Dhaka ১২:৩১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ৩০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বিদায় নিলেন ইতিহাসের এক জীবন্ত অধ্যায় বীর বীরাঙ্গনা টেপরী রানী কুলিয়ারচরে সংবর্ধিত ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আদিল মিয়া নোয়াপাড়া মডেল ইউনিয়নে বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা বাস্তবায়ন কমিটির সভা অনুষ্ঠিত আগামী কাল সম্মিলিত সাংবাদিক পরিষদ (এসএসপি)-এর কার্যনির্বাহী পরিষদ নির্বাচন সরকারি চলাচলের সড়ক দখল করে অবৈধভাবে বাউন্ডারি ওয়াল ও বাড়ি নির্মাণের অভিযোগ বন্দর থানা এলাকায় আত্মসাথের ৫০ কার্টুন ক্রোকারিজ পণ্য ও গাড়ি উদ্ধার: আটক -২ মাগুরায় জেলা তথ্য অফিসের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন, উন্নয়ন বিষয়ক প্রেস ব্রিফিংয়ে উপেক্ষিত ফটিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নানা অনিয়ম-অব্যবস্থাপনা,উপজেলা ছাত্রসেনার স্মারকলিপি পেশ রাসিক প্রশাসকের নির্দেশে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থীবান্ধব বেঞ্চ স্থাপন মনপুরায় সাবমেরিন ক্যাবলে বিদ্যুতের জন্য ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিসট্রিবিউশন এর মহাপরিকল্পনা

রংপুর শিশু হাসপাতাল চকচকে ভবন, শূন্য জনবল

মোঃ মনিরুজ্জামান ব্যুরো চিফ, রংপুর বিভাগ

ভবন নির্মাণের ৬ বছর পার হলেও এখনো চালু হয়নি রংপুরের ১০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল। প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসাসামগ্রীর অভাবে ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আধুনিক হাসপাতালটি কার্যত কোনো কাজে আসছে না। সম্প্রতি সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে হাসপাতালটি দ্রুত চালুর নির্দেশনা দেওয়া হলেও দাপ্তরিক চিঠি চালাচালি ছাড়া দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি নেই।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে রংপুর নগরীর সাবেক সদর হাসপাতাল এলাকায় ১০০ শয্যার এই শিশু হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংলগ্ন এই প্রকল্পে চিকিৎসক ও কর্মচারীদের জন্য ডরমেটরি ভবনসহ সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়। তবে নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় এটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। ২০২১ সালে করোনা মহামারি শুরু হলে ভবনটিকে ‘করোনা ডেডিকেটেড স্পেশালাইজড হাসপাতাল’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সে সময় ১৫ শয্যার আইসিইউসহ মোট ৩০টি শয্যা চালু ছিল। মহামারি শেষে গত ৪ বছর ধরে হাসপাতালটি আবারও স্থবির হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আধুনিক ভবনটি এখন জনশূন্য। আইসিইউ ইউনিটে থাকা কোটি টাকার যন্ত্রপাতি বছরের পর বছর পড়ে থাকায় সেগুলো বিকল হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, একটি হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে চিকিৎসক, নার্স, আয়া ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিপুল জনবল প্রয়োজন। এখন সব প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করলেও হাসপাতালটি পুরোপুরি সচল করতে অন্তত এক বছর সময় লাগতে পারে।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি হাসপাতালটির বর্তমান অবস্থা ও প্রয়োজনীয় চাহিদা জানতে চাওয়া হয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে জনবল ও সরঞ্জামের চাহিদাপত্র এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. ওয়াজেদ আলী বলেন, “সরকারপ্রধানের নির্দেশনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে একটি ফরমেট পাঠানো হয়েছিল। আমরা গত সোমবার সব প্রয়োজনীয় তথ্য ও চাহিদা পূরণ করে পাঠিয়েছি। আশা করছি, দ্রুতই হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।”
এদিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, মেডিকেল কলেজের শিশু ওয়ার্ডে তিল ধারণের জায়গা নেই। ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় এক বিছানায় দুই-তিনজন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ডের তীব্র সংকট রয়েছে। ১০০ শয্যার এই বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালটি চালু হলে এই অঞ্চলের শিশুদের আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা সহজ হতো।

আরও পড়ুনঃ  পার্বত্য নারীদের ভাগ্যবদলই আমার মূল লক্ষ্য': সংসদ সদস্য মাধবী মার্মা
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

