন, পরিবেশ, জননিরাপত্তা, জনস্বার্থ বা নাগারিক সেবার উপর বিরুপ প্রভাব ফেলে এমন কোনো প্রাতিষ্ঠানিক বেআইনি বা অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও সরকারি সেবা গ্রহণে বৈষম্য, অযৌক্তিক হয়রানি, অনৈতিক চাপ প্রয়োগ বা নাগরিক অধিকার ব্যহতকারী কর্মকাণ্ড বিষয়ে লিখিত তথ্য, অভিযোগ, উপাত্ত বা প্রমাণ উক্ত বক্সে প্রদান করা যাবে।
গোপনীয়তা ও নিরাপত্তা বিষয়ে বলা হয়, তথ্য প্রদানকারী বা অভিযোগকারীর জানমালের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার স্বার্থে প্রযোজ্য ক্ষেত্রে তার পরিচয় ও প্রদত্ত তথ্যের গোপনীয়তা প্রচলিত আইন এবং বাস্তবসম্মত প্রশাসনিক সীমার মধ্যে কঠোরভাবে রক্ষা করা হবে। তথ্য ও অভিযোগ বক্স স্থাপন ব্যবস্থার আইনগত অবস্থান বিষয়ে বলা হয়েছে– এই ব্যবস্থা কোনো অবস্থাতেই ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮–এর ধারা ১৫৪ অনুসারে থানায় এজাহার দায়ের, আদালতে নালিশি মামলা দায়ের, অথবা অন্য কোনো বিশেষ আইন দ্বারা নির্ধারিত নিয়মিত অভিযোগ দায়েরের পদ্ধতির বিকল্প, প্রতিস্থাপক বা সমপর্যায়ের আইনগত ব্যবস্থা হিসেবে গণ্য হবে না। প্রাপ্ত তথ্যের ব্যবহার ও আইনগত পরিণতি বিষয়ে বলা হয়– অভিযোগ বক্সে প্রাপ্ত তথ্যের প্রকৃতি, গুরুত্ব, বিশ্বাসযোগ্যতা, প্রাসঙ্গিকতা ও আইনগত গ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় প্রয়োজনবোধে চীফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক বা দাপ্তরিক কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রেরণ, অভ্যন্তরীণ বা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রাথমিক প্রশাসনিক তথ্য যাচাই বা অনুসন্ধানের উদ্যোগ গ্রহণ, পুলিশ প্রশাসন, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিভাগ বা অন্য কোনো উপযুক্ত আইন প্রয়োগকারী কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় আইনানু ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অবহিতকরণ অথবা প্রযোজ্য ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন অনুযায়ী পরবর্তী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ও আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারবেন।
বিচারিক স্বাধীনতা ও মিথ্যা অভিযোগের দায় বিষয়ে বলা হয়েছে– অভিযোগ বক্সে প্রাপ্ত কোনো তথ্য বা অপরাধের সংবাদ আইনগতভাবে নির্ভরযোগ্য ও বিশ্বাসযোগ্য বলে প্রতীয়মান হলে এবং প্রচলিত আইনের শর্ত ও উপাদানসমূহ পূরণ করলে, সংশ্লিষ্ট মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক ফৌজদারি কার্যবিধি, ১৮৯৮–এর ধারা ১৯০(১) (সি) সহ অন্যান্য প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের বিষয়টি সম্পূর্ণ স্বাধীন বিচারিক বিবেচনার আওতাভুক্ত থাকবে। কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ব্যক্তিগত শত্রুতা, বিদ্বেষবশত, অসৎ উদ্দেশ্যে বা জ্ঞাতসারে মিথ্যা, ভিত্তিহীন বা উদ্দেশ্য প্রণোদিত অভিযোগ প্রদান করা হলে তা আইনগত দায় সৃষ্টি করবে এবং উক্ত রূপ মিথ্যা তথ্য প্রদানকারীর বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা যাবে। অভিযোগ বক্সের আওতাবহির্ভূত বিষয়ে বলা হয়েছে– এই ব্যবস্থার মূল উদ্দেশ্য যেহেতু কেবল প্রাতিষ্ঠানিক দুর্নীতি, অনিয়ম ও হয়রানি প্রতিরোধ, সেহেতু কোনো ব্যক্তিগত দেওয়ানি বিরোধ, যেমন: জমিজমা, স্বত্ব/মালিকানা, দখল–বেদখল, উত্তরাধিকার, চুক্তিভিত্তিক দায়বদ্ধতা, দেনা–পাওনা, পারিবারিক বা বৈবাহিক বিরোধ, কোনো ব্যক্তিগত সাধারণ ফৌজদারি বিরোধ বা অপরাধ, যেকোনো বিচারাধীন মামলা, আপিল, রিভিশন, রেফারেন্স বা অন্য কোনো চলমান বিচারিক কার্যক্রমের মেরিট বা ফলাফলকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে প্রদত্ত আবেদন, কোনো উপযুক্ত আদালত বা ট্রাইব্যুনালের বিচারিক আদেশ, রায়, ডিক্রি বা সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে কোনো প্রকার প্রতিকার বা পুনর্বিবেচনার প্রার্থনা, ব্যক্তিগত আইনি পরামর্শ, আইনি মতামত বা সরকারি খরচে আইনগত সহায়তা প্রাপ্তির আবেদন ও সুনির্দিষ্ট তথ্য–প্রমাণবিহীন সম্পূর্ণ অস্পষ্ট, কাল্পনিক ও বেনামি বা কেবলমাত্র ব্যক্তিগত আক্রোশপ্রসূত অভিযোগ এই ব্যবস্থার আওতাভুক্ত হবে না।
সর্বশেষ এখতিয়ারগত সুরক্ষাকবচ দফায় বলা হয়েছে– এই আদেশের কোনো বিধান বা শব্দসমষ্টি এমনভাবে ব্যাখ্যা বা প্রয়োগ করা যাবে না, যেটির ফলে কোনো উচ্চ আদালত, নিম্ন আদালত, ট্রাইব্যুনাল, তদন্ত সংস্থা, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা অন্য কোনো সংবিধিবদ্ধ কর্তৃপক্ষের আইন দ্বারা নির্ধারিত অন্তর্নিহিত ক্ষমতা, এখতিয়ার বা কার্যাবলী কোনোভাবেই সীমিত, খর্ব, ক্ষুণ্ন বা প্রতিস্থাপিত হয়। এছাড়াও এই আদেশ কোন আদালত, ট্রাইব্যুনাল বা আইনানুগ কর্তৃপক্ষের বিচারিক, অনুসন্ধানী বা তদন্তমূলক ক্ষমতার বিকল্প বা প্রতিস্থাপক বলেও গণ্য হবে না। চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেসির প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী দৈনিক আজাদীকে বলেন, ৮ দফা আদেশসহ ‘সিএমএম, চট্টগ্রাম সমীপে’ নামের এ ব্যবস্থাটি অবিলম্বে কার্যকর হবে।
প্রতিবেদকের নাম 



















