Dhaka ০৫:০২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সিরাজগঞ্জের আদালতে মুফতি আমির হামজা, মানহানি মামলায় পেলেন স্থায়ী জামিন। ভাঙ্গায় বাস–ট্রাক মুখোমুখি সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত, ইন্টারপোলের সহায়তায় দুবাইয়ে গ্রেফতার সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদ সরকারি রাজেন্দ্র কলেজে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত বাঁশখালী পৌরসভায় গভীর রাতে সাংবাদিকের পৈত্রিক জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ফরিদপুরে সনাকের মানববন্ধন ফরিদপুরে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত আনোয়ারায় ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশু হাসপাতালে দখল-দূষণে অস্তিত্ব সংকটে দুইশো বছরের পুরোনো চাম্বলের সিমাই খাল কালের গর্ভে হারিয়ে যেতে বসেছে কবি কাজী কাদের নেওয়াজের স্মৃতি বিজড়িত বাড়িটি।

বাঁশখালী পৌরসভায় গভীর রাতে সাংবাদিকের পৈত্রিক জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ

তৌহিদ-উল বারী, বাঁশখালী (উপজেলা প্রতিনিধি চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের বাঁশখালী পৌরসভা এলাকায় গভীর রাতে ভাড়াটে লোকজন এনে এক সাংবাদিকের মালিকানাধীন পৈত্রিক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার গভীর রাতে বাঁশখালী পৌরসভা ভবনের দক্ষিণ পাশে আনোয়ারা-বাঁশখালী পিএবি প্রধান সড়কসংলগ্ন একটি জমিতে টিনের বেড়া নির্মাণ করে দখলের চেষ্টা চালানো হয়। এ ঘটনায় বাঁশখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাহার উল্লাহপাড়া এলাকার মৃত ফয়জুল্লাহর ছেলে শহিদুল্লাহর বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জমিদার মরহুম শেখ ওয়াজেদ আলী ১৯৫১ সালে ১০১৭ নম্বর দলিলমূলে আরএস ৪৯২২ ও বিএস ৭৭৮৪ দাগভুক্ত ১০ শতক জমি জলদী মাখজানুল উলুম বাইঙ্গাপাড়া বড় মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পীরে কামেল মরহুম মাওলানা মোহাম্মদ আলী (রহ.)-এর কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে জমিটি তাঁর উত্তরাধিকারীদের দখলে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর আদেশ এবং পৌরসভার অনুমোদন নিয়ে জমির দক্ষিণ পাশে দুটি দোকানও নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  আনোয়ারায় ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশু হাসপাতালে

অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার গভীর রাতে শহিদুল্লাহ নিজেকে জমির দাবিদার হিসেবে পরিচয় দিয়ে কয়েকজন লোক নিয়ে সেখানে টিনের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করেন। এ সময় জমির মালিকপক্ষ বাধা দিলে তাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামে চার বছরের শিশু ধর্ষণের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও বাঁশখালী প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব মু. মিজান বিন তাহের বলেন, জমিটি আমার দাদা মরহুম মাওলানা মোহাম্মদ আলী ১৯৫১ সালে ক্রয় করেন। দীর্ঘদিন ধরে আমরা জমিটি ভোগদখলে রয়েছি এবং সেখানে নির্মিত দোকান ভাড়া দিয়ে আসছি। জমির পক্ষে আদালতের রায় ও পৌরসভার অনুমোদনও রয়েছে। এরপরও গভীর রাতে লোকজন এনে জমি দখলের চেষ্টা চালানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আপাতত সেখানে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তথ্য ও অভিযোগ বক্স স্থাপন

বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন বলেন, গভীর রাতে জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযুক্ত শহিদুল্লাহর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ থাকায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে যে কোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সিরাজগঞ্জের আদালতে মুফতি আমির হামজা, মানহানি মামলায় পেলেন স্থায়ী জামিন।

বাঁশখালী পৌরসভায় গভীর রাতে সাংবাদিকের পৈত্রিক জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ

