Dhaka ০২:৩১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
পত্নীতলায় দুঃসাহসিক চুরি, উদ্ধার স্বর্ণালংকার কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরামের উদ্যোগে কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা– ২০২৬ এর আয়োজন করে কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশন চকরিয়ায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলা ভোলায় কোস্ট গার্ডের অভিযান: ৪০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি আটক নগরকান্দায় দেশীয় মাছ রক্ষায় মৎস্য অধিদপ্তরের অভিযান: চায়না দুয়ারি জাল ধ্বংস ও ভেসাল উচ্ছেদ শ্রীপুরে সংরক্ষিত মহিলা এমপি’র মতবিনিময় সভা ও বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ। পলাশবাড়ীতে কিশোরগাড়ী ইউপি কমপ্লেক্স কার্যালয় পূর্বের সরকারি জায়গায় স্থাপনের দাবীতে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত লালপুরে শিক্ষার্থীদের মাঝে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর বৃক্ষচারা বিতরণ কেরানীগঞ্জে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্দা উঠছে ” চট্টগ্রাম রিজিওনাল টি- ২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের

লালপুরে পদ্মার পানিতে তলিয়েছে চরাঞ্চলের ফসল, পানিবিন্দি সাড়ে ৪ শতাধিক পরিবার

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৬:১৫:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪৮ সময় দেখুন

শাকিব আহম্মেদ,লালপুর উপজেলা (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীতে গত কয়েকদিনের টানা পানি বৃদ্ধিতে উপজেলার চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে নদীতে বিলীন হয়েছে অর্ধশত ঘরবাড়ি, তলিয়ে গেছে প্রায় ৫০২ হেক্টর জমির ফসল ও সবজি। এছাড়া অনেক বসতবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়েছে, ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রিফাত করিম জানান রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা পর্যন্ত ঈশ্বরদী হার্ডিং ব্রিজ পয়েন্টে পানির লেভেল ১৩ দশমিক ০৬ মিটার সে অনুযায়ী বর্তমানে লালপুরে পদ্মার পানি বিপদ সীমার ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান নতুন করে পানি বৃদ্ধির সম্ভবনা নেই। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে উজানের ঢল ও টানা বর্ষণে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে উপজেলার ঈশ্বরদী, লালপুর ও বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি চর এবং নদী তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলো দ্রুত প্লাবিত হচ্ছে। নদীর পানি বিপদসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।এছাড়াও গো খাদ্য সংকটে চরম বিপাকে পড়েছে গরু মহিষের খামারিরা।

আরও পড়ুনঃ  ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজের নতুন ভবনে আগুন, আকাশে কালো ধোঁয়া

 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আকস্মিক এই পানি বৃদ্ধিতে চরাঞ্চলের প্রায় ৫০২ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত। এর মধ্যে রয়েছে, আখ ৪৩৫ হেক্টর, সবজি ৭ হেক্টর, ফল ৬০ হেক্টর। এতে প্রায় ১৪০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার সরজমিনে উপজেলার পদ্মার চর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ফসলি জমিগুলো পুরোপুরি পানিতে ডুবে আছে। বাঁশের মাচা বা খুঁটি দিয়ে আগলে রাখা সবজি ক্ষেতগুলোর শুধু উপরের অংশ পানির উপরে জেগে আছে। অনেক জায়গায় নতুন রোপণ করা মুলা, বেগুন গাছও পানির নিচে তলিয়ে গেছে কৃষকরা নৌকা বা ভেলায় করে তাদের ডুবে যাওয়া ফসল রক্ষার চেষ্টা করছেন, কিন্তু পানির তীব্রতায় তা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে ফলানো ফসল চোখের সামনে তলিয়ে যেতে দেখে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের দিয়ারশংকরপুর চরের কৃষক মো. আবুল কাশেম বলেন, “হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধিতে আমার ২ বিঘা জমির মুলা ও বেগুন পুরোপুরি পানির নিচে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আমার আরো ৪ বিঘা মুলা ও বেগুন ক্ষেত তলিয়ে যাবে। ঈশ্বরদী ইউনিয়নের কাইগিমারি চরের মহিষের খামারি খায়রুল ইসলাম বলেন, আমরা গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপদে আছি বন্যার পানিতে চারাঞ্চল ডুবে গেছে, কোথাও ঘাস নেই মহিষকে এখন শুধু ধানের শুকনো পোয়াল আর পানি খাওয়াচ্ছি। এদিকে, পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  টাঙ্গাইলে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

 

ভাঙনের কবলে পড়ে উপজেলার বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নওসারা সুলতানপুর পদ্মার চরে চরাঞ্চলের প্রায় ৫০টি বসতঘর এবং বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান হঠাৎ এ ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার। লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় বলেন, আমরা চর এলাকা পরিদর্শন করেছি, পদ্মার পানি বৃদ্ধি হওয়ায় চর এলাকার বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পানি কমে গেলে প্রকৃত ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে। এবিষয়ে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আবীর হোসেন বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদ্মার পানি বৃদ্ধি এবং চরাঞ্চলের সার্বিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে, ইতিমধ্যে বিলমাড়িয়ার নওসারা সুলতানপুর চরে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ পরিবারের মধ্যে ৩০কেজি করে জিআর চাউল বিতরণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  শ্রীপুরে সংরক্ষিত মহিলা এমপি'র মতবিনিময় সভা ও বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ।
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

