Dhaka ০৭:৩৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দোহাজারীতে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারে ব্যপক অভিযোগ টানা ৫ দিন ধরে বন্ধ হিলি বন্দরের আমদানি-রপ্তানি পত্নীতলায় পুলিশের অভিযানে ৫ যুবক আটক ২শত টাকার জন্য হত্যা পুলিশের অভিযানে পাঁচজন আসামি গ্রেপ্তার তারেক রহমানের কারামুক্তি দিবসে শিবগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের মাঝে খাবার বিতরণ চিলমারীতে মধ্যযুগীয় বর্বরতায় নারীর গর্ভস্খলন ও ঘর-বাড়িতে অগ্নি সংযোগের প্রতিবাদে মানব বন্ধন নিরাপত্তার আশ্বাস ও ৫ ছাত্রদল নেতা বহিষ্কারের পর শজিমেকে কর্মবিরতি প্রত্যাহার ধুনটে বিস্ফোরক, ভাঙচুর ও নাশকতা মামলায় ৩ আ’লীগ নেতা গ্রেপ্তার। কাউনিয়ায় আধুনিক প্রযুক্তির মাধ্যমে টেকসই কৃষি উন্নয়নে কৃষকদের প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত সম্পত্তি লিখে নিতে চাপ, ছেলের বিরুদ্ধে বৃদ্ধা মায়ের নির্যাতন ও হত্যার হুমকির অভিযোগ‌

তেঁতুলিয়া নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব: ভাঙছে কৃষিজমি,

মোঃ শরিফ হোসেন  ভোলা জেলা, প্রতিনিধি: ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় তেঁতুলিয়া নদীর বুক চিরে চলছে অবৈধ ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলনের তাণ্ডব। অপরিকল্পিত ও বেআইনিভাবে বালু তোলার ফলে নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে শত শত একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কয়েক হাজার কৃষক পরিবার। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রশাসন মাঝেসাঝে অভিযান চালালেও কোস্টগার্ডের রহস্যজনক নীরবতায় বালু খেকো চক্রটি দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে বর্তমানে ৯টি শক্তিশালী লোড ড্রেজার দিয়ে দিন-রাত সমানতালে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর মধ্যে বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা ফাইজুল ইসলাম, কাচিয়ার মফিজ, থানার মোড় এলাকার সুতা নুরনবী, নুরু ড্রেজার এবং খেয়াঘাট এলাকার আল-আমিন মোল্লার মালিকানাধীন ৫টি ড্রেজার ‘হাঁসের চর’ এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। এছাড়া গঙ্গাপুর ইউনিয়নের চর বাগমারা এলাকায় আরও ৪টি ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  রংপুরে ৪ খুন সরকারের ‘জিরো টলারেন্স: ত্রাণমন্ত্রী

 

অবিরাম বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশে গভীর খাদের সৃষ্টি হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাবে চর লতিফ ও চর বাগমারার উত্তর অংশে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বহু কৃষকের আবাদি জমি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুল মালেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একদিকে আমাদের জমি নদীতে যাচ্ছে, অন্যদিকে ড্রেজার বন্ধ করার কেউ নেই। কোস্টগার্ডের ভূমিকা এখানে নামমাত্র। আমরা এখন কোথায় যাব, কী খাব—তা দেখার যেন কেউ নেই।” উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রনজিৎ চন্দ্র দাস স্থানীয় পুলিশ নিয়ে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে ড্রেজার আটক ও জরিমানা করলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে পারছে না। জরিমানা দেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই চক্রটি পুনরায় দ্বিগুণ উৎসাহে বালু তোলা শুরু করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোলা কোস্টগার্ড এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বালু খেকোরা কাউকেই তোয়াক্কা করছে না।

আরও পড়ুনঃ  বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে লক্ষ্মীপুর (৪ আসন) কমলনগরে আনন্দ র‍্যালি

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন করে এভাবে বালু উত্তোলন দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনবে। এখনই এই কার্যক্রম শক্ত হাতে দমন করা না গেলে বোরহানউদ্দিনের মানচিত্র থেকে চর লতিফ ও চর বাগমারার মতো গুরুত্বপূর্ণ চরাঞ্চলগুলো চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী কৃষকরা নদী রক্ষা এবং নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও কোস্টগার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

আরও পড়ুনঃ  কুলাউড়ায় যানজট নিরসনে উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের যৌথ উচ্ছেদ অভিযান
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

দোহাজারীতে ১ কোটি ২৩ লাখ টাকার সড়ক সংস্কারে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারে ব্যপক অভিযোগ

তেঁতুলিয়া নদীতে অবৈধ বালু উত্তোলনের মহোৎসব: ভাঙছে কৃষিজমি,

আপডেটের সময়: ০৮:৫০:০৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৭ মে ২০২৬

মোঃ শরিফ হোসেন  ভোলা জেলা, প্রতিনিধি: ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলায় তেঁতুলিয়া নদীর বুক চিরে চলছে অবৈধ ড্রেজার মেশিনে বালু উত্তোলনের তাণ্ডব। অপরিকল্পিত ও বেআইনিভাবে বালু তোলার ফলে নদীর তীরবর্তী চরাঞ্চলে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে শত শত একর ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার পাশাপাশি ঘরবাড়ি হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন কয়েক হাজার কৃষক পরিবার। অভিযোগ উঠেছে, স্থানীয় প্রশাসন মাঝেসাঝে অভিযান চালালেও কোস্টগার্ডের রহস্যজনক নীরবতায় বালু খেকো চক্রটি দিন দিন আরও বেপরোয়া হয়ে উঠছে। সরেজমিনে জানা যায়, উপজেলার তেঁতুলিয়া নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে বর্তমানে ৯টি শক্তিশালী লোড ড্রেজার দিয়ে দিন-রাত সমানতালে বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এর মধ্যে বোরহানউদ্দিন পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের সাবেক কাউন্সিলর ও বিএনপি নেতা ফাইজুল ইসলাম, কাচিয়ার মফিজ, থানার মোড় এলাকার সুতা নুরনবী, নুরু ড্রেজার এবং খেয়াঘাট এলাকার আল-আমিন মোল্লার মালিকানাধীন ৫টি ড্রেজার ‘হাঁসের চর’ এলাকায় সক্রিয় রয়েছে। এছাড়া গঙ্গাপুর ইউনিয়নের চর বাগমারা এলাকায় আরও ৪টি ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  রংপুরে ৪ খুন সরকারের ‘জিরো টলারেন্স: ত্রাণমন্ত্রী

 

অবিরাম বালু উত্তোলনের ফলে নদীর তলদেশে গভীর খাদের সৃষ্টি হচ্ছে, যার সরাসরি প্রভাবে চর লতিফ ও চর বাগমারার উত্তর অংশে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বহু কৃষকের আবাদি জমি নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক আব্দুল মালেক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “একদিকে আমাদের জমি নদীতে যাচ্ছে, অন্যদিকে ড্রেজার বন্ধ করার কেউ নেই। কোস্টগার্ডের ভূমিকা এখানে নামমাত্র। আমরা এখন কোথায় যাব, কী খাব—তা দেখার যেন কেউ নেই।” উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রনজিৎ চন্দ্র দাস স্থানীয় পুলিশ নিয়ে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে ড্রেজার আটক ও জরিমানা করলেও তা স্থায়ী সমাধান আনতে পারছে না। জরিমানা দেওয়ার কিছুদিনের মধ্যেই চক্রটি পুনরায় দ্বিগুণ উৎসাহে বালু তোলা শুরু করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভোলা কোস্টগার্ড এই অবৈধ কার্যক্রম বন্ধে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ায় বালু খেকোরা কাউকেই তোয়াক্কা করছে না।

আরও পড়ুনঃ  মৌলভীবাজারে উত্ত্যক্তের শিকার হয়ে চলন্ত টমটম থেকে লাফ, কলেজছাত্রীর ২ দাঁত ভাঙল

 

বিশেষজ্ঞদের মতে, নদীর স্বাভাবিক গতিপথ পরিবর্তন করে এভাবে বালু উত্তোলন দীর্ঘমেয়াদী পরিবেশগত বিপর্যয় ডেকে আনবে। এখনই এই কার্যক্রম শক্ত হাতে দমন করা না গেলে বোরহানউদ্দিনের মানচিত্র থেকে চর লতিফ ও চর বাগমারার মতো গুরুত্বপূর্ণ চরাঞ্চলগুলো চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে।
স্থানীয় সচেতন মহল ও ভুক্তভোগী কৃষকরা নদী রক্ষা এবং নিজেদের জানমালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন ও কোস্টগার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন।

আরও পড়ুনঃ  ধুনটে নানা আয়োজনে বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন