Dhaka ০২:০৩ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬, ১০ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
বাঁশখালীতে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে তিন কন্যার পর সাগর মোল্লার ঘরে ফুটফুটে পুত্রসন্তানের জন্ম ​ রায়পুরে যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের কার্যক্রমের উদ্বোধন, দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্ব লালপুর থানার ওসি মোঃ শফিকুল ইসলামকে নাটোর জেলা পুলিশের সম্মাননা প্রদান জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫৪৮ ছাত্রীর হাতে বাইসাইকেল দিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ‎ মান্দায় কার্যক্রম নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের অপতৎপরতার প্রতিবাদে বিএনপির বিক্ষোভ মিছিল এক মহল্লায় তিন মেয়র প্রার্থী নিয়ে গ্যাঁড়াকলে সমর্থকরা নির্মাণের নয় বছর তালাবদ্ধ বরিশাল শিশু হাসপাতাল সালাহউদ্দিন সাহেব সব মন্ত্রণালয়ের পারদর্শী লোক: বিরোধীদলীয় নেতা জামালপুরের বকশিগঞ্জে ২১৭ বোতল ভারতীয় মদ সহ ছাত্রদল নেতা গ্রেপ্তার

এই সংসদের মূল্য দুই আনাও নেই ৫ বছর টিকবে কি না সন্দেহ: নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কোনো মূল্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, এই সংসদে বিরোধী দলের বক্তব্য কিংবা জনগণের কণ্ঠস্বরের কোনো মূল্যায়ন নেই। এটি এখন বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সংসদে পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংসদ পাঁচ বছর টিকবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি। আজ আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘১৬ বছর পরে যে সংসদ নির্বাচন হয়েছে, যেই নতুন জাতীয় সংসদ গঠিত হয়েছিল এই সংসদের মূল্য আর দুই আনাও নাই। এই জাতীয় সংসদ পাঁচ বছর টিকবে কি না, সন্দেহ আছে। কারণ এই জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের কথার কোনো মূল্যায়ন নাই। জনগণের কণ্ঠস্বরের কোনো মূল্যায়ন নাই। এই জাতীয় সংসদ হয়েছে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের সংসদ। সেটাই জাতীয় সংসদ, আর জনগণের জাতীয় সংসদ নাই।

 

সংসদে জনগণের কথা বলার সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘আমরা মনে করি, সংসদে আপনারা আমাদের পাঠিয়েছিলেন আপনাদের কথা বলার জন্য। সেখানে যেহেতু আমরা বলতে পারছি না, আমরা আবারও রাজপথে এসে দাঁড়িয়েছি। আমরা আবার আপনাদের কাছে এসে দাঁড়িয়েছি। বর্তমান সরকারকে ‘গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী’ আখ্যা দিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘সরকার গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী একটি সরকার। যদিও বর্তমান সরকারে যারা রয়েছে বিএনপি, তারা সেই সময় গণঅভ্যুত্থানে সঙ্গে ছিল। ছাত্রদলের বহু নেতাকর্মী আহত ও নিহত হয়েছেন। কিন্তু তাদের রাজনৈতিক নেতারা বিগত ১৬-১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপসে ছিলেন। ফলে আমরা দেখেছি, তাদের নেতাদের মধ্যে পরিবর্তনের কোনো আকাঙ্ক্ষা নাই। গত ৭-৮ মাসে তারা কোনো পরিবর্তন করেননি। গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘২০২৬ সালে যে নির্বাচন হয়েছে, সেই নির্বাচনে আপনারা দুটি ভোট দিয়েছিলেন। একটি গণভোট, আরেকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট। সেই গণভোটে আপনারা-আমরা সবাই মিলে হ্যাঁ ভোট দিয়েছিলাম। আমরা বলেছিলাম, হ্যাঁ হচ্ছে পরিবর্তন ও সংস্কারের প্রতীক। কিন্তু আপনারা দেখেছেন, নির্বাচনের পর যেইমাত্র ক্ষমতায় এসেছে— তারা জুলাই সনদকে অবজ্ঞা করেছে, গণভোটকে অস্বীকার করেছে। গণভোটকে অস্বীকার করার মাধ্যমে তারা গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

আরও পড়ুনঃ  জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫৪৮ ছাত্রীর হাতে বাইসাইকেল দিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ‎

বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘আমরা বিএনপি সরকারকে একটি জুলাই গাদ্দার সরকার বলতে পারি। যারা জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে ভুলিয়ে-মিশিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে পুরোনো বন্দোবস্তে নিয়ে গেছে। যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হয়, যদি সংস্কার বাস্তবায়ন না হয়, যদি দেশে বৈষম্য দূর না হয়, যদি চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস দূর না হয়, তাহলে শেখ হাসিনা কী দোষ করেছিলেন, এটা কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ এখন বলতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘কারণ তারেক রহমান এবং শেখ হাসিনার মধ্যে আর কোনো পার্থক্য নেই। তারেক রহমানও শেখ হাসিনার মতো অবৈধভাবে এখন ক্ষমতায় রয়েছেন। তারেক রহমান জনগণের ভোটাধিকার, গণভোটের যে ভোটাধিকার, সেই ভোটাধিকার হরণ করেছেন। তারা কোনোরকম একটি নির্বাচন করে রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করে দেশকে মাফিয়াদের হাতে তুলে দিয়েছেন। আজ সারা দেশে আমরা সেটার উদাহরণ দেখতে পাচ্ছি। জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘দেশে এলপিজি গ্যাসের দাম সরকারি হিসাবমতে ১ হাজার ৮০০ টাকা। কিন্তু আপনি খুচরা বাজারে গেলে সেটা ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় কিনতে হবে। নির্বাচনের পরেও যেটা ১ হাজার ২০০ টাকা ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিশ্বযুদ্ধ পরিস্থিতি ছিল, পুলিশের ভঙ্গুর অবস্থা ছিল। কিন্তু সেই সময় ছাত্র-জনতা সবাই মাঠে ছিলাম এবং দেশের পরিস্থিতি এতটা খারাপ হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  আজ থেকে রাত ৮টায় বন্ধ হবে দোকানপাট ও শপিং মল

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দেশে যে আজ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আপনারা নিজেরাই দেখতে পাচ্ছেন। আজ সকালেও আমরা দেখেছি, গায়ক আসিফ আকবরের গাড়িতে হামলা-ভাঙচুর হয়েছে। অর্থাৎ আপনি সমাজের যে স্তরের নাগরিকই হন না কেন, এই রাষ্ট্রে আপনার নিরাপত্তা নেই। এই সরকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছেন। মাদকের কারবার ও চাঁদাবাজির সঙ্গে বিএনপি নেতাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘মাদকের সবচেয়ে বড় সিন্ডিকেট এবং হটস্পটগুলো বিএনপির নেতাদের আওতায়, তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন। ফলে বিএনপির প্রতিমন্ত্রী যতই বন্দুক নিয়ে বের হোন, বিএনপি সরকারের পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি, আমাদের পরিবহন সেক্টরে নির্বিচারে চাঁদাবাজি চলে। এই সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী এলাকায় প্রত্যেকটি বাস, প্রত্যেকটি রুটের গাড়ি থেকে চাঁদা নেওয়া হয়। এই চাঁদার ভাগ কোথায় যায়? এই চাঁদার ভাগ এখনো কিছুটা আওয়ামী লীগ পায়, আর কিছুটা আমাদের নতুন বিএনপি পায়।’

আরও পড়ুনঃ  ইরানে প্রতীকী জেল খাঁচায় বন্দি ডনাল্ড ট্রাম্প!

আওয়ামী লীগ ভাগাভাগি করে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করছে’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের পকেটের টাকা নিয়ে যাচ্ছে। ফলে এই সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি দেশে চলতে পারে না। সে জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া, রাজপথে আসা ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই। জনগণকে আবারও রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘আমরা জানি, আপনারা আন্দোলন করতে করতে ক্লান্ত। গত ১৬ বছর আপনারা আন্দোলন করেছেন। আপনাদের আমরাই রাজপথে আহ্বান করেছিলাম। কিন্তু গণঅভ্যুত্থান বেহাত হয়েছে। গণঅভ্যুত্থান তারেক রহমান বেহাত করেছেন। সেই গণঅভ্যুত্থানকে আবার আমাদের নিজেদের কাছে নিয়ে আসার জন্য রাজপথে নামা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