পত্নীতলায় দুঃসাহসিক চুরি, উদ্ধার স্বর্ণালংকার

লালপুরে পদ্মার পানিতে তলিয়েছে চরাঞ্চলের ফসল, পানিবিন্দি সাড়ে ৪ শতাধিক পরিবার

আপডেটের সময়: ০৬:১৫:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

শাকিব আহম্মেদ,লালপুর উপজেলা (নাটোর) প্রতিনিধি: নাটোরের লালপুরে পদ্মা নদীতে গত কয়েকদিনের টানা পানি বৃদ্ধিতে উপজেলার চরাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এতে নদীতে বিলীন হয়েছে অর্ধশত ঘরবাড়ি, তলিয়ে গেছে প্রায় ৫০২ হেক্টর জমির ফসল ও সবজি। এছাড়া অনেক বসতবাড়িতেও পানি ঢুকে পড়েছে, ফলে চরম বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। নাটোর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ রিফাত করিম জানান রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টা পর্যন্ত ঈশ্বরদী হার্ডিং ব্রিজ পয়েন্টে পানির লেভেল ১৩ দশমিক ০৬ মিটার সে অনুযায়ী বর্তমানে লালপুরে পদ্মার পানি বিপদ সীমার ৭৪ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তিনি আরও জানান নতুন করে পানি বৃদ্ধির সম্ভবনা নেই। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে উজানের ঢল ও টানা বর্ষণে পদ্মা নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। এর ফলে উপজেলার ঈশ্বরদী, লালপুর ও বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের প্রায় ১৫টি চর এবং নদী তীরবর্তী নিচু এলাকাগুলো দ্রুত প্লাবিত হচ্ছে। নদীর পানি বিপদসীমার কাছ দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় চরাঞ্চলের মানুষ আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন।এছাড়াও গো খাদ্য সংকটে চরম বিপাকে পড়েছে গরু মহিষের খামারিরা।

আরও পড়ুনঃ  ধুনটে যৌথ মোবাইল কোর্ট অভিযান মাদকসহ গ্রেফতার ও নিষিদ্ধ জাল ধ্বংস

 

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, আকস্মিক এই পানি বৃদ্ধিতে চরাঞ্চলের প্রায় ৫০২ হেক্টর জমির ফসল পানিতে নিমজ্জিত। এর মধ্যে রয়েছে, আখ ৪৩৫ হেক্টর, সবজি ৭ হেক্টর, ফল ৬০ হেক্টর। এতে প্রায় ১৪০০ কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শনিবার সরজমিনে উপজেলার পদ্মার চর এলাকা ঘুরে দেখা গেছে ফসলি জমিগুলো পুরোপুরি পানিতে ডুবে আছে। বাঁশের মাচা বা খুঁটি দিয়ে আগলে রাখা সবজি ক্ষেতগুলোর শুধু উপরের অংশ পানির উপরে জেগে আছে। অনেক জায়গায় নতুন রোপণ করা মুলা, বেগুন গাছও পানির নিচে তলিয়ে গেছে কৃষকরা নৌকা বা ভেলায় করে তাদের ডুবে যাওয়া ফসল রক্ষার চেষ্টা করছেন, কিন্তু পানির তীব্রতায় তা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে ফলানো ফসল চোখের সামনে তলিয়ে যেতে দেখে কৃষকরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। বিলমাড়িয়া ইউনিয়নের দিয়ারশংকরপুর চরের কৃষক মো. আবুল কাশেম বলেন, “হঠাৎ করেই অস্বাভাবিক পানি বৃদ্ধিতে আমার ২ বিঘা জমির মুলা ও বেগুন পুরোপুরি পানির নিচে। পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলে আমার আরো ৪ বিঘা মুলা ও বেগুন ক্ষেত তলিয়ে যাবে। ঈশ্বরদী ইউনিয়নের কাইগিমারি চরের মহিষের খামারি খায়রুল ইসলাম বলেন, আমরা গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপদে আছি বন্যার পানিতে চারাঞ্চল ডুবে গেছে, কোথাও ঘাস নেই মহিষকে এখন শুধু ধানের শুকনো পোয়াল আর পানি খাওয়াচ্ছি। এদিকে, পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে তীব্র নদীভাঙন দেখা দিয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  টাঙ্গাইলে জেলা আইন-শৃঙ্খলা কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত

 

ভাঙনের কবলে পড়ে উপজেলার বিলমাড়ীয়া ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের নওসারা সুলতানপুর পদ্মার চরে চরাঞ্চলের প্রায় ৫০টি বসতঘর এবং বিপুল পরিমাণ ফসলি জমি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান হঠাৎ এ ভাঙনে ভিটেমাটি হারিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে অনেক পরিবার। লালপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা প্রীতম কুমার হোড় বলেন, আমরা চর এলাকা পরিদর্শন করেছি, পদ্মার পানি বৃদ্ধি হওয়ায় চর এলাকার বিভিন্ন ফসল ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। পানি কমে গেলে প্রকৃত ক্ষয় ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণ করা যাবে। এবিষয়ে লালপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) মোঃ আবীর হোসেন বলেন, উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদ্মার পানি বৃদ্ধি এবং চরাঞ্চলের সার্বিক খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে, ইতিমধ্যে বিলমাড়িয়ার নওসারা সুলতানপুর চরে নদী ভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৩০ পরিবারের মধ্যে ৩০কেজি করে জিআর চাউল বিতরণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  শেরপুরে ভোক্তা অধিকারের অভিযান দুই বেকারিকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা