Dhaka ০১:০৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
দাম বেড়ে অকটেন ১৪০, পেট্রোল ১৩৫, ডিজেল ১১৫ টাকা ২০২৬ সালের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা চলাকালীন যানচলাচল সম্পর্কিত ডিএমপির নির্দেশনাবলী প্রকাশ চিলমারীতে বাড়ির পাশেই মিলল শিশু আয়শার ক্ষতবিক্ষত নিথর মৃত দেহ যোগ্যদের স্বীকৃতি দিতে পেরে গর্বিত” চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন লক্ষ্মীপুরে ফোর লেন সড়ক প্রকল্পের কাজ ২০২৯ সালে শেষ হবে: পানিসম্পদ মন্ত্রী আফমি প্লাজা ঈদ বিক্রয় উৎসব, পুরস্কার বিতরণ ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা সম্পন্ন বায়েজিদে প্রবাসীর বাড়িতে ঢুকে চেক ছিনতাই, উল্টো মামলা ও হয়রানির শিকার রেমিটেন্স যোদ্ধা নাগরপুরে তিন দিনব্যাপী বর্ণিল আয়োজনে বর্ষবরণ উৎসব ৮ দলীয় ক্রিকেট টুর্নামেন্টের ফাইনালে চ্যাম্পিয়ন জয়মনি উইনার্স ক্লাব থানারহাট মডেল মাদরাসার দোয়া ও বিদায় অনুষ্ঠান

সুন্দরবন অগ্নিনির্বাপণ রোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা

শেখ রাফসান মোংলা প্রতিনিধিঃ পূর্ব সুন্দরবনে আগুন প্রতিরোধে আগাম সতর্কতায় শুরু হয়েছে বনবিভাগের প্রচার প্রচারণা। বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে সুন্দরবনে যাতে আগুন না লাগে সে লক্ষ্যে বনরক্ষীরা মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও শুক্রবার জুমার নামাজের সময় প্রচারণার কাজ চালাচ্ছেন। রবিবার (১৫ মার্চ) বিকাল ৩টায় মোংলা উপজেলায় সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ চাঁদপাই রেঞ্জ ও সহ ব্যবস্থাপনা কমিটির উদ্যোগে এ প্রচার প্রচরনা আয়োজন করা হয়। গত ২৩ বছরে সুন্দরবনে ৩০ বার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ বছরে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বনাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ৩০ বার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে সুন্দরবনের ব্যপক এলাকা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মার্চ মাস থেকে মে মাস সময়ের মধ্যে সুন্দরবনে বেশিরভাগ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। সবশেষে গত বছরের ২২ মার্চ চাঁদপাই রেঞ্জের বনে কয়েকদফা আগুন লাগে।

 

সুন্দরবন সংলগ্ন গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সুন্দরবনে প্রাকৃতিকভাবে আগুন লাগেনা। লোকালয়ের একটি চক্র সুন্দরবনে শুষ্ক মৌসুমে আগুন লাগিয়ে থাকে। এ চক্রটি বনে আগুন লাগিয়ে ছাই তৈরী করে রাখে। বর্ষা কালে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ বনভূমি পানিতে ডুবে থাকে। পানিতে ডুবে থাকা ছাই খেতে কৈ, মাগুর ও শিং মাছ সেখানে আসে। অসাধূ চক্রের লোকেরা জাল দিয়ে সে সময় মাছ ধরে। বিষয়টি এলাকায় ওপেন সিক্রেট। সুন্দরবনে আগুনের মৌসুম শুরু হওয়ায় বনরক্ষীরা আগাম সর্তকতার জন্য সুন্দরবন সংলগ্ন বৈদ্যমারী, নিশানবাড়ীয়া, গুলিশাখালী, আমুরবুনিয়া, ধানসাগর, রাজাপুরসহ আশেপাশের হাট বাজার ও গ্রামে ব্যপকভাবে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম চালাচ্ছেন। জামে মসজিদ গুলোতে শুক্রবারে জুমার নামাজের সময় ইমাম সাহেবদের মাধ্যমে আগুন প্রতিরোধের প্রচার চালানো হচ্ছে। এমনকি নিয়মিভাবে ড্রোন উড়িয়ে সুন্দরবনে পর্যবেক্ষণ করছেন বনরক্ষীরা।

আরও পড়ুনঃ  শতবর্ষের ঐতিহ্য ধুঁকছে অব্যবস্থাপনায়: হোসেনপুর সরকারি পাইল্ট স্কুলের সোনালি দিন কি অতীত?

