Dhaka ০৩:৫৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩০ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
পত্নীতলায় দুঃসাহসিক চুরি, উদ্ধার স্বর্ণালংকার কিশোরকণ্ঠ পাঠক ফোরামের উদ্যোগে কিশোরকণ্ঠ মেধাবৃত্তি পরীক্ষা– ২০২৬ এর আয়োজন করে কিশোরকণ্ঠ ফাউন্ডেশন চকরিয়ায় তিন সাংবাদিকের বিরুদ্ধে ১০ কোটি টাকার মানহানি মামলা ভোলায় কোস্ট গার্ডের অভিযান: ৪০ কেজি গাঁজাসহ দুই মাদক কারবারি আটক নগরকান্দায় দেশীয় মাছ রক্ষায় মৎস্য অধিদপ্তরের অভিযান: চায়না দুয়ারি জাল ধ্বংস ও ভেসাল উচ্ছেদ শ্রীপুরে সংরক্ষিত মহিলা এমপি’র মতবিনিময় সভা ও বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ। পলাশবাড়ীতে কিশোরগাড়ী ইউপি কমপ্লেক্স কার্যালয় পূর্বের সরকারি জায়গায় স্থাপনের দাবীতে বিশাল মানববন্ধন অনুষ্ঠিত লালপুরে শিক্ষার্থীদের মাঝে সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রীর বৃক্ষচারা বিতরণ কেরানীগঞ্জে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে পুলিশের বিশেষ অভিযান আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর পর্দা উঠছে ” চট্টগ্রাম রিজিওনাল টি- ২০ ক্রিকেট টুর্নামেন্টের

লামায় রাতের আঁধারে বনের কাঠ পাচার: রেঞ্জ কর্মকর্তার সামনেই ট্রাক বোঝাই, একাধিকবার ফোনেও মেলেনি সাড়া

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০১:২১:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৬৭ সময় দেখুন

মোঃ রাসেল বিশেষ প্রতিনিধি

বান্দরবানের লামা বন বিভাগের ডলুছড়ি রেঞ্জের আজিজনগর এলাকায় আইনের তোয়াক্কা না করে গতরাতে নির্বিচারে সরকারি বনজ সম্পদ পাচারের মারাত্মক ঘটনা ঘটেছে। রেঞ্জ বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের ঠিক সামনে প্রধান সড়কের ওপর প্রকাশ্যেই বড় ট্রাকে বিপুল পরিমাণ বনের গোল কাঠ বোঝাই করে পাচার করার সুনির্দিষ্ট চিত্র পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ডলুছড়ি রেঞ্জের দায়িত্বে থাকা রেঞ্জ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ এবং নিয়মিত অনৈতিক আর্থিক লেনদেন বা মাসোহারার মাধ্যমেই এই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বনাঞ্চল উজাড় করে চলেছে। সরকারি কার্যালয়ের মাত্র কয়েক গজ দূর দিয়ে প্রতি রাতে শত শত ঘনফুট মূল্যবান কাঠ পাচার হয়ে গেলেও বন কর্মকর্তাদের রহস্যজনক নীরবতা স্থানীয়দের মনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
“ফোন করলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “গতরাতে যখন প্রধান সড়কের ওপর ট্রাকে করে সরকারি বনের মূল্যবান গোল কাঠ বোঝাই করা হচ্ছিল, তখন আমি নিজেই রেঞ্জ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনকে ফোন করি। উনাকে কাঠ পাচারের সুনির্দিষ্ট লোকেশন বা স্পটটির কথা স্পষ্ট জানানোর পরেও উনি স্পটে আসেননি, এমনকি কোনো পদক্ষেপও নেননি। তিনি পুরোপুরি নীরব ভূমিকা পালন করেছেন।” প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কর্মকর্তাদের এই নির্বিকার ভূমিকার কারণেই পাচারকারীরা নির্ভয়ে সরকারি সম্পদ লুটে নিচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  সাঘাটা কচুয়া হিন্দুপাড়ার শ্রী শ্রী জগদ্ধাত্রী পূজার পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাস

এই বিষয়ে অভিযুক্ত ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের বক্তব্য জানার জন্য এবং ঘটনার রাতে কেন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি তা নিশ্চিত করতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায় এবং কোনো সাড়া না দেওয়ায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  বগুড়ায় পঞ্চম শ্রেণির ৪০% শিক্ষার্থী ইংরেজি পড়তে পারে না

হুমকিতে পার্বত্য জীববৈচিত্র্য:
পরিবেশবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, প্রজনন মৌসুমে এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে এভাবে অপরিপক্ব গাছ ও মূল্যবান বনজ সম্পদ উজাড় হতে থাকলে পার্বত্য অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য চরম হুমকির মুখে পড়বে। বন সুরক্ষায় নিয়োজিত রক্ষকরাই যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন বনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
তদন্ত ও কঠোর হস্তক্ষেপের দাবি:
এই প্রকাশ্য অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে সচেতন মহল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (DFO) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। বনের সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

