
কাজী আন্নিল তানভীর, স্টাফ রিপোর্টার: হাঁপানি রোগে আক্রান্ত হয়ে ধীরে ধীরে কর্মক্ষমতা হারিয়েছিলেন নূর ইসলাম। অসুস্থতার মাত্র ছয় মাসের মাথায় ভেঙে যায় তাঁর সংসারও—স্ত্রী বিবাহবিচ্ছেদ দিয়ে চলে যান। এরপর থেকে নিজের বলতে আর কোনো ঘর থাকেনি তাঁর। স্থায়ী কোনো বাসস্থান না থাকায় ঠাঁই হয় একটি মসজিদে, আর খাবারের জন্য নির্ভর করতে হতো মানুষের দয়ার ওপর। অসহায়ত্বের সাগরে ভাসতে থাকা এই নূর ইসলামের পাশে এবার সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন ঢাকার জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। আজ বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে নূর ইসলামের হাতে এই বিশেষ মানবিক সহায়তা তুলে দেওয়া হয়। জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে চোখের জটিল সমস্যায় ভুগছিলেন নূর ইসলাম। চিকিৎসকেরা জানিয়েছিলেন, দ্রুত অস্ত্রোপচার না করালে তিনি চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারেন। কিন্তু নিঃস্ব নূর ইসলামের পক্ষে অস্ত্রোপচারের খরচ জোগানো ছিল একেবারেই অসম্ভব। উপায়ান্তর না দেখে শেষ আশ্রয় হিসেবে তিনি ঢাকার জেলা প্রশাসকের কাছে আর্থিক সহায়তার জন্য আবেদন জানান। আবেদনটি পাওয়ার পর নূর ইসলামের করুণ জীবনসংগ্রাম ও অসহায়ত্বের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেন জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম। মানবিক দিক বিবেচনা করে অবিলম্বে তাঁর চোখের চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচারের সম্পূর্ণ আর্থিক সহায়তার ব্যবস্থা করেন তিনি।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, স্থায়ী ঠিকানা ও উপার্জনহীন নূর ইসলাম বর্তমানে একটি মসজিদে রাত যাপন করেন এবং মানুষের সাহায্যেই কোনো রকমে জীবন ধারণ করছেন। এমন চরম দূরবস্থায় তাঁর নিজের পক্ষে চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করা কোনোভাবেই সম্ভব ছিল না। সহায়তা প্রদানকালে জেলা প্রশাসক ফরিদা খানম বলেন, “অসহায় ও প্রান্তিক মানুষের পাশে দাঁড়ানো প্রশাসনের নৈতিক দায়িত্ব। নূর ইসলামের মতো মানুষের চিকিৎসা নিশ্চিত করে তাঁদের মুখে হাসি ফোটাতে পারলেই আমাদের কাজের সার্থকতা। একটি মানবিক রাষ্ট্র গঠনে ঢাকা জেলা প্রশাসন সর্বদা সাধারণ মানুষের পাশে থাকবে। নতুন করে চোখে আলো ফেরার স্বপ্ন দেখে জেলা প্রশাসকের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন নূর ইসলাম। আবেগপ্লুত হয়ে তিনি বলেন, “চোখের চিকিৎসার আশা প্রায় ছেড়েই দিয়েছিলাম। ভাবিনি আবার সুস্থ হয়ে পৃথিবী দেখতে পারব। জেলা প্রশাসক ম্যাডাম আমার মতো একজন নিঃস্ব মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন। মহান আল্লাহ যেন তাঁকে এর উত্তম প্রতিদান দেন।
প্রতিবেদকের নাম 