 

শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ ও মোংলা উপজেলার বনসংলগ্ন সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের জিউধরা, চিলা, জয়মনি, কপিলমুনি ও কটকা প্রবেশপথে জেলে, বাওয়ালি ও স্থানীয় কেউ বিড়ি–সিগারেট কিংবা দাহ্য বস্তু নিয়ে ঢুকতে পারবেন না। প্রথমবারের মতো নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রবেশপথে বিড়ি-সিগারেট ও যেকোনো দাহ্য পদার্থ নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। চাঁদপাই রেঞ্জের জিউধরা স্টেশনের বনরক্ষী শাহাদাৎ হোসেন বলেন, আগুন লাগার বেশিরভাগ ঘটনার পেছনে মানুষের অসচেতনতা বা দুর্বৃত্তের হাত। আমরা টহল জোরদার করেছি। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মোড়েলগঞ্জ উপজেলার জিউধরা গ্রামের বাসিন্দা আবু হাসান বলেন, সুন্দরবন আমাদের জীবন-জীবিকা। যেখান থেকে আয় না করলে সংসার চলে না। সেখানে এক শ্রেণির মানুষ ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য বৃহত্তম স্বার্থ নষ্ট করছে। বারবার আগুনে বন পুড়তে দেখে আমাদের কষ্ট হয়। বন বিভাগের এই উদ্যোগকে আমরা সমর্থন করি। কেউ নিষেধাজ্ঞা না মানলে কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।

আরও পড়ুনঃ  থানারহাট মডেল মাদরাসার দোয়া ও বিদায় অনুষ্ঠান

 

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা দীপন চন্দ্র দাস বলেন, গত দুই দশকে অগ্নিকাণ্ডে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তাই এবার প্রতিরোধেই জোর দিচ্ছি। বনসংলগ্ন এলাকায় প্রতিদিন মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের সহযোগিতা ছাড়া বন রক্ষা সম্ভব নয়। আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছি। বন বিভাগের তদন্তে আগের অগ্নিকাণ্ডগুলোর ঘটনায় একশ্রেণীর স্থানীয় দুর্বৃত্ত চক্রের সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এসেছে। এবার যাতে এমন কোনো ঘটনা না ঘটে, সে জন্য টহল বাড়ানো হয়েছে এবং প্রবেশপথগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। গত ২৩ বছরে ২৭ বার অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক একর বনভূমি পুড়ে গেছে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে। বিশ্বের অন্যান্য ম্যানগ্রোভ বনের তুলনায় সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য অধিকতর সমৃদ্ধ। এই বনে সুন্দরীসহ রয়েছে ৩৩৪ প্রজাতির গাছপালা, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল ও ১৩ প্রজাতির অর্কিড। বাঘ, হরিণ, কুমির, কিং কোবরা, বিলুপ্তপ্রায় ইরাবতিসহ ছয় প্রজাতির ডলফিন,৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও ২১০ প্রজাতির মৎস্যসম্পদ।

আরও পড়ুনঃ  কাউনিয়ায় মর্যাদা প্রকল্পের ইউনিয়ন দুর্যোগ স্বেচ্ছাসেবক কমিটির মিটিং

 

সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে এই জনপদ এখনও টিকে আছে শুধু সুন্দরবনের আশ্রয়ে।কিছু মানুষের লোভ-লালসা আর অপকর্মের শিকার হচ্ছে বননির্ভরশীল মানুষ ও গোটা বনের জীববৈচিত্র্য। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, একসময় এ বনে বাস করত ৪০০ প্রজাতির পাখি, যা কমতে কমতে এখন ২৭০ প্রজাতিতে দাঁড়িয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাড়ছে সাগর-নদীর পানির উচ্চতা ও লবণাক্ততা। কমে যাচ্ছে সুন্দরবনের কম লবণসহিষ্ণু সুন্দরীসহ অন্যান্য গাছ, কমছে বন্যপ্রাণীর বিচরণ ক্ষেত্রও। একশ্রেণির জেলে সুন্দরবনের নদী-খালে বিষ দিয়ে মাছ আহরণ করায় হুমকির মুখে পড়েছে সুন্দরবনের মৎস্য ভাণ্ডার। একইভাবে হত্যা করা হচ্ছে বাঘ, হরিণ, শূকরসহ অন্যান্য প্রাণী।সুন্দরবনের টিকে থাকার ওপর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের বেঁচে থাকা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সমৃদ্ধি অনেকাংশেই নির্ভরশীল। সুন্দরবন প্রকৃতিগতভাবেই সৃষ্টি এবং প্রকৃতিই এর রক্ষক।

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন জিউধরা স্টেশন কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন, আমোরবুনিয়া টহল ফাড়ির অসি মোঃ জাকির হোসেন, সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ ফারুক হাওলাদার,সহ-সভাপতি মোঃ নুরুল ইসলাম মৃধা, কোষাধ্যক্ষ মোঃ মারুফ হাওলাদার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সেক্সপিয়ার বালা, সিপিজি,ভিটিআরটি সদস্যরা প্রমুখ।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

