Dhaka ০৪:২৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
নিরাপদ খাদ্য গড়ে তুলতে পারে সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম: খাদ্যমন্ত্রী রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চায় বাংলাদেশ: শামা ওবায়েদ পুলিশের সক্ষমতা বাড়াতে সাইবার সিকিউরিটি ইউনিট গঠনের পরিকল্পনা করা হচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বর্তমান সরকারের ‘৫ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর’ প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ভাদুরিয়া স্কুল অ্যান্ড কলেজে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি এসএসসির খাতা দেখায় গাফিলতি করা শিক্ষকদের শাস্তি হবে: শিক্ষামন্ত্রী কাজিপুরে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অফিসে মাসের পর মাস উড়ছে ছেঁড়া পতাকা কাদের-নাছিম-আরাফাত-পরশসহ ৭ জনের মৃত্যুদণ্ড মেয়র পদে ত্রিমুখী লড়াইয়ের পথে ঢাকা: তিন দলের ভিন্ন সমীকরণ ফরিদপুরে হিন্দু ছাত্র পরিষদের উদ্যোগে শুরু হয়েছে গণেশ পূজা চট্টগ্রামে ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে কেরাত, হামদ-নাত ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, আটোয়ারীর দোহসুহ দাখিল মাদ্রাসার বেহাল দশা,দেখার কেউ নেই

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০১:২৮:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৩৮ সময় দেখুন

মোঃ রমজান আলী আটোয়ারী উপজেলা (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি

পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের একটি ঐতিহ্যবাহী ও জনগুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—’দোহসুহ দাখিল মাদ্রাসা’। দীর্ঘ ৪ দশকেরও বেশি সময় ধরে এই প্রতিষ্ঠানটি অত্র অঞ্চলে দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসলেও বর্তমানে এটি চরম ভগ্নদশা/ অবহেলা, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আজ ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান বেহাল দশা দেখে মনে হচ্ছে, যেন এটি দেখার কেউ নেই।

১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এলাকার দরিদ্র ও সাধারণ পরিবারের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অন্যতম ভরসার স্থল হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে ও সুশাসনের অভাবে আজ প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত ও প্রশাসনিক অবস্থা শোচনীয় রূপ ধারণ করেছে। অদ্য ১৫/০৯/২০২৬ ইং তারিখে সরজমিনে দেখা যায় জরাজীর্ণ ভবন ও অবকাঠামোগত সংকট:
মাদ্রাসা ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য নির্মিত ক্লাসরুম গুলোর অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ঘরের টিন খসে খসে পড়ছে, বর্ষার মৌসুমে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অনেক ভবনের জানালা ও দরজা নেই বললেই চলে। পর্যাপ্ত বেঞ্চ এবং আসবাবপত্রের অভাবে শিক্ষার্থীরা গাদাগাদি করে বসে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে। তীব্র গরমে ফ্যান ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীরা ক্লাসে মনোযোগ হারাচ্ছে। অত্র প্রতিষ্ঠানে কোন সরকারি সুযোগ সুবিধা না থাকায় কোনো ধরনের সংস্কার কাজ না হওয়ায় এবং স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির অভাবে মাদ্রাসাটির শিক্ষার পরিবেশ দিন দিন তলানিতে গিয়ে ঠেকছে। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের সাথে কথা বলে জানা যায়, বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিকট মাদ্রাসাটির বেহাল দশা তুলে ধরে মেরামতের দাবি জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শুধু শ্রেণিকক্ষ সংকটই নয়, মাদ্রাসাটিতে ছাত্রীদের জন্যও রয়েছে নানা সমস্যা। পর্যাপ্ত ওয়াশরুম ও কমন রুম না থাকায় ছাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একটি ওয়াশরুমই ব্যবহার করতে হচ্ছে সবাইকে। এতে বিশেষ করে ছাত্রীদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  মেঘনা নদীর তীর ধসে নিখোঁজ দুই বন্ধুর একজনের মরদেহ উদ্ধার, নিখোঁজ ১ জন

