
মোঃরাসেল, বিশেষ প্রতিনিধি
টানা ভারী বর্ষণ আর পাহাড়ি ঢলে বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর চাম্বি উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের ৪ তলা একাডেমিক ভবনটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়েছে। ভবনের ঠিক পেছনের পাহাড়ের একটি বিশাল অংশ ধসে পড়ায় যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের দুর্ঘটনার আশঙ্কা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা এবং বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনায় বর্তমানে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে।স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে পাহাড়ি অঞ্চলে টানা অতিবৃষ্টির ফলে মাটি নরম হয়ে এই ধসের ঘটনা ঘটে। পাহাড়ের মাটি ধসে সরাসরি ভবনের দেয়ালে এসে লেগেছে এবং ভবনের ভিত্তি বা ফাউন্ডেশনের নিচের মাটি সরে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে। ৪ তলা বিশিষ্ট এই গুরুত্বপূর্ণ একাডেমিক ভবনটিতে প্রতিদিন কয়েকশ শিক্ষার্থী ক্লাস করত। বর্তমান পরিস্থিতির কারণে ভবনের ভেতরে সব ধরনের পাঠদান ও প্রশাসনিক কার্যক্রম সাময়িকভাবে স্থগিত রাখতে বাধ্য হয়েছে প্রতিষ্ঠান কর্তৃপক্ষ।বিদ্যালয়টির কয়েকজন শিক্ষার্থীর অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “পাহাড় ধসের খবর শোনার পর থেকে সন্তানকে স্কুলে পাঠাতে ভয় পাচ্ছি। দ্রুত যদি এখানে গাইড ওয়াল বা প্রতিরক্ষামূলক ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে যেকোনো মুহূর্তে বড় কোনো বিপর্যয় ঘটে যেতে পারে।”প্রতিষ্ঠানটির প্রধান শিক্ষক জানান, পাহাড় ধসের কারণে ৪ তলা ভবনটি এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। বিষয়টি লামা উপজেলা প্রশাসন এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরকে (EED) জরুরি ভিত্তিতে জানানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে ভবনটি আপাতত ব্যবহার না করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।এই বিষয়ে উপজেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, সংবাদ পাওয়ার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞদের মাধ্যমে ভবনের কাঠামোগত ঝুঁকি পরীক্ষা করে দ্রুত প্রতিরক্ষামূলক রিটেইনিং ওয়াল বা গাইড ওয়াল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় যেকোনো অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে ওই এলাকায় সাধারণের চলাচল সীমিত করা হয়েছে এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।উল্লেখ্য, বান্দরবানের পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে অপরিকল্পিতভাবে পাহাড় কাটা এবং অতিবৃষ্টির কারণে পাহাড় ধসের ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, দ্রুত টেকসই পদক্ষেপ না নিলে এই ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির কোটি টাকা মূল্যের অবকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যেতে পারে।
প্রতিবেদকের নাম 



