দাম বেড়ে অকটেন ১৪০, পেট্রোল ১৩৫, ডিজেল ১১৫ টাকা

সুন্দরবন অগ্নিনির্বাপণ রোধে সচেতনতামূলক প্রচারণা

আপডেটের সময়: ০৭:৫২:৫১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

শেখ রাফসান মোংলা প্রতিনিধিঃ পূর্ব সুন্দরবনে আগুন প্রতিরোধে আগাম সতর্কতায় শুরু হয়েছে বনবিভাগের প্রচার প্রচারণা। বর্তমানে শুষ্ক মৌসুমে সুন্দরবনে যাতে আগুন না লাগে সে লক্ষ্যে বনরক্ষীরা মাইকিং, লিফলেট বিতরণ ও শুক্রবার জুমার নামাজের সময় প্রচারণার কাজ চালাচ্ছেন। রবিবার (১৫ মার্চ) বিকাল ৩টায় মোংলা উপজেলায় সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগ চাঁদপাই রেঞ্জ ও সহ ব্যবস্থাপনা কমিটির উদ্যোগে এ প্রচার প্রচরনা আয়োজন করা হয়। গত ২৩ বছরে সুন্দরবনে ৩০ বার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। বন বিভাগ সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ বছরে সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের বনাঞ্চলের বিভিন্ন স্থানে ৩০ বার অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। আগুনে সুন্দরবনের ব্যপক এলাকা ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, মার্চ মাস থেকে মে মাস সময়ের মধ্যে সুন্দরবনে বেশিরভাগ অগ্নিকান্ডের ঘটনা ঘটেছে। সবশেষে গত বছরের ২২ মার্চ চাঁদপাই রেঞ্জের বনে কয়েকদফা আগুন লাগে।

 

সুন্দরবন সংলগ্ন গ্রামবাসীদের অভিযোগ, সুন্দরবনে প্রাকৃতিকভাবে আগুন লাগেনা। লোকালয়ের একটি চক্র সুন্দরবনে শুষ্ক মৌসুমে আগুন লাগিয়ে থাকে। এ চক্রটি বনে আগুন লাগিয়ে ছাই তৈরী করে রাখে। বর্ষা কালে সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ বনভূমি পানিতে ডুবে থাকে। পানিতে ডুবে থাকা ছাই খেতে কৈ, মাগুর ও শিং মাছ সেখানে আসে। অসাধূ চক্রের লোকেরা জাল দিয়ে সে সময় মাছ ধরে। বিষয়টি এলাকায় ওপেন সিক্রেট। সুন্দরবনে আগুনের মৌসুম শুরু হওয়ায় বনরক্ষীরা আগাম সর্তকতার জন্য সুন্দরবন সংলগ্ন বৈদ্যমারী, নিশানবাড়ীয়া, গুলিশাখালী, আমুরবুনিয়া, ধানসাগর, রাজাপুরসহ আশেপাশের হাট বাজার ও গ্রামে ব্যপকভাবে মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ কার্যক্রম চালাচ্ছেন। জামে মসজিদ গুলোতে শুক্রবারে জুমার নামাজের সময় ইমাম সাহেবদের মাধ্যমে আগুন প্রতিরোধের প্রচার চালানো হচ্ছে। এমনকি নিয়মিভাবে ড্রোন উড়িয়ে সুন্দরবনে পর্যবেক্ষণ করছেন বনরক্ষীরা।

আরও পড়ুনঃ  রাজবাড়ীতে ১০ টি ফিলিং স্টেশনের একটিতেও তেল না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন যানবাহন চালক

 

শরণখোলা, মোরেলগঞ্জ ও মোংলা উপজেলার বনসংলগ্ন সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের জিউধরা, চিলা, জয়মনি, কপিলমুনি ও কটকা প্রবেশপথে জেলে, বাওয়ালি ও স্থানীয় কেউ বিড়ি–সিগারেট কিংবা দাহ্য বস্তু নিয়ে ঢুকতে পারবেন না। প্রথমবারের মতো নির্দিষ্ট কয়েকটি প্রবেশপথে বিড়ি-সিগারেট ও যেকোনো দাহ্য পদার্থ নিয়ে প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। চাঁদপাই রেঞ্জের জিউধরা স্টেশনের বনরক্ষী শাহাদাৎ হোসেন বলেন, আগুন লাগার বেশিরভাগ ঘটনার পেছনে মানুষের অসচেতনতা বা দুর্বৃত্তের হাত। আমরা টহল জোরদার করেছি। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মোড়েলগঞ্জ উপজেলার জিউধরা গ্রামের বাসিন্দা আবু হাসান বলেন, সুন্দরবন আমাদের জীবন-জীবিকা। যেখান থেকে আয় না করলে সংসার চলে না। সেখানে এক শ্রেণির মানুষ ক্ষুদ্র স্বার্থের জন্য বৃহত্তম স্বার্থ নষ্ট করছে। বারবার আগুনে বন পুড়তে দেখে আমাদের কষ্ট হয়। বন বিভাগের এই উদ্যোগকে আমরা সমর্থন করি। কেউ নিষেধাজ্ঞা না মানলে কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত।

