
মোবারক হোসাইন, কক্সবাজার জেলা: কক্সবাজারের ঈদগাঁও ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের কালিরছড়া গ্রাম। ২৫ শতাধিক ভোটারের জনপদ, শত শত শিক্ষার্থীর যাতায়াতের পথ এবং কৃষি সমৃদ্ধ এক এলাকা। অথচ উন্নয়নের মূলস্রোত থেকে যেন বিচ্ছিন্ন এই জনপদটি। উত্তরপাড়া, শিয়াপাড়া, অফিস মোড়া ও চরপাড়ার বাসিন্দারা বছরের পর বছর ধরে পড়ে আছেন চরম ভোগান্তিতে। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘ সময় পার হলেও কালিরছড়ার রাস্তাগুলোতে উন্নয়নের কোনো ছোঁয়া লাগেনি, যা এলাকাবাসীর জীবনযাত্রাকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।কালিরছড়ার বাসিন্দাদের কাছে রাস্তাটি এখন গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, কোনো ডেলিভারি রোগী বা গুরুতর অসুস্থ ব্যক্তিকে দ্রুত হাসপাতালে নিতে হলে এই ভাঙাচোরা রাস্তা পাড়ি দেওয়া এক দুঃসাধ্য কাজ হয়ে পড়ে। অ্যাম্বুলেন্স বা কোনো যানবাহন ঠিকমতো প্রবেশ করতে পারে না। ফলে সামান্য সময়ের পথ পাড়ি দিতে গিয়ে রোগীর অবস্থা আরও সংকটাপন্ন হয়ে পড়ে, যা অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানির ঝুঁকিও তৈরি করে।
কৃষিপ্রধান এই এলাকার উৎপাদিত পণ্য, বিশেষ করে কুলসহ অন্যান্য কৃষি ফসলের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তবে উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় কৃষিপণ্য বাজারজাত করতে গিয়ে কৃষকরা একদিকে যেমন বাড়তি পরিবহন ব্যয় গুনছেন, অন্যদিকে সময়মতো বাজারে পণ্য পৌঁছাতে না পেরে ন্যায্যমূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।স্থানীয় ভোটারদের অভিযোগ, প্রতিটি নির্বাচনের আগে প্রার্থীরা রাস্তা সংস্কারের বড় বড় প্রতিশ্রুতি দিলেও জয়ের পর তাদের আর খুঁজে পাওয়া যায় না। বছরের পর বছর ধরে জনপ্রতিনিধিদের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও মিলছে না সুরাহা। তাদের প্রশ্ন—”কালিরছড়াবাসীর কি কোনো জনপ্রতিনিধি নেই? জনগণের করের টাকায় উন্নয়নের বরাদ্দ কি তবে আমাদের এলাকায় পৌঁছাবে না?”
একটি উন্নত সমাজ বা গ্রাম গড়তে যোগাযোগ ব্যবস্থার কোনো বিকল্প নেই। কালিরছড়ার বাসিন্দারা আজ চরম ধৈর্য নিয়ে প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। অচিরেই রাস্তাগুলো চলাচল উপযোগী করে কালিরছড়াবাসীকে দীর্ঘদিনের এই অভিশপ্ত দুর্ভোগ থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানানো হচ্ছে।
প্রতিবেদকের নাম 



















