Dhaka ০৪:৪৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ২ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বান্দরবানে উন্নয়ন ও সমন্বয় জোরদারে বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত দ্রুতই প্রাথমিকে ৬০ হাজার শিক্ষক নিয়োগ: শিক্ষামন্ত্রী মার্কিন নৌ-অবরোধ না তুললে লোহিত সাগরের বাণিজ্য পথ বন্ধের হুমকি ইরানের উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ২০০ কোটি ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী এসএসসি ও এসএসসি ভোকেশনাল পরীক্ষা নকলমুক্ত পরিবেশে সম্পন্ন করতে হোসেনপুরে মতবিনিময় সভা ডলুপাড়ায় সাংগ্রাইয়ের জলকেলি: মন্ত্রী-এমপির উপস্থিতিতে সম্প্রীতির মহোৎসব লাল মুক্তিবার্তা ও ভারতীয় তালিকা থেকে ৬৪৭৬ ‘ভুয়া’ মুক্তিযোদ্ধা বাদ ধামইরহাটে স্ত্রীর বিরুদ্ধে স্বামীকে হত্যাচেষ্টার অভিযোগ এলজিইডি প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ: নীরব দপ্তর, ক্ষোভে ফুঁসছে স্থানীয়রা প্রাথমিক বৃত্তি পরীক্ষা-২০২৫

সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী আইন পাস, নিষিদ্ধই থাকছে আ.লীগের কার্যক্রম

  • অনলাইন ডেস্ক
  • আপডেটের সময়: ০৬:৪৩:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ৪৪ সময় দেখুন

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার জন্য ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের বিল (সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬) জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এর ফলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকছে।

২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সত্তার বা সংগঠন নিষিদ্ধ করার বিধান ছিল। অধ্যদেশের সংশোধনীতে সত্তা বা সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা হয়। সত্তা বা সংগঠনের কার্ক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান রেখে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকার ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে ২০২৫ সালের ১১ মে। পরদিন ১২ মে নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে অন্তর্বর্তী সরকার। এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তী সরকার।

অধ্যাদেশে কোনও সত্তার কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা হয়েছিল এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ সত্তার মিছিল, মিটিং, প্রকাশনাসহ যেসব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা যাবে তার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  ট্রাম্পের নৌ-অবরোধে নেই ব্রিটেন দূরত্ব মিত্ররাও

‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিলের ৩ ধারায় বলা হয়, ‘ওই সত্তা কর্তৃক বা তার পক্ষে বা সমর্থনে যেতে কানও প্রেস বিবৃতির প্রকাশনা বা মূদ্রণ কিংবা গণমাধ্যম, অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্যকোনও মাধ্যমে যেকোনও ধরনের প্রচারণা অথবা মিছিল, সভা-সমাবেশ বা সংবাদ সম্মেলন আয়োজন বা জনসম্মুখে বক্তৃতা নেওয়া নিষিদ্ধ করবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, কিছু সন্ত্রাসী কার্য প্রতিরোধ এবং তাদের কার্যকর শাস্তির বিধানসহ আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান প্রণয়ন করার নিমিত্ত ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯’ প্রণয়ন করা হয়। ওই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, কোনও ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কার্যের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে যুক্তিসঙ্গত কারণের ভিত্তিতে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ওই ব্যক্তিকে তফসিলে তালিকাভুক্ত করতে পারে বা সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও তফসিলে তালিকাভুক্ত করতে পারে। তবে বর্তমান আইনে কোনও সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণের বিষয়ে কোনও বিধান নেই। ওই বিষয়টি স্পষ্ট করাসহ বিধান সংযোজন আবশ্যক হেতু ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯’ কে সময়োপযোগী করে ওই আইনের অধিকতর সংশোধন সমীচীন ও প্রয়োজন প্রতীয়মান হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এ আইনটির ১৮ ও ২০ ধারা সংশোধনপূর্বক ১১/০৫/২০২৫ তারিখে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

আরও পড়ুনঃ  হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ২৮ দিনে ১৬৯ শিশুর মৃত্যু

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ সংসদে বিলটি উত্থাপনের পর বিলটি পাসের সময় বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্য দিতে চাইলে তা বিধিসম্মত না হওয়ায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অনুমতি দেননি। তবে এই সময় বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি শিট আমরা তিন-চার মিনিট আগে হাতে পেয়েছি। এখনও পড়তে পারিনি। যেহেতু আইনটা অবশ‌্যই একটি সেনসেটিভ আইন। আমরা কি অনুরোধ করতে পারি, বিলটি পাশের আগে সময় রেখে একটু সুযোগ দেওয়া হোক।

জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রুলিং দিয়ে বলেন, বিলের এই পর্যায়ে এসে আপত্তি করার সুযোগ নেই। বিধি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে আপত্তি বা প্রস্তাব দেওয়ার প্রয়োজন ছিল, যা দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  কৃষিভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলা হবে: তারেক রহমান

এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি পাসের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, এই বিলটা হলো, একটি গণহত‌্যাকারি সন্ত্রাসী সংগঠনের নিষিদ্ধ করা সংক্রান্ত একটি এমেনমেন্ট (সংশোধনী)। আগের যে আইন ছিল, সন্ত্রাসবিরোধী আইন সেটার সংশোধনের জন‌্য। বিরোধী দলীয় নেতার স্মরণে থাকার কথা যে তারা এবং এনসিপির বন্ধুরা মিলে আন্দোলনের মাধ্যমে একটি জনমত তৈরি করেছিলেন। সেই জনমতের পরিপ্রেক্ষিতেই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই আইনের বলেই একটি রাজনৈতিক দলের (আওয়ামী লীগ) রেজিস্ট্রেশন বর্তমানে স্থগিত আছে। এমনকি আইসিটি অ্যাক্টেও পরিবর্তন আনা হয়েছে সংগঠনের বিচারের জন্য।

মন্ত্রী আরও বলেন, সংশোধনী দেওয়ার সময় পার হয়ে গেছে। এখন আলোচনা করতে চাইলে বিলের প্রথম বা দ্বিতীয় পাঠের সময় প্রস্তাব দেওয়া উচিত ছিল।

মন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকারের নির্দেশনায় বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করা হয় এবং কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

বান্দরবানে উন্নয়ন ও সমন্বয় জোরদারে বিশেষ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

সংসদে সন্ত্রাসবিরোধী আইন পাস, নিষিদ্ধই থাকছে আ.লীগের কার্যক্রম

আপডেটের সময়: ০৬:৪৩:৩৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ৮ এপ্রিল ২০২৬

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার জন্য ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের বিল (সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬) জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে। এর ফলে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধই থাকছে।

২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইনে সত্তার বা সংগঠন নিষিদ্ধ করার বিধান ছিল। অধ্যদেশের সংশোধনীতে সত্তা বা সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা হয়। সত্তা বা সংগঠনের কার্ক্রম নিষিদ্ধ করার বিধান রেখে ২০০৯ সালের সন্ত্রাসবিরোধী আইন সংশোধন করে অন্তর্বর্তী সরকার ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জারি করে ২০২৫ সালের ১১ মে। পরদিন ১২ মে নির্বাহী আদেশে আওয়ামী লীগের কার্যক্রম স্থগিত ঘোষণা করে অন্তর্বর্তী সরকার। এর আগে ২০২৪ সালের ২৩ অক্টোবর আওয়ামী লীগের অঙ্গ সংগঠন ছাত্রলীগ নিষিদ্ধ করে অন্তর্বর্তী সরকার।

অধ্যাদেশে কোনও সত্তার কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ করার বিধান যুক্ত করা হয়েছিল এবং কার্যক্রম নিষিদ্ধ সত্তার মিছিল, মিটিং, প্রকাশনাসহ যেসব কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা যাবে তার বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে ২৮ দিনে ১৬৯ শিশুর মৃত্যু

‘সন্ত্রাস বিরোধী (সংশোধন) আইন, ২০২৬’ বিলের ৩ ধারায় বলা হয়, ‘ওই সত্তা কর্তৃক বা তার পক্ষে বা সমর্থনে যেতে কানও প্রেস বিবৃতির প্রকাশনা বা মূদ্রণ কিংবা গণমাধ্যম, অনলাইন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম বা অন্যকোনও মাধ্যমে যেকোনও ধরনের প্রচারণা অথবা মিছিল, সভা-সমাবেশ বা সংবাদ সম্মেলন আয়োজন বা জনসম্মুখে বক্তৃতা নেওয়া নিষিদ্ধ করবে।

বিলের উদ্দেশ্য ও কারণ সংবলিত বিবৃতিতে বলা হয়, কিছু সন্ত্রাসী কার্য প্রতিরোধ এবং তাদের কার্যকর শাস্তির বিধানসহ আনুষঙ্গিক বিষয়াদি সম্পর্কে বিধান প্রণয়ন করার নিমিত্ত ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯’ প্রণয়ন করা হয়। ওই আইনের উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, সরকার, কোনও ব্যক্তি বা সত্তা সন্ত্রাসী কার্যের সঙ্গে জড়িত রয়েছে বলে যুক্তিসঙ্গত কারণের ভিত্তিতে, সরকারি গেজেটে প্রজ্ঞাপন দ্বারা, ওই ব্যক্তিকে তফসিলে তালিকাভুক্ত করতে পারে বা সত্তাকে নিষিদ্ধ ঘোষণা ও তফসিলে তালিকাভুক্ত করতে পারে। তবে বর্তমান আইনে কোনও সত্তার কার্যক্রম নিষিদ্ধকরণের বিষয়ে কোনও বিধান নেই। ওই বিষয়টি স্পষ্ট করাসহ বিধান সংযোজন আবশ্যক হেতু ‘সন্ত্রাসবিরোধী আইন, ২০০৯’ কে সময়োপযোগী করে ওই আইনের অধিকতর সংশোধন সমীচীন ও প্রয়োজন প্রতীয়মান হওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এ আইনটির ১৮ ও ২০ ধারা সংশোধনপূর্বক ১১/০৫/২০২৫ তারিখে ‘সন্ত্রাসবিরোধী (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়।

আরও পড়ুনঃ  উন্নয়ন অংশীদারদের কাছে ২০০ কোটি ডলার সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমদ সংসদে বিলটি উত্থাপনের পর বিলটি পাসের সময় বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বক্তব্য দিতে চাইলে তা বিধিসম্মত না হওয়ায় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ অনুমতি দেননি। তবে এই সময় বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেন, একটি শিট আমরা তিন-চার মিনিট আগে হাতে পেয়েছি। এখনও পড়তে পারিনি। যেহেতু আইনটা অবশ‌্যই একটি সেনসেটিভ আইন। আমরা কি অনুরোধ করতে পারি, বিলটি পাশের আগে সময় রেখে একটু সুযোগ দেওয়া হোক।

জবাবে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রুলিং দিয়ে বলেন, বিলের এই পর্যায়ে এসে আপত্তি করার সুযোগ নেই। বিধি অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ে আপত্তি বা প্রস্তাব দেওয়ার প্রয়োজন ছিল, যা দেওয়া হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে আলোচনায় বসার কোনো ইচ্ছা নেই ইরানের: ইরান

এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বিলটি পাসের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, এই বিলটা হলো, একটি গণহত‌্যাকারি সন্ত্রাসী সংগঠনের নিষিদ্ধ করা সংক্রান্ত একটি এমেনমেন্ট (সংশোধনী)। আগের যে আইন ছিল, সন্ত্রাসবিরোধী আইন সেটার সংশোধনের জন‌্য। বিরোধী দলীয় নেতার স্মরণে থাকার কথা যে তারা এবং এনসিপির বন্ধুরা মিলে আন্দোলনের মাধ্যমে একটি জনমত তৈরি করেছিলেন। সেই জনমতের পরিপ্রেক্ষিতেই সন্ত্রাসবিরোধী আইনে পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই আইনের বলেই একটি রাজনৈতিক দলের (আওয়ামী লীগ) রেজিস্ট্রেশন বর্তমানে স্থগিত আছে। এমনকি আইসিটি অ্যাক্টেও পরিবর্তন আনা হয়েছে সংগঠনের বিচারের জন্য।

মন্ত্রী আরও বলেন, সংশোধনী দেওয়ার সময় পার হয়ে গেছে। এখন আলোচনা করতে চাইলে বিলের প্রথম বা দ্বিতীয় পাঠের সময় প্রস্তাব দেওয়া উচিত ছিল।

মন্ত্রীর বক্তব্যের পর স্পিকারের নির্দেশনায় বিলটি পাসের জন্য উত্থাপন করা হয় এবং কণ্ঠভোটে তা পাস হয়।