আরও পড়ুনঃ  ফেনীতে হজ প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত

 

সুন্দরবন পূর্ব বন বিভাগের চাঁদপাই রেঞ্জ কর্মকর্তা দীপন চন্দ্র দাস বলেন, গত দুই দশকে অগ্নিকাণ্ডে বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তাই এবার প্রতিরোধেই জোর দিচ্ছি। বনসংলগ্ন এলাকায় প্রতিদিন মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। স্থানীয়দের সহযোগিতা ছাড়া বন রক্ষা সম্ভব নয়। আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থায় আছি। বন বিভাগের তদন্তে আগের অগ্নিকাণ্ডগুলোর ঘটনায় একশ্রেণীর স্থানীয় দুর্বৃত্ত চক্রের সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে এসেছে। এবার যাতে এমন কোনো ঘটনা না ঘটে, সে জন্য টহল বাড়ানো হয়েছে এবং প্রবেশপথগুলোতে নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। গত ২৩ বছরে ২৭ বার অগ্নিকাণ্ডে শতাধিক একর বনভূমি পুড়ে গেছে সুন্দরবন পূর্ব বিভাগে। বিশ্বের অন্যান্য ম্যানগ্রোভ বনের তুলনায় সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য অধিকতর সমৃদ্ধ। এই বনে সুন্দরীসহ রয়েছে ৩৩৪ প্রজাতির গাছপালা, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল ও ১৩ প্রজাতির অর্কিড। বাঘ, হরিণ, কুমির, কিং কোবরা, বিলুপ্তপ্রায় ইরাবতিসহ ছয় প্রজাতির ডলফিন,৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণী ও ২১০ প্রজাতির মৎস্যসম্পদ।

আরও পড়ুনঃ  বর্ষবরণ উপলক্ষে নোয়াপাড়া রানার্স ইউনিটি সংগঠনের ফুটবল টুর্নামেন্ট।

 

সুন্দরবনসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে এই জনপদ এখনও টিকে আছে শুধু সুন্দরবনের আশ্রয়ে।কিছু মানুষের লোভ-লালসা আর অপকর্মের শিকার হচ্ছে বননির্ভরশীল মানুষ ও গোটা বনের জীববৈচিত্র্য। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, একসময় এ বনে বাস করত ৪০০ প্রজাতির পাখি, যা কমতে কমতে এখন ২৭০ প্রজাতিতে দাঁড়িয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে বাড়ছে সাগর-নদীর পানির উচ্চতা ও লবণাক্ততা। কমে যাচ্ছে সুন্দরবনের কম লবণসহিষ্ণু সুন্দরীসহ অন্যান্য গাছ, কমছে বন্যপ্রাণীর বিচরণ ক্ষেত্রও। একশ্রেণির জেলে সুন্দরবনের নদী-খালে বিষ দিয়ে মাছ আহরণ করায় হুমকির মুখে পড়েছে সুন্দরবনের মৎস্য ভাণ্ডার। একইভাবে হত্যা করা হচ্ছে বাঘ, হরিণ, শূকরসহ অন্যান্য প্রাণী।সুন্দরবনের টিকে থাকার ওপর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের বেঁচে থাকা, অর্থনৈতিক অগ্রগতি, সমৃদ্ধি অনেকাংশেই নির্ভরশীল। সুন্দরবন প্রকৃতিগতভাবেই সৃষ্টি এবং প্রকৃতিই এর রক্ষক।

 

এসময় উপস্থিত ছিলেন জিউধরা স্টেশন কর্মকর্তা শাহাদাৎ হোসেন, আমোরবুনিয়া টহল ফাড়ির অসি মোঃ জাকির হোসেন, সহ-ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি মোঃ ফারুক হাওলাদার,সহ-সভাপতি মোঃ নুরুল ইসলাম মৃধা, কোষাধ্যক্ষ মোঃ মারুফ হাওলাদার, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সেক্সপিয়ার বালা, সিপিজি,ভিটিআরটি সদস্যরা প্রমুখ।