Dhaka ১১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
কুলিয়ারচরে সংবর্ধিত ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আদিল মিয়া নোয়াপাড়া মডেল ইউনিয়নে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত আগামী কাল সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন সরকারি চলাচলের সড়ক দখল করে অবৈধভাবে বাউন্ডারি ওয়াল ও বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ বন্দর থানা এলাকায় আত্মসাথের ৫০ কার্টুন ক্রোকারিজ পণ্য ও গাড়ি উদ্ধার: আটক -২ মাগুরায় জেলা তথ্য অফিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, উন্নয়ন বিষয়ক প্রেস ব্রিফিংয়ে উপেক্ষিত ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানা অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা,উপজেলা ছাত্রসেনার স্মারকলিপি পেশ রাসিক প্রশাসকের নির্দেশে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীবান্ধব বেঞ্চ স্থাপন মনপুরায় সাবমেরিন ক্যাবলে বিদ্যুতের জন্য ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিসট্রিবিউশন এর মহাপরিকল্পনা সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জে ধানের হাটে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য

লক্ষীপুরে মসজিদ কমিটি নিয়ে বিরোধ: আইনজীবীর বিরুদ্ধে থানায় মারধরের অভিযোগ

কামরুল হাসান সদর লক্ষীপুর প্রতিনিধি: লক্ষীপুর সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের চরলামছি নতুন জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. ফারুক হোসেন পরান লক্ষীপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, লক্ষীপুর জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আমির হোসেন মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে আগ্রহ প্রকাশ করলে স্থানীয় মুসল্লিরা তাকে প্রত্যাখ্যান করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১ মে বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে চর লামছি নতুন জামে মসজিদের ভেতরে ফারুক হোসেনের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় ফারুক হোসেন পরান বাদী হয়ে অ্যাডভোকেট আমির হোসেন (৩০), মো. মাসুদ আলম ফরহাদ (৩৫) ও মো. শিবলু (২৫)-কে বিবাদী করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, পরবর্তীতে একই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে মসজিদের সামনে পুনরায় তাকে মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  হোসেনপুর-দেওয়ানগঞ্জ সড়কে বিপজ্জনক গর্ত, আজও উল্টে গেল বালুবাহী ট্রাক

 

 

আহত ফারুক হোসেন লক্ষীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের রেজিস্টার অনুযায়ী তার চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, জুমার নামাজের পর মসজিদ কমিটির পদ নিয়ে বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট আমির হোসেন। তিনি দাবি করেন, ফারুক হোসেনের কাছে তার প্রায় ১৮ লাখ টাকা পাওনা ১ লাখ টাকা ক্ষমা করা হয় বাকি ১৭ লাখ টাকার মধ্যে ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করলেও আর ৭ লাখ টাকা এখনো পরিশোধ করেনি এ নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যা মসজিদ কমিটি সংক্রান্ত বিরোধ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। লক্ষীপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান পাটোয়ারী বলেন, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। কোনো আইনজীবী অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে সমিতির পক্ষ থেকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

আরও পড়ুনঃ  তাঁত শিল্পের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনব"- বিএনপির মহাসচিব কন্যা ড. শামারুহ মির্জা

 

লক্ষীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজিব জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে মারধরের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে স্থানীয়ভাবে মসজিদ কমিটির সভাপতি এবং এডভোকেট আমির হোসেনের বড় ভাই এডভোকেট মুরাদ হোসেন মিলে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি রক্ষায় সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান: গয়েশ্বর চন্দ্র রায়ের
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

কুলিয়ারচরে সংবর্ধিত ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আদিল মিয়া

লক্ষীপুরে মসজিদ কমিটি নিয়ে বিরোধ: আইনজীবীর বিরুদ্ধে থানায় মারধরের অভিযোগ

আপডেটের সময়: ০৮:১৫:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৪ মে ২০২৬

কামরুল হাসান সদর লক্ষীপুর প্রতিনিধি: লক্ষীপুর সদর উপজেলার চররুহিতা ইউনিয়নের চরলামছি নতুন জামে মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদকে কেন্দ্র করে বিরোধের জেরে এক আইনজীবীর বিরুদ্ধে মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী মো. ফারুক হোসেন পরান লক্ষীপুর মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগে বলা হয়, লক্ষীপুর জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. আমির হোসেন মসজিদ কমিটির সাধারণ সম্পাদক পদে আগ্রহ প্রকাশ করলে স্থানীয় মুসল্লিরা তাকে প্রত্যাখ্যান করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে গত ১ মে বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে চর লামছি নতুন জামে মসজিদের ভেতরে ফারুক হোসেনের ওপর হামলা চালানো হয়। এ সময় তাকে এলোপাতাড়ি কিল-ঘুষি ও লাথি মেরে শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। এ ঘটনায় ফারুক হোসেন পরান বাদী হয়ে অ্যাডভোকেট আমির হোসেন (৩০), মো. মাসুদ আলম ফরহাদ (৩৫) ও মো. শিবলু (২৫)-কে বিবাদী করে থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে বলা হয়, পরবর্তীতে একই দিন সন্ধ্যা ৬টার দিকে মসজিদের সামনে পুনরায় তাকে মারধর করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

আরও পড়ুনঃ  শহীদ জিয়ার মাজারে ভোলা জেলা ছাত্রদলের নবগঠিত কমিটির শ্রদ্ধাঞ্জলি

 

 

আহত ফারুক হোসেন লক্ষীপুর সদর হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। হাসপাতালের জরুরি বিভাগের রেজিস্টার অনুযায়ী তার চিকিৎসা নেওয়ার তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, জুমার নামাজের পর মসজিদ কমিটির পদ নিয়ে বিরোধের জেরে এ হামলার ঘটনা ঘটে। তবে এ বিষয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন অভিযুক্ত অ্যাডভোকেট আমির হোসেন। তিনি দাবি করেন, ফারুক হোসেনের কাছে তার প্রায় ১৮ লাখ টাকা পাওনা ১ লাখ টাকা ক্ষমা করা হয় বাকি ১৭ লাখ টাকার মধ্যে ১০ লাখ টাকা পরিশোধ করলেও আর ৭ লাখ টাকা এখনো পরিশোধ করেনি এ নিয়ে কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে, যা মসজিদ কমিটি সংক্রান্ত বিরোধ হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে। লক্ষীপুর আইনজীবী সমিতির সভাপতি অ্যাডভোকেট মনিরুজ্জামান পাটোয়ারী বলেন, “আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। কোনো আইনজীবী অপরাধ করলে তার বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কেউ লিখিত অভিযোগ দিলে সমিতির পক্ষ থেকেও বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

আরও পড়ুনঃ  তাঁত শিল্পের হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনব"- বিএনপির মহাসচিব কন্যা ড. শামারুহ মির্জা

 

লক্ষীপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ওয়াহিদ পারভেজ জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্তে একজন কর্মকর্তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্তকারী কর্মকর্তা রাজিব জানান, প্রাথমিক অনুসন্ধানে মারধরের ঘটনার সত্যতা পাওয়া গেছে। তবে স্থানীয়ভাবে মসজিদ কমিটির সভাপতি এবং এডভোকেট আমির হোসেনের বড় ভাই এডভোকেট মুরাদ হোসেন মিলে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের একাংশ দ্রুত সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

আরও পড়ুনঃ  মাগুরায় স্পিড ব্রেকার পুনঃস্থাপন ও গতি নিয়ন্ত্রণের দাবিতে মানববন্ধন