বাঁশখালীতে উৎসবমুখর পরিবেশে প্রবারণা পূর্ণিমা উদযাপন

এই সংসদের মূল্য দুই আনাও নেই ৫ বছর টিকবে কি না সন্দেহ: নাহিদ ইসলাম

আপডেটের সময়: ১০:১৫:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কোনো মূল্য নেই বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, এই সংসদে বিরোধী দলের বক্তব্য কিংবা জনগণের কণ্ঠস্বরের কোনো মূল্যায়ন নেই। এটি এখন বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার সংসদে পরিণত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংসদ পাঁচ বছর টিকবে কি না, তা নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন তিনি। আজ আজ শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে লিফলেট বিতরণ ও গণসংযোগ কর্মসূচিতে তিনি এসব কথা বলেন। নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘১৬ বছর পরে যে সংসদ নির্বাচন হয়েছে, যেই নতুন জাতীয় সংসদ গঠিত হয়েছিল এই সংসদের মূল্য আর দুই আনাও নাই। এই জাতীয় সংসদ পাঁচ বছর টিকবে কি না, সন্দেহ আছে। কারণ এই জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের কথার কোনো মূল্যায়ন নাই। জনগণের কণ্ঠস্বরের কোনো মূল্যায়ন নাই। এই জাতীয় সংসদ হয়েছে বিএনপির দুই-তৃতীয়াংশের সংসদ। সেটাই জাতীয় সংসদ, আর জনগণের জাতীয় সংসদ নাই।

 

সংসদে জনগণের কথা বলার সুযোগ না পাওয়ার অভিযোগ তুলে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘আমরা মনে করি, সংসদে আপনারা আমাদের পাঠিয়েছিলেন আপনাদের কথা বলার জন্য। সেখানে যেহেতু আমরা বলতে পারছি না, আমরা আবারও রাজপথে এসে দাঁড়িয়েছি। আমরা আবার আপনাদের কাছে এসে দাঁড়িয়েছি। বর্তমান সরকারকে ‘গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী’ আখ্যা দিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘সরকার গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার পরিপন্থী একটি সরকার। যদিও বর্তমান সরকারে যারা রয়েছে বিএনপি, তারা সেই সময় গণঅভ্যুত্থানে সঙ্গে ছিল। ছাত্রদলের বহু নেতাকর্মী আহত ও নিহত হয়েছেন। কিন্তু তাদের রাজনৈতিক নেতারা বিগত ১৬-১৭ বছর ধরে আওয়ামী লীগের সঙ্গে আপসে ছিলেন। ফলে আমরা দেখেছি, তাদের নেতাদের মধ্যে পরিবর্তনের কোনো আকাঙ্ক্ষা নাই। গত ৭-৮ মাসে তারা কোনো পরিবর্তন করেননি। গণভোট ও জুলাই সনদ বাস্তবায়নের প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘২০২৬ সালে যে নির্বাচন হয়েছে, সেই নির্বাচনে আপনারা দুটি ভোট দিয়েছিলেন। একটি গণভোট, আরেকটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট। সেই গণভোটে আপনারা-আমরা সবাই মিলে হ্যাঁ ভোট দিয়েছিলাম। আমরা বলেছিলাম, হ্যাঁ হচ্ছে পরিবর্তন ও সংস্কারের প্রতীক। কিন্তু আপনারা দেখেছেন, নির্বাচনের পর যেইমাত্র ক্ষমতায় এসেছে— তারা জুলাই সনদকে অবজ্ঞা করেছে, গণভোটকে অস্বীকার করেছে। গণভোটকে অস্বীকার করার মাধ্যমে তারা গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে।