আরও পড়ুনঃ  ফেনীতে আল হাতিম হজ্জ কাফেলার ওমরাহ প্রশিক্ষণ কর্মশালা ও দোয়া অনুষ্ঠিত
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

পত্নীতলায় দুঃসাহসিক চুরি, উদ্ধার স্বর্ণালংকার

লামায় রাতের আঁধারে বনের কাঠ পাচার: রেঞ্জ কর্মকর্তার সামনেই ট্রাক বোঝাই, একাধিকবার ফোনেও মেলেনি সাড়া

আপডেটের সময়: ০১:২১:১৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোঃ রাসেল বিশেষ প্রতিনিধি

বান্দরবানের লামা বন বিভাগের ডলুছড়ি রেঞ্জের আজিজনগর এলাকায় আইনের তোয়াক্কা না করে গতরাতে নির্বিচারে সরকারি বনজ সম্পদ পাচারের মারাত্মক ঘটনা ঘটেছে। রেঞ্জ বন কর্মকর্তার কার্যালয়ের ঠিক সামনে প্রধান সড়কের ওপর প্রকাশ্যেই বড় ট্রাকে বিপুল পরিমাণ বনের গোল কাঠ বোঝাই করে পাচার করার সুনির্দিষ্ট চিত্র পাওয়া গেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ডলুছড়ি রেঞ্জের দায়িত্বে থাকা রেঞ্জ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের প্রত্যক্ষ মদদ এবং নিয়মিত অনৈতিক আর্থিক লেনদেন বা মাসোহারার মাধ্যমেই এই সিন্ডিকেট দীর্ঘদিন ধরে বনাঞ্চল উজাড় করে চলেছে। সরকারি কার্যালয়ের মাত্র কয়েক গজ দূর দিয়ে প্রতি রাতে শত শত ঘনফুট মূল্যবান কাঠ পাচার হয়ে গেলেও বন কর্মকর্তাদের রহস্যজনক নীরবতা স্থানীয়দের মনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে।
“ফোন করলেও তিনি কোনো সাড়া দেননি”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, “গতরাতে যখন প্রধান সড়কের ওপর ট্রাকে করে সরকারি বনের মূল্যবান গোল কাঠ বোঝাই করা হচ্ছিল, তখন আমি নিজেই রেঞ্জ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনকে ফোন করি। উনাকে কাঠ পাচারের সুনির্দিষ্ট লোকেশন বা স্পটটির কথা স্পষ্ট জানানোর পরেও উনি স্পটে আসেননি, এমনকি কোনো পদক্ষেপও নেননি। তিনি পুরোপুরি নীরব ভূমিকা পালন করেছেন।” প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, কর্মকর্তাদের এই নির্বিকার ভূমিকার কারণেই পাচারকারীরা নির্ভয়ে সরকারি সম্পদ লুটে নিচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  ফটিকছড়িতে উপজেলা পরিষদের মাসিক সাধারণ ও আইন-শৃঙ্খলা সভা অনুষ্ঠিত,

এই বিষয়ে অভিযুক্ত ডলুছড়ি রেঞ্জ কর্মকর্তা আলতাফ হোসেনের বক্তব্য জানার জন্য এবং ঘটনার রাতে কেন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি তা নিশ্চিত করতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। তবে তিনি ফোন রিসিভ না করায় এবং কোনো সাড়া না দেওয়ায় তাঁর বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  সাঘাটা কচুয়া হিন্দুপাড়ার শ্রী শ্রী জগদ্ধাত্রী পূজার পুনঃপ্রতিষ্ঠার ইতিহাস

হুমকিতে পার্বত্য জীববৈচিত্র্য:
পরিবেশবিদরা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, প্রজনন মৌসুমে এবং সংরক্ষিত বনাঞ্চল থেকে এভাবে অপরিপক্ব গাছ ও মূল্যবান বনজ সম্পদ উজাড় হতে থাকলে পার্বত্য অঞ্চলের জীববৈচিত্র্য ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য চরম হুমকির মুখে পড়বে। বন সুরক্ষায় নিয়োজিত রক্ষকরাই যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন বনের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
তদন্ত ও কঠোর হস্তক্ষেপের দাবি:
এই প্রকাশ্য অনিয়ম ও দুর্নীতির বিষয়ে সচেতন মহল বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (DFO) এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। বনের সরকারি সম্পদ রক্ষা এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কঠোর হস্তক্ষেপ এখন সময়ের দাবি।

আরও পড়ুনঃ  অপহরণ মামলার পর সাংবাদিক ও তার ভাইকে হত্যার হুমকির অভিযোগ