
মোহাম্মদ ইয়াসিন,সাভার: সাভার সহ আশেপাশের অঞ্চল গুলোতে শ্রমিক অসন্তোষকে পুঁজি করে শিল্পাঞ্চলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের নেতাকর্মীরা এমনটাই আজ বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) জানিয়েছেন ঢাকা জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন। ঢাকা জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) শামীমা পারভীন বলেছেন, সাভার-আশুলিয়ায় সাংবাদিক, শ্রমিক নেতা, রাজনৈতিক নেতা ও সুশীল সমাজের পরিচয় ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তির আশ্রয়ে সন্ত্রাসীরা অবস্থান করছে। তাঁর এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বাস্তবতা হলো, অপরাধীরা কখনো একা শক্তিশালী হয়ে উঠতে পারে না। তাদের পেছনে থাকে কোনো না কোনো প্রভাবশালী মহলের প্রশ্রয়, আশ্রয় কিংবা রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিচয়ের আড়াল। সাংবাদিকতা, শ্রমিক নেতৃত্ব, রাজনৈতিক পরিচয় কিংবা সুশীল সমাজের মর্যাদা-কোনোটিই অপরাধীদের রক্ষাকবচ হতে পারে না। এসব পরিচয়ের আড়ালে কেউ যদি সন্ত্রাস, নৈরাজ্য, চাঁদাবাজি, হামলা কিংবা জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার সঙ্গে জড়িত থাকে, তাহলে তার বিরুদ্ধেও নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
শামীমা পারভীন বলেন, শ্রমিকদের আন্দোলনকে ঘিরে দুষ্কৃতিকারীরা অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। তাঁদের মধ্যে কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের লোকজনের সংখ্যাই বেশি। হেমায়েতপুরে শুরুতে তাঁরাই পোশাক কারখানায় হামলা চালান। এতে শ্রমিকেরা আতঙ্কিত হয়ে কারখানা থেকে বের হয়ে আসেন। প্রকৃত শ্রমিকেরা আজকের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না। পুলিশ সুপার আরও বলেন, হেমায়েতপুর এলাকা থেকে একটি ককটেলসহ একজনকে আটক করা হয়েছে। তিনি ককটেল বিস্ফোরণ করেছিলেন। এ ছাড়া পুলিশের গাড়িতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় আরও একজনকে আটক করা হয়েছে। এছাড়া সড়ক অবরোধ, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মাধ্যমে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করা হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশকে কাঁদানে গ্যাস, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করতে হয়েছে।
এদিকে শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, সাভার ও আশুলিয়ায় উদ্ভূত পরিস্থিতিতে দুই শতাধিক পোশাক কারখানার কর্তৃপক্ষ ছুটি ঘোষণা করেছে। শ্রমিকদের নিরাপত্তা এবং কারখানার সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আবার ও আশুলিয়ায় শ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির দাবিকে কেন্দ্র করে কয়েক দিন ধরে অত্র শিল্পাঞ্চলে উত্তেজনা চলছিল। বুধবার সেই উত্তেজনা আরও ছড়িয়ে পড়ে সাভারের হেমায়েতপুর ও উলাইল এলাকায়। বিভিন্ন স্থানে শ্রমিকদের বিক্ষোভ, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ, সড়ক অবরোধ ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় শিল্পাঞ্চলের স্বাভাবিক পরিস্থিতি ব্যাহত হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে একের পর এক কারখানা ছুটি ঘোষণা করায় বিপাকে পড়েন শ্রমিক ও শিল্পসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
প্রতিবেদকের নাম 



