আরও পড়ুনঃ  ১৭ বছরে পুলিশের সঙ্গে জনগণের দূরত্ব তৈরি হয়েছিল : আইজিপি

বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ‘আমরা বিএনপি সরকারকে একটি জুলাই গাদ্দার সরকার বলতে পারি। যারা জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষাকে ভুলিয়ে-মিশিয়ে দিয়ে বাংলাদেশকে পুরোনো বন্দোবস্তে নিয়ে গেছে। যদি জুলাই সনদ বাস্তবায়ন না হয়, যদি সংস্কার বাস্তবায়ন না হয়, যদি দেশে বৈষম্য দূর না হয়, যদি চাঁদাবাজি-সন্ত্রাস দূর না হয়, তাহলে শেখ হাসিনা কী দোষ করেছিলেন, এটা কিন্তু বাংলাদেশের জনগণ এখন বলতে শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘কারণ তারেক রহমান এবং শেখ হাসিনার মধ্যে আর কোনো পার্থক্য নেই। তারেক রহমানও শেখ হাসিনার মতো অবৈধভাবে এখন ক্ষমতায় রয়েছেন। তারেক রহমান জনগণের ভোটাধিকার, গণভোটের যে ভোটাধিকার, সেই ভোটাধিকার হরণ করেছেন। তারা কোনোরকম একটি নির্বাচন করে রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করে দেশকে মাফিয়াদের হাতে তুলে দিয়েছেন। আজ সারা দেশে আমরা সেটার উদাহরণ দেখতে পাচ্ছি। জ্বালানি মূল্যের ঊর্ধ্বগতির প্রসঙ্গ তুলে নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘দেশে এলপিজি গ্যাসের দাম সরকারি হিসাবমতে ১ হাজার ৮০০ টাকা। কিন্তু আপনি খুচরা বাজারে গেলে সেটা ২ হাজার ৫০০ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকায় কিনতে হবে। নির্বাচনের পরেও যেটা ১ হাজার ২০০ টাকা ছিল। অন্তর্বর্তী সরকারের সময় বিশ্বযুদ্ধ পরিস্থিতি ছিল, পুলিশের ভঙ্গুর অবস্থা ছিল। কিন্তু সেই সময় ছাত্র-জনতা সবাই মাঠে ছিলাম এবং দেশের পরিস্থিতি এতটা খারাপ হয়নি।

আরও পড়ুনঃ  ঘাটাইলে ট্রাইকো ও ভার্মি কম্পোস্ট উৎপাদনে সফলতা: মেসার্স চায়না এগ্রো ফার্মের পরিবেশবান্ধব কৃষি বিপ্লব

আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘দেশে যে আজ আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, আপনারা নিজেরাই দেখতে পাচ্ছেন। আজ সকালেও আমরা দেখেছি, গায়ক আসিফ আকবরের গাড়িতে হামলা-ভাঙচুর হয়েছে। অর্থাৎ আপনি সমাজের যে স্তরের নাগরিকই হন না কেন, এই রাষ্ট্রে আপনার নিরাপত্তা নেই। এই সরকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছে এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্পূর্ণরূপে ব্যর্থ হয়েছেন। মাদকের কারবার ও চাঁদাবাজির সঙ্গে বিএনপি নেতাদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘মাদকের সবচেয়ে বড় সিন্ডিকেট এবং হটস্পটগুলো বিএনপির নেতাদের আওতায়, তাদের নিয়ন্ত্রণাধীন। ফলে বিএনপির প্রতিমন্ত্রী যতই বন্দুক নিয়ে বের হোন, বিএনপি সরকারের পক্ষে মাদক নির্মূল করা সম্ভব নয়। পরিবহন খাতে চাঁদাবাজির অভিযোগ করে তিনি বলেন, ‘আমরা দেখছি, আমাদের পরিবহন সেক্টরে নির্বিচারে চাঁদাবাজি চলে। এই সায়েদাবাদ-যাত্রাবাড়ী এলাকায় প্রত্যেকটি বাস, প্রত্যেকটি রুটের গাড়ি থেকে চাঁদা নেওয়া হয়। এই চাঁদার ভাগ কোথায় যায়? এই চাঁদার ভাগ এখনো কিছুটা আওয়ামী লীগ পায়, আর কিছুটা আমাদের নতুন বিএনপি পায়।’

আরও পড়ুনঃ  জাইমা রহমানের জন্মদিনে ৫৪৮ ছাত্রীর হাতে বাইসাইকেল দিলেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম ‎

আওয়ামী লীগ ভাগাভাগি করে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করছে’ উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের পকেটের টাকা নিয়ে যাচ্ছে। ফলে এই সন্ত্রাস ও নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি দেশে চলতে পারে না। সে জন্য আমাদের ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। ঐক্যবদ্ধ হওয়া ছাড়া, রাজপথে আসা ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প নেই। জনগণকে আবারও রাজপথে নামার আহ্বান জানিয়ে এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, ‘আমরা জানি, আপনারা আন্দোলন করতে করতে ক্লান্ত। গত ১৬ বছর আপনারা আন্দোলন করেছেন। আপনাদের আমরাই রাজপথে আহ্বান করেছিলাম। কিন্তু গণঅভ্যুত্থান বেহাত হয়েছে। গণঅভ্যুত্থান তারেক রহমান বেহাত করেছেন। সেই গণঅভ্যুত্থানকে আবার আমাদের নিজেদের কাছে নিয়ে আসার জন্য রাজপথে নামা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।