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মাদ্রাসার অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো দীর্ঘদিন ধরে থাকলেও স্থায়ীভাবে এর সমাধান হয়নি। বৃষ্টি হলে ভাঙা টিনের কারণে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। অনেক সময় পাঠদান বন্ধ রাখতে হয়। পর্যাপ্ত ওয়াশরুম ও কমন রুম না থাকায় ছাত্রীদেরও সমস্যায় পড়তে হয়।

আরও পড়ুনঃ  নদীর পাড় ধসে নিখোঁজ বিজিবি সদস্যের মরদেহ উদ্ধার

শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর উপস্থিতিই যথেষ্ট নয় প্রয়োজন নিরাপদ ও উপযোগী শিক্ষা পরিবেশ। অথচ দোহসুহ দাখিল মাদ্রাসায় পর্যাপ্ত ভবন ও শ্রেণিকক্ষের অভাবে সেই পরিবেশই যেন অনুপস্থিত।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত মাদ্রাসাটির অবকাঠামোগত সমস্যা সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এমনটাই প্রত্যাশা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।
শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পাঠদানের সুযোগ নিশ্চিত করতে জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ সংস্কার, নতুন ভবন নির্মাণ এবং ছাত্রীদের জন্য পৃথক ওয়াশরুম ও কমন রুম স্থাপনের দাবি এখন সময়ের দাবি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের এলাকার সন্তানরা পড়াশোনার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত এই প্রতিষ্ঠানে ভবন সংস্কার করা না হলে এলাকার শিক্ষার হার মারাত্মকভাবে হোঁচট খাবে। একটি অবহেলিত জনপদের শিক্ষার আলো টিকিয়ে রাখতে দোহসুহ দাখিল মাদ্রাসার এই সংকট নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে সরকারের শিক্ষা বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। দ্রুত এই প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  ৪০ পরিবারের চলাচলের রাস্তা বন্ধ, দেয়াল-বেড়া টপকে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

নিরাপদ খাদ্য গড়ে তুলতে পারে সুস্থ ও সুন্দর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম: খাদ্যমন্ত্রী

ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান, আটোয়ারীর দোহসুহ দাখিল মাদ্রাসার বেহাল দশা,দেখার কেউ নেই

আপডেটের সময়: ০১:২৮:১৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মোঃ রমজান আলী আটোয়ারী উপজেলা (পঞ্চগড়) প্রতিনিধি

পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের একটি ঐতিহ্যবাহী ও জনগুরুত্বপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান—’দোহসুহ দাখিল মাদ্রাসা’। দীর্ঘ ৪ দশকেরও বেশি সময় ধরে এই প্রতিষ্ঠানটি অত্র অঞ্চলে দ্বীনি ও আধুনিক শিক্ষার আলো ছড়িয়ে আসলেও বর্তমানে এটি চরম ভগ্নদশা/ অবহেলা, কর্তৃপক্ষের উদাসীনতা এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে আজ ধ্বংসের মুখে পতিত হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান বেহাল দশা দেখে মনে হচ্ছে, যেন এটি দেখার কেউ নেই।