আপডেটের সময়: ০১:৩২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬

তৌহিদ-উল বারী, বাঁশখালী (উপজেলা প্রতিনিধি চট্টগ্রাম)

চট্টগ্রামের বাঁশখালী পৌরসভা এলাকায় গভীর রাতে ভাড়াটে লোকজন এনে এক সাংবাদিকের মালিকানাধীন পৈত্রিক জমি দখলের চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শনিবার গভীর রাতে বাঁশখালী পৌরসভা ভবনের দক্ষিণ পাশে আনোয়ারা-বাঁশখালী পিএবি প্রধান সড়কসংলগ্ন একটি জমিতে টিনের বেড়া নির্মাণ করে দখলের চেষ্টা চালানো হয়। এ ঘটনায় বাঁশখালী পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাহার উল্লাহপাড়া এলাকার মৃত ফয়জুল্লাহর ছেলে শহিদুল্লাহর বিরুদ্ধে উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, দক্ষিণ চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী জমিদার মরহুম শেখ ওয়াজেদ আলী ১৯৫১ সালে ১০১৭ নম্বর দলিলমূলে আরএস ৪৯২২ ও বিএস ৭৭৮৪ দাগভুক্ত ১০ শতক জমি জলদী মাখজানুল উলুম বাইঙ্গাপাড়া বড় মাদরাসার প্রতিষ্ঠাতা পীরে কামেল মরহুম মাওলানা মোহাম্মদ আলী (রহ.)-এর কাছে বিক্রি করেন। পরবর্তীতে জমিটি তাঁর উত্তরাধিকারীদের দখলে রয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে। সহকারী কমিশনার (ভূমি)-এর আদেশ এবং পৌরসভার অনুমোদন নিয়ে জমির দক্ষিণ পাশে দুটি দোকানও নির্মাণ করা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জনদুর্ভোগ নিরসন ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে ৩৯ নং ওয়ার্ডে জামায়াতে মিছিল ও সমাবেশ

অভিযোগ অনুযায়ী, শনিবার গভীর রাতে শহিদুল্লাহ নিজেকে জমির দাবিদার হিসেবে পরিচয় দিয়ে কয়েকজন লোক নিয়ে সেখানে টিনের বেড়া নির্মাণের চেষ্টা করেন। এ সময় জমির মালিকপক্ষ বাধা দিলে তাদের বিভিন্ন ধরনের হুমকি দেওয়া হয় বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামে চার বছরের শিশু ধর্ষণের মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু

ভুক্তভোগী সাংবাদিক ও বাঁশখালী প্রেস ক্লাবের সদস্য সচিব মু. মিজান বিন তাহের বলেন, জমিটি আমার দাদা মরহুম মাওলানা মোহাম্মদ আলী ১৯৫১ সালে ক্রয় করেন। দীর্ঘদিন ধরে আমরা জমিটি ভোগদখলে রয়েছি এবং সেখানে নির্মিত দোকান ভাড়া দিয়ে আসছি। জমির পক্ষে আদালতের রায় ও পৌরসভার অনুমোদনও রয়েছে। এরপরও গভীর রাতে লোকজন এনে জমি দখলের চেষ্টা চালানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বাঁশখালী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. রবিউল হক বলেন, জমি দখলচেষ্টার অভিযোগ পাওয়ার পর ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় আপাতত সেখানে সব ধরনের কার্যক্রম বন্ধ রাখার জন্য মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  আনোয়ারায় ঘরে ঢুকে মা-মেয়েকে কুপিয়ে হত্যা, আশঙ্কাজনক অবস্থায় শিশু হাসপাতালে

বাঁশখালী উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মো. ওমর সানী আকন বলেন, গভীর রাতে জমি দখলের অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র পর্যালোচনা শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

অভিযুক্ত শহিদুল্লাহর বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার ফোন বন্ধ থাকায় কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে ঘটনাকে কেন্দ্র করে উভয় পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ না হলে যে কোনো সময় অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে।