Dhaka ১০:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
তদন্তে নতুন প্রশ্ন: স্টোরে ওষুধ, তবুও রোগীকে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে কেন? ইপিজেডে ডক শ্রমিক আবাসিক কলোনি জামে মসজিদের ইমাম বিরুদ্ধে অপপ্রচার মুসল্লিদের মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সমাবেশ ফরিদপুরে  বটতলা বাজারে মোবাইল কোর্টে দুই বিরিয়ানি প্রতিষ্ঠানে ২০ হাজার টাকা জরিমানা তাহিরপুরে মানহানীকর বক্তব্যের প্রতিবাদে মানববন্ধন ও প্রতিবাদ সভা চিকিৎসাধীন সিনিয়ার সাংবাদিক শাহ্ আলম কে দেখতে হাসপাতালে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম ফরিদপুর ভাঙ্গায় সুমন শেখ হত্যার প্রতিবাদে মহাসড়ক অবরোধ ​হোসেনপুরে মাদকের বিরুদ্ধে ফুঁসে উঠেছে এলাকাবাসী হিরা চক্র’কে গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি বসুরহাট পৌরসভার ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের ১১৮ কোটি টাকার প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা মাগুরাতে হেফজ বিভাগে মাদ্রাসা ছেড়ে বেরিয়ে যায় শিক্ষার্থী ২ দিন পর উদ্ধার দীঘিনালায় ২০ পিস ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩

এক ট্র্যাজিক পরিণতির আড়ালে অভিভাবকত্বের দায়

​মোঃ কাইয়ুম হাসান, স্টাফ রিপোর্টার, ঠাকুরগাঁও

১৩ বছর ধরে চার দেয়ালের মাঝে বন্দি জীবন পার করছেন ঐশী। সাজা ভোগ করছেন নিজের বাবা-মা হত্যার দায়ে। কারাগারের লাইব্রেরিয়ান হিসেবে দায়িত্ব পালন আর ইংরেজি সাহিত্য পড়ার মাঝে সময় কাটলেও তার অন্তরালে লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘশ্বাস।

৩০ বছরের সাজা প্রাপ্ত এই তরুণী যখন মুক্ত হবেন, তখন তার বয়স হবে ৪৯। কারাগারের এই দীর্ঘ সময় এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা কেবল একজন মানুষের একার নয়, বরং এটি একটি সমাজের জন্য গভীর ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঐশীর গল্পটি কেবল একটি অপরাধের চিত্র নয়, এটি একটি করুণ বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। একজন মানুষ যে নিজের হাতেই পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়েছে তার আশ্রয়স্থল—বাবা-মাকে, তার পরবর্তী জীবন কাটে এক গভীর শূন্যতায়।

আরও পড়ুনঃ  পলাশবাড়ীতে নির্মাণাধীন রামমূর্তিসহ বিতর্কিত সকল মূর্তি অপসারণের দাবিতে স্মারকলিপি

সাধারণ বন্দিদের জন্য মুক্তির পর স্বজনদের অপেক্ষা থাকে, কিন্তু ঐশীর জন্য সেই অপেক্ষায় নেই কেউ। নেই বাবা, নেই মা—যাদের অস্তিত্বই সে মুছে দিয়েছিল নিজের হাতে। এই নির্মম বাস্তবতা যেমন অপরাধের ভয়াবহতা মনে করিয়ে দেয়, তেমনি প্রশ্ন তোলে আমাদের পারিবারিক কাঠামোর গভীরতা নিয়েও।

সম্প্রতি এই বিষাদময় বাস্তবতার সঙ্গে দক্ষিণ ভারতীয় নির্মাতা গুণশেখরের ‘ইউফোরিয়া’ সিনেমার গল্পের এক অদ্ভুত সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। সারা অর্জুন ও ভূমিকা চাওলা অভিনীত এই সিনেমাটিতে সন্তানের ভুল পথে চলে যাওয়া এবং সেই সংকট মোকাবিলায় মা-বাবার ভূমিকা ও নৈতিকতার এক অনন্য বয়ান উঠে এসেছে।

