
ঘোড়াঘাট (দিনাজপুর) প্রতিনিধি | মোঃ রিফাত হোসেন: দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলায় ‘ডিবি (গোয়েন্দা) পুলিশ’ পরিচয়ে সংঘবদ্ধ একটি প্রতারক চক্র সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের লক্ষ্য করে প্রতারণা চালানোর অভিযোগ উঠেছে। মাদক মামলায় স্বজনদের আটকের ভয় দেখিয়ে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে টাকা আদায় করে নেওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, প্রতারকরা নিজেদের ডিবি পুলিশের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে ফোন করে দাবি করে যে, তাদের পরিবারের সদস্যকে বিপুল পরিমাণ ফেনসিডিলসহ আটক করা হয়েছে। মামলা থেকে রেহাই পেতে দ্রুত বিকাশ বা নগদের মাধ্যমে টাকা পাঠানোর জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়। স্বজনদের ব্যক্তিগত তথ্য ও পরিচয় ব্যবহার করায় অনেকেই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। এ ঘটনায় প্রতারণার শিকার হয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মাহবুবুর রহমান ধাপে ধাপে বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে মোট ৮৬ হাজার ৮০০ টাকা, নারায়ণপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শ্রীতি রানী সরকার ৬৭ হাজার টাকা এবং ওহিদা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মাহফুজা বেগম ৪১ হাজার টাকা প্রতারকদের কাছে পাঠান। পরে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তারা বুঝতে পারেন, পুরো ঘটনাই ছিল পরিকল্পিত প্রতারণা।
এরপর প্রতারকদের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে যোগাযোগের চেষ্টা করলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। একই কৌশলে আরও অন্তত ১৩ থেকে ১৪ জন শিক্ষককে ফোন করা হলেও তারা পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করায় প্রতারণার শিকার হননি। আজ (১০ জুলাই) সকাল ১০ ঘটিকায় প্রায় ১৫ থেকে ২০ জন ভুক্তভোগী শিক্ষক ও শিক্ষক প্রতিনিধি ঘোড়াঘাট থানায় গিয়ে পৃথক লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির সভাপতি মুশফিকুর রহমান বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের টার্গেট করে পরিকল্পিতভাবে এ প্রতারণা চালানো হয়েছে। জড়িতদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। ঘোড়াঘাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শহিদুল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। তিনি সবাইকে এ ধরনের ফোনকল পেলে আতঙ্কিত না হয়ে প্রথমে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই এবং দ্রুত নিকটস্থ থানাকে অবহিত করার আহ্বান জানান
প্রতিবেদকের নাম 


















