
স্টাফ রিপোর্টারঃ শফিকুল ইসলাম (জামালপুর)
জামালপুর জেলার ইসলামপুরে গৃহবধূ মঞ্জুরা হত্যার ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী ও নিহতের স্বজনেরা। বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর ২০২৬) দুপুরে পূর্বে উপজেলার চরগোয়ালিনী ইউনিয়নের হরিণধরা এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। উক্ত বিক্ষোভ মিছিলে প্রায় পাঁচ শতাধিক গ্রামবাসী অংশ নেন।বিক্ষোভ মিছিলটি এলাকার বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে মানববন্ধনে মিলিত হয়। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা মঞ্জুরা হত্যার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।নিহতের স্বজনদের অভিযোগ- প্রায় ১৫ বছর আগে শেরপুর সদর উপজেলার চর এলাকার আহাম্মদ আলী মোল্লার মেয়ে মঞ্জুরার সঙ্গে ইসলামপুর উপজেলার চরপুটিমারী ইউনিয়নের চর এলাকার সুজন মিয়ার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন মঞ্জুরার ওপর নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন বলে অভিযোগ স্বজনদের।
তাদের দাবি, শ্বশুরবাড়ি লোকজন এরই ধারাবাহিকতায় গত শনিবার সকালে মঞ্জুরাকে পিটিয়ে হত্যা করে। নিহতের মা রিনা খাতুন বলেন, ‘আমার মেয়েকে যারা নির্যাতন করে হত্যা করেছে, তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করতে হবে। আমি আমার মেয়ের হত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার চাই। আসামিরা যেন কোনোভাবেই শাস্তি না পেয়ে পালাতে না পারে।
নিহতের বোন আঞ্জুরা বেগম বলেন, ‘বিয়ের পর থেকেই মঞ্জুরাকে বিভিন্নভাবে নির্যাতন করা হয়েছে বলে আমরা জেনেছি। শেষ পর্যন্ত আমার বোনকে হারাতে হয়েছে। আমরা কোনো প্রতিশোধ চাই না, আমরা আইনের মাধ্যমে এ হত্যার বিচার চাই।’
স্থানীয় বাসিন্দা হাফিজুর রহমান বলেন, ‘মঞ্জুরার মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় মানুষের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। আমরা চাই, সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসুক এবং যারা দায়ী তাদের দ্রুত আইনের আওতায় আনা হোক।’
আরেক স্থানীয় বাসিন্দা রাশেদুল ইসলাম বলেন, ‘একজন নারীকে এভাবে হারানোর ঘটনায় আমরা খুবই মর্মাহত। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের শাস্তি নিশ্চিত করা না হলে এলাকাবাসী আরও কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবে।’
এ ঘটনায় নিহতের মা রিনা খাতুন বাদী হয়ে মঞ্জুরার স্বামী সুজন মিয়াসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে জামালপুরের আদালতে মামলার আবেদন করেন। শুনানি শেষে ইসলামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।
ইসলামপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন- এখনো আদালত থেকে এই ঘটনায় কোনো মামলার নথি বা নির্দেশের কপি আসেনি। তবে নথি পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রতিবেদকের নাম 
