আরও পড়ুনঃ  মৌলভীবাজারে জমিজমার বিরোধে ভাইকে হত্যা: মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেফতার ৫

সিনেমার বার্তা অনুযায়ী, বাবা-মায়ের সঠিক মনোযোগ ও দিকনির্দেশনার অভাবে সন্তান অনেক সময় বিপথগামী হয়, কিন্তু অপরাধের পর সঠিক উপলব্ধি, অনুশোচনা এবং ক্ষমা পাওয়ার পথগুলোও সমাজ ও পরিবারের ওপর নির্ভর করে।

সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, ঐশীর বর্তমান দশা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, সন্তান বড় করার প্রক্রিয়ায় কেবল অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন বাবা-মায়ের সাথে সন্তানের মানসিক সেতুবন্ধন। বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের দায়িত্ববোধ এবং সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের মানসিক সমর্থন—এই দুইয়ের ভারসাম্যহীনতাই অনেক ক্ষেত্রে বড় ধরণের ট্র্যাজেডির জন্ম দেয়।

সমাজ থেকে এমন নির্মম পরিণতি ঠেকাতে হলে প্রয়োজন সচেতনতা। সাহিত্য, নাটক এবং সিনেমার মতো শক্তিশালী গণমাধ্যমগুলোকে বাবা-মা ও সন্তানের সম্পর্কের জটিলতা, মানসিক দূরত্ব এবং সংবেদনশীলতা নিয়ে আরও বেশি কাজ করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  ফরিদপুরে জেলা প্রশাসকের উদ্যোগে বিশ্ব শিশুশ্রম প্রতিরোধ দিবস- উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত

সমাজে যদি নিয়মিত এমন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়, তবেই হয়তো ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন প্রজন্মের পথচলা সুন্দর হতে পারে।
অন্যথায়, এমন অন্ধকার কক্ষ থেকে বারবার বেরিয়ে আসবে এমন সব ট্র্যাজিক সংবাদ—‘কারাগারে কেটেছে ১৩ বছর, আরও ১৭ বছরের অপেক্ষা’।

সময়ের প্রয়োজনে আমাদের ভাবতে শিখতে হবে—আমরা সন্তানদের কী দিচ্ছি, আর তাদের কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করছি। এই উপলব্ধিটুকুই হতে পারে আগামীর সুন্দর ও সহিংসতামুক্ত সমাজ গড়ার প্রথম ধাপ।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

তদন্তে নতুন প্রশ্ন: স্টোরে ওষুধ, তবুও রোগীকে বাইরে থেকে কিনতে হচ্ছে কেন?

এক ট্র্যাজিক পরিণতির আড়ালে অভিভাবকত্বের দায়

আপডেটের সময়: ১১:৫৫:৩৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬

​মোঃ কাইয়ুম হাসান, স্টাফ রিপোর্টার, ঠাকুরগাঁও

১৩ বছর ধরে চার দেয়ালের মাঝে বন্দি জীবন পার করছেন ঐশী। সাজা ভোগ করছেন নিজের বাবা-মা হত্যার দায়ে। কারাগারের লাইব্রেরিয়ান হিসেবে দায়িত্ব পালন আর ইংরেজি সাহিত্য পড়ার মাঝে সময় কাটলেও তার অন্তরালে লুকিয়ে আছে এক দীর্ঘশ্বাস।

৩০ বছরের সাজা প্রাপ্ত এই তরুণী যখন মুক্ত হবেন, তখন তার বয়স হবে ৪৯। কারাগারের এই দীর্ঘ সময় এবং ভবিষ্যতের অনিশ্চয়তা কেবল একজন মানুষের একার নয়, বরং এটি একটি সমাজের জন্য গভীর ভাবনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।

ঐশীর গল্পটি কেবল একটি অপরাধের চিত্র নয়, এটি একটি করুণ বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি। একজন মানুষ যে নিজের হাতেই পৃথিবী থেকে সরিয়ে দিয়েছে তার আশ্রয়স্থল—বাবা-মাকে, তার পরবর্তী জীবন কাটে এক গভীর শূন্যতায়।

আরও পড়ুনঃ  ডিমলায় জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন

সাধারণ বন্দিদের জন্য মুক্তির পর স্বজনদের অপেক্ষা থাকে, কিন্তু ঐশীর জন্য সেই অপেক্ষায় নেই কেউ। নেই বাবা, নেই মা—যাদের অস্তিত্বই সে মুছে দিয়েছিল নিজের হাতে। এই নির্মম বাস্তবতা যেমন অপরাধের ভয়াবহতা মনে করিয়ে দেয়, তেমনি প্রশ্ন তোলে আমাদের পারিবারিক কাঠামোর গভীরতা নিয়েও।

সম্প্রতি এই বিষাদময় বাস্তবতার সঙ্গে দক্ষিণ ভারতীয় নির্মাতা গুণশেখরের ‘ইউফোরিয়া’ সিনেমার গল্পের এক অদ্ভুত সাদৃশ্য খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে। সারা অর্জুন ও ভূমিকা চাওলা অভিনীত এই সিনেমাটিতে সন্তানের ভুল পথে চলে যাওয়া এবং সেই সংকট মোকাবিলায় মা-বাবার ভূমিকা ও নৈতিকতার এক অনন্য বয়ান উঠে এসেছে।

আরও পড়ুনঃ  রাঙ্গুনিয়ায় পরীক্ষার্থী ২ হাজার ১৮১ জন, কেন্দ্র ৩টি

সিনেমার বার্তা অনুযায়ী, বাবা-মায়ের সঠিক মনোযোগ ও দিকনির্দেশনার অভাবে সন্তান অনেক সময় বিপথগামী হয়, কিন্তু অপরাধের পর সঠিক উপলব্ধি, অনুশোচনা এবং ক্ষমা পাওয়ার পথগুলোও সমাজ ও পরিবারের ওপর নির্ভর করে।

সমাজ বিশ্লেষকদের মতে, ঐশীর বর্তমান দশা আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিচ্ছে যে, সন্তান বড় করার প্রক্রিয়ায় কেবল অর্থনৈতিক নিশ্চয়তা যথেষ্ট নয়। প্রয়োজন বাবা-মায়ের সাথে সন্তানের মানসিক সেতুবন্ধন। বাবা-মায়ের প্রতি সন্তানের দায়িত্ববোধ এবং সন্তানের প্রতি বাবা-মায়ের মানসিক সমর্থন—এই দুইয়ের ভারসাম্যহীনতাই অনেক ক্ষেত্রে বড় ধরণের ট্র্যাজেডির জন্ম দেয়।

সমাজ থেকে এমন নির্মম পরিণতি ঠেকাতে হলে প্রয়োজন সচেতনতা। সাহিত্য, নাটক এবং সিনেমার মতো শক্তিশালী গণমাধ্যমগুলোকে বাবা-মা ও সন্তানের সম্পর্কের জটিলতা, মানসিক দূরত্ব এবং সংবেদনশীলতা নিয়ে আরও বেশি কাজ করতে হবে।

আরও পড়ুনঃ  দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে মাঠে কাজ করার সময় বজ্রপাতে যুবকের মৃত্যু

সমাজে যদি নিয়মিত এমন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়, তবেই হয়তো ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে নতুন প্রজন্মের পথচলা সুন্দর হতে পারে।
অন্যথায়, এমন অন্ধকার কক্ষ থেকে বারবার বেরিয়ে আসবে এমন সব ট্র্যাজিক সংবাদ—‘কারাগারে কেটেছে ১৩ বছর, আরও ১৭ বছরের অপেক্ষা’।

সময়ের প্রয়োজনে আমাদের ভাবতে শিখতে হবে—আমরা সন্তানদের কী দিচ্ছি, আর তাদের কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করছি। এই উপলব্ধিটুকুই হতে পারে আগামীর সুন্দর ও সহিংসতামুক্ত সমাজ গড়ার প্রথম ধাপ।