
স্টাফ রিপোর্টারঃ শফিকুল ইসলাম (জামালপুর)
জামালপুরের মাদারগঞ্জে বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর নিখোঁজের তিন দিন পর মরিয়ম নামে সাত বছর বয়সী এক শিশু শিক্ষার্থীর মাটিচাপা মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শনিবার দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার চরলোটাবর এলাকায় জামিনুরের বসতঘর থেকে মাটির নিচে চাপা দেওয়া অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নিহত মরিয়ম চরলোটাবর এলাকার বাহাদুরের মেয়ে এবং সিধুলী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, জামিনুর ওই এলাকার খায়েশের ছোট ছেলে অটু পালের ছেলে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ বৃহস্পতিবার বিদ্যালয়ে যাওয়ার পর থেকে মরিয়ম নিখোঁজ ছিল। পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরে বিষয়টি নিয়ে এলাকায় উদ্বেগ সৃষ্টি হয়।
এরই মধ্যে ১৩ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে বিদ্যালয়ের পাশের জামিনুরের বসতঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হওয়ার বিষয়টি নজরে আসে। পরে খবর পেয়ে শ্যামগঞ্জ কালিবাড়ী তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে ঘরের ভেতর একটি বাক্সের নিচে মাটি খুঁড়ে শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ নিহত শিশু শিক্ষার্থী মরিয়মের লাশ পোস্ট মর্টেমের জন্য এবং জামিনুরকে আটক করে মাদারগঞ্জ থানায় নিয়ে যায়। তারপর আজ সকালে জামিনুরকে আদালতে প্রেরণ করা হয়। প্রাথমিকভাবে পুলিশ ধারণা করছে, শিশুটিকে হত্যার পর মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়ে থাকতে পারে। তবে হত্যার কারণ ও ঘটনার সঙ্গে কারা জড়িত, তা তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।
মাদারগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় বলেন, “জামিনুর নিজেই শ্যামগঞ্জ কালিবাড়ী তদন্ত কেন্দ্রের এসআই গৌতমকে জানান, তাঁর ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হচ্ছে। পরে তদন্ত কেন্দ্রের পুলিশ সেখানে গিয়ে ঘরের ভেতর বাক্সের নিচে মাটি খুঁড়ে মরদেহ উদ্ধার করে।”
তিনি আরও জানান, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শিশুটিকে হত্যা করে মরদেহ মাটিচাপা দিয়ে রাখা হয়েছিল। ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
শিশু মরিয়মের এমন মর্মান্তিক মৃত্যুর ঘটনায় পরিবার ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকের পাশাপাশি এলাকায় আতঙ্ক ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটন এবং জড়িতদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
প্রতিবেদকের নাম 



















