
নাজমুল ফয়েজ টুটুল, হোসেনপুর (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার পুমদী ইউনিয়নের দক্ষিণ পুমদী গ্রামে একটি লেয়ার মুরগির ফার্মের অপরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনার কারণে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। ফার্ম থেকে নির্গত তীব্র দুর্গন্ধ, মশা-মাছির উপদ্রব এবং পানি দূষণের কারণে এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়েছে। এমনকি ফার্মসংলগ্ন মসজিদে তীব্র দুর্গন্ধের কারণে মুসল্লিদের নামাজ আদায় করাও কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দক্ষিণ পুমদী গ্রামের বাসিন্দা মোঃ সৈয়দুর রহমান বিষাক্ত এই পরিবেশ থেকে মুক্তি পেতে সম্প্রতি উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত আবেদন জানিয়েছেন। আবেদনে উল্লেখ করা হয়, তার বসতবাড়ির একেবারে সন্নিকটে মোঃ বুলবুল পিতা-সামছুদ্দিন ওরফে (পিরু) সম্পূর্ণ নিয়মবহির্ভূতভাবে একটি লেয়ার মুরগির ফার্ম পরিচালনা করে আসছেন। ফার্মের বর্জ্য সঠিকভাবে অপসারণ বা শোধন না করায় আশপাশের বাতাস মারাত্মকভাবে দূষিত হচ্ছে।
শুধু বায়ুদূষণই নয়, ফার্মের অপরিকল্পিত বর্জ্যের কারণে পাশের একটি পুকুরের পানি সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। বিষাক্ত পানির কারণে পুকুরের সব মাছ মারা গেছে এবং বর্তমানে সেই পানি কোনো গৃহস্থালি কাজে ব্যবহারের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হাই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আবাসিক এলাকায় এমন বাণিজ্যিক লেয়ার ফার্ম করার কোনো নিয়ম নেই। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে অভিযুক্ত ফার্ম মালিকের ছোট ভাই জেলা ছাত্রলীগের সহসভাপতি পদের রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে জোরপূর্বক এই ফার্মটি গড়ে তোলেন। তৎকালীন সময়ে প্রশাসনের কাছে আবেদন করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি।
দূষণের ভয়াবহতা বর্ণনা করে এলাকাবাসী জানান, ফার্মের গা ঘেঁষে একটি মসজিদ থাকায় দিন দিন সেখানে মুসল্লিদের উপস্থিতি কমছে। দুর্গন্ধের পাশাপাশি এলাকায় মাছি ও মশার উপদ্রব অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে শিশু ও বৃদ্ধসহ সব বয়সী মানুষ শ্বাসকষ্ট, ডায়রিয়াসহ বিভিন্ন পানিবাহিত ও চর্মরোগে আক্রান্ত হচ্ছেন।
বসতবাড়ির পাশে এভাবে বাণিজ্যিক ফার্ম স্থাপনের আইনি বৈধতার বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা প্রাণিসম্পদ ও ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ডা. মোজাহিদুল কবির শিহাব জানান, “বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে কেউ পোল্ট্রি ফার্ম পরিচালনা করতে চাইলে সরকারি নিয়ম অনুযায়ী জনবসতি বা বসতবাড়ি থেকে অন্তত ২০০ মিটার দূরত্ব বজায় রাখতে হবে। একই সাথে পরিবেশের যেন কোনো ক্ষতি না হয়, তা কঠোরভাবে নিশ্চিত করার বিধান রয়েছে।
পরিবেশের মারাত্মক বিপর্যয় ও জনস্বাস্থ্য রক্ষায় ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী বর্তমান প্রশাসনের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। তারা অবিলম্বে ফার্মের বর্জ্য অপসারণের আধুনিক ব্যবস্থা নিশ্চিত করাসহ পরিবেশ আইন লঙ্ঘন করায় মালিকের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবেদকের নাম 



