১৯৮০ সালে প্রতিষ্ঠিত এই মাদ্রাসাটি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই এলাকার দরিদ্র ও সাধারণ পরিবারের শিক্ষার্থীদের শিক্ষার অন্যতম ভরসার স্থল হিসেবে পরিচিত ছিল। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে ও সুশাসনের অভাবে আজ প্রতিষ্ঠানটির অবকাঠামোগত ও প্রশাসনিক অবস্থা শোচনীয় রূপ ধারণ করেছে। অদ্য ১৫/০৯/২০২৬ ইং তারিখে সরজমিনে দেখা যায় জরাজীর্ণ ভবন ও অবকাঠামোগত সংকট:
মাদ্রাসা ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের পাঠদানের জন্য নির্মিত ক্লাসরুম গুলোর অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ঘরের টিন খসে খসে পড়ছে, বর্ষার মৌসুমে ছাদ দিয়ে পানি পড়ে পাঠদান কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়। অনেক ভবনের জানালা ও দরজা নেই বললেই চলে। পর্যাপ্ত বেঞ্চ এবং আসবাবপত্রের অভাবে শিক্ষার্থীরা গাদাগাদি করে বসে ক্লাস করতে বাধ্য হচ্ছে। তীব্র গরমে ফ্যান ও পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় শিক্ষার্থীরা ক্লাসে মনোযোগ হারাচ্ছে। অত্র প্রতিষ্ঠানে কোন সরকারি সুযোগ সুবিধা না থাকায় কোনো ধরনের সংস্কার কাজ না হওয়ায় এবং স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারির অভাবে মাদ্রাসাটির শিক্ষার পরিবেশ দিন দিন তলানিতে গিয়ে ঠেকছে। স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের সাথে কথা বলে জানা যায়, বহুবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিকট মাদ্রাসাটির বেহাল দশা তুলে ধরে মেরামতের দাবি জানানো হলেও কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। শুধু শ্রেণিকক্ষ সংকটই নয়, মাদ্রাসাটিতে ছাত্রীদের জন্যও রয়েছে নানা সমস্যা। পর্যাপ্ত ওয়াশরুম ও কমন রুম না থাকায় ছাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। একটি ওয়াশরুমই ব্যবহার করতে হচ্ছে সবাইকে। এতে বিশেষ করে ছাত্রীদের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও ব্যক্তিগত গোপনীয়তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  ৪০ পরিবারের চলাচলের রাস্তা বন্ধ, দেয়াল-বেড়া টপকে ঝুঁকিপূর্ণ চলাচল

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, মাদ্রাসার অবকাঠামোগত সমস্যাগুলো দীর্ঘদিন ধরে থাকলেও স্থায়ীভাবে এর সমাধান হয়নি। বৃষ্টি হলে ভাঙা টিনের কারণে শ্রেণিকক্ষে পানি পড়ে। অনেক সময় পাঠদান বন্ধ রাখতে হয়। পর্যাপ্ত ওয়াশরুম ও কমন রুম না থাকায় ছাত্রীদেরও সমস্যায় পড়তে হয়।

আরও পড়ুনঃ  শ্রীপুরে সংরক্ষিত মহিলা এমপি'র মতবিনিময় সভা ও বিভিন্ন উপকরণ বিতরণ।

শিক্ষার মানোন্নয়নে শুধু শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর উপস্থিতিই যথেষ্ট নয় প্রয়োজন নিরাপদ ও উপযোগী শিক্ষা পরিবেশ। অথচ দোহসুহ দাখিল মাদ্রাসায় পর্যাপ্ত ভবন ও শ্রেণিকক্ষের অভাবে সেই পরিবেশই যেন অনুপস্থিত।
এ অবস্থায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত মাদ্রাসাটির অবকাঠামোগত সমস্যা সরেজমিনে পরিদর্শন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে এমনটাই প্রত্যাশা শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের।
শিক্ষার্থীদের নিরাপদ পরিবেশে পাঠদানের সুযোগ নিশ্চিত করতে জরাজীর্ণ শ্রেণিকক্ষ সংস্কার, নতুন ভবন নির্মাণ এবং ছাত্রীদের জন্য পৃথক ওয়াশরুম ও কমন রুম স্থাপনের দাবি এখন সময়ের দাবি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমাদের এলাকার সন্তানরা পড়াশোনার পরিবেশ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। দ্রুত এই প্রতিষ্ঠানে ভবন সংস্কার করা না হলে এলাকার শিক্ষার হার মারাত্মকভাবে হোঁচট খাবে। একটি অবহেলিত জনপদের শিক্ষার আলো টিকিয়ে রাখতে দোহসুহ দাখিল মাদ্রাসার এই সংকট নিরসনে জরুরি ভিত্তিতে সরকারের শিক্ষা বিভাগ, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী। দ্রুত এই প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও শিক্ষার পরিবেশ ফিরিয়ে আনার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।

আরও পড়ুনঃ  নদীর পাড় ধসে নিখোঁজ বিজিবি সদস্যের মরদেহ উদ্ধার