বিদায় নিলেন ইতিহাসের এক জীবন্ত অধ্যায় বীর বীরাঙ্গনা টেপরী রানী

রংপুর শিশু হাসপাতাল চকচকে ভবন, শূন্য জনবল

আপডেটের সময়: ০১:৪১:১২ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৩ মে ২০২৬

মোঃ মনিরুজ্জামান ব্যুরো চিফ, রংপুর বিভাগ

ভবন নির্মাণের ৬ বছর পার হলেও এখনো চালু হয়নি রংপুরের ১০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল। প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসাসামগ্রীর অভাবে ৩১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আধুনিক হাসপাতালটি কার্যত কোনো কাজে আসছে না। সম্প্রতি সরকারপ্রধানের পক্ষ থেকে হাসপাতালটি দ্রুত চালুর নির্দেশনা দেওয়া হলেও দাপ্তরিক চিঠি চালাচালি ছাড়া দৃশ্যত কোনো অগ্রগতি নেই।
স্বাস্থ্য বিভাগ সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে রংপুর নগরীর সাবেক সদর হাসপাতাল এলাকায় ১০০ শয্যার এই শিশু হাসপাতাল ভবন নির্মাণ করে স্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। সর্বাধুনিক সুযোগ-সুবিধা সংলগ্ন এই প্রকল্পে চিকিৎসক ও কর্মচারীদের জন্য ডরমেটরি ভবনসহ সব ধরনের ব্যবস্থা রাখা হয়। তবে নির্মাণের পর দীর্ঘ সময় এটি অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে ছিল। ২০২১ সালে করোনা মহামারি শুরু হলে ভবনটিকে ‘করোনা ডেডিকেটেড স্পেশালাইজড হাসপাতাল’ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। সে সময় ১৫ শয্যার আইসিইউসহ মোট ৩০টি শয্যা চালু ছিল। মহামারি শেষে গত ৪ বছর ধরে হাসপাতালটি আবারও স্থবির হয়ে পড়েছে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, আধুনিক ভবনটি এখন জনশূন্য। আইসিইউ ইউনিটে থাকা কোটি টাকার যন্ত্রপাতি বছরের পর বছর পড়ে থাকায় সেগুলো বিকল হওয়ার উপক্রম হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলছেন, একটি হাসপাতাল পূর্ণাঙ্গভাবে চালু করতে চিকিৎসক, নার্স, আয়া ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীসহ বিপুল জনবল প্রয়োজন। এখন সব প্রক্রিয়া দ্রুত শুরু করলেও হাসপাতালটি পুরোপুরি সচল করতে অন্তত এক বছর সময় লাগতে পারে।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে সম্প্রতি হাসপাতালটির বর্তমান অবস্থা ও প্রয়োজনীয় চাহিদা জানতে চাওয়া হয়েছে। বিভাগীয় স্বাস্থ্য দপ্তর থেকে জনবল ও সরঞ্জামের চাহিদাপত্র এরই মধ্যে মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
রংপুর বিভাগীয় স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক ডা. ওয়াজেদ আলী বলেন, “সরকারপ্রধানের নির্দেশনার পর স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে একটি ফরমেট পাঠানো হয়েছিল। আমরা গত সোমবার সব প্রয়োজনীয় তথ্য ও চাহিদা পূরণ করে পাঠিয়েছি। আশা করছি, দ্রুতই হাসপাতালটির কার্যক্রম শুরু করা সম্ভব হবে।”
এদিকে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান জানান, মেডিকেল কলেজের শিশু ওয়ার্ডে তিল ধারণের জায়গা নেই। ধারণক্ষমতার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি রোগী ভর্তি থাকায় এক বিছানায় দুই-তিনজন শিশুকে রেখে চিকিৎসা দিতে হচ্ছে। বিশেষ করে হামসহ বিভিন্ন সংক্রামক ব্যাধিতে আক্রান্ত শিশুদের জন্য আলাদা আইসোলেশন ওয়ার্ডের তীব্র সংকট রয়েছে। ১০০ শয্যার এই বিশেষায়িত শিশু হাসপাতালটি চালু হলে এই অঞ্চলের শিশুদের আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা সহজ হতো।

আরও পড়ুনঃ  কুলিয়ারচরে সংবর্ধিত ঢাকা মহানগর উত্তর ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আদিল মিয়া