
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ ইরানের সাথে পূর্ণাঙ্গ সামরিক সংঘাতে জড়িয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন এক গোলকধাঁধায় আটকে গেছে। তেহরানকে একের পর এক বিমান হামলার হুমকি দেয়া সত্ত্বেও তাদের আলোচনার টেবিলে বাধ্য করতে ব্যর্থ হয়েছেন ট্রাম্প। একই সাথে স্থল যুদ্ধ পরিচালনা কিংবা সাগরে ইরানি নিয়ন্ত্রণকে মেনে নেয়ার মতো পথগুলোও ওয়াশিংটনের জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। এই পরিস্থিতিতে অচলাবস্থা কাটাতে নতুন কূটনৈতিক সূত্রের সন্ধান করছেন বিশ্লেষকরা।অধিকাংশের মত এই যে, শুধুমাত্র কূটনৈতিক উপায়েই এর সমাধান করা সম্ভব। চলমান সংকট ও বিশ্ব অর্থনীতিতে আঘাত: ইরান-মার্কিন এই যুদ্ধ কেবল দুই দেশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নেই। এতে বিশ্ব অর্থনীতি ও ভূ-রাজনীতিতে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘হরমুজ প্রণালি’ অবরুদ্ধ থাকার কারণে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি পেয়ে ব্যারেল প্রতি ৯০ ডলার ছাড়িয়েছে।
আসছে শীতে ইউরোপে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের তীব্র সংকটের পূর্বাভাস দেওয়া হচ্ছে। মধ্যপ্রাচ্যের উপসাগরীয় দেশগুলো এবং ইউরোপের রাষ্ট্রগুলো এই যুদ্ধের চরম পরোক্ষ ক্ষতির শিকার হচ্ছে। সিএনএন/এসএসআরএস-এর সাম্প্রতিক জনমত জরিপ অনুযায়ী, ট্রাম্পের ইরান নীতি ও মূল্যস্ফীতি ব্যবস্থাপনার ওপর দেশের মাত্র ৩০ ভাগ মানুষের সমর্থন রয়েছে। এটি আসন্ন নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান পার্টির জন্য বড় ধরনের বিপর্যয়ের ইঙ্গিত দিচ্ছে। প্রণালি নিয়ন্ত্রণে সম্ভাব্য কূটনৈতিক সমাধান, ‘হরমুজ ফি’: এই যুদ্ধ থামানো এবং বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক করার উদ্দেশ্যে ‘বোরস অ্যান্ড বাজার ফাউন্ডেশন’-এর একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রস্তাবে নতুন রূপরেখা সামনে আনা হয়েছে। প্রস্তাবে ওয়াশিংটন বা তেহরান কারো সরাসরি পরাজয় স্বীকার না করে একটি আন্তর্জাতিক বডি গঠনের কথা বলা হয়েছে। যেখানে ওমানসহ অন্যান্য উপসাগরীয় দেশ যুক্ত থাকবে। এটি কোনো সরাসরি ‘টোল’ বা মাশুল হবে না, বরং মালাক্কা প্রণালির মতো এখানেও জাহাজের নিরাপত্তা ও সুরক্ষার জন্য একটি ‘মেরিটাইম সার্ভিস ফি’ ধার্য করা যেতে পারে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, এতে বাৎসরিক প্রায় ২৬ মিলিয়ন ডলার রাজস্ব আসতে পারে, যা বিশ্ববাজারে তেলের অস্থিরতার তুলনায় অত্যন্ত সামান্য। ইরান এই কাঠামোর মাধ্যমে অর্থনৈতিক লাভের চেয়েও বড় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাবে, যা প্রমাণ করবে যুদ্ধ শেষে তারা সম্পূর্ণ পরাজিত হয়নি।
ইউরোপীয় শক্তি ও ট্রাম্পের কূটনীতির চ্যালেঞ্জ: ঐতিহাসিকভাবে যুক্তরাষ্ট্র তাদের মিত্রদের নিয়ে সংঘাতের সমাধান করে। তবে এবার ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতি এবং শুল্ক আরোপের কারণে ইউরোপীয় মিত্রদের সাথে দূরত্ব তৈরি হয়েছে। ফলে জার্মানি বা বৃটেনের মতো দেশগুলো এই যুদ্ধ নিরসনে সরাসরি জড়াচ্ছে না। তারা সাফ জানিয়ে দিয়েছে, যেকোনো সামরিক সহায়তা বা যৌথ কার্যক্রম তখনই শুরু হবে, যখন তেহরান ও ওয়াশিংটন স্পষ্ট যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হবে। হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থা কাটাতে এই যৌথ ব্যবস্থাপনা বা সার্ভিস ফির রূপরেখা একটি সম্ভাব্য পথ দেখালেও, মূল সংকট এখনো কাটেনি। ট্রাম্পের নীতিহীন অবস্থান এবং তেহরানের অনমনীয়তার কারণে তাৎক্ষণিক চুক্তি হওয়া কঠিন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সামনে বিকল্প পথ সীমিত থাকায় এবং বৈশ্বিক চাপ অব্যাহত থাকায়, কূটনৈতিক সমঝোতাই শেষ পর্যন্ত এই সংঘাতের একমাত্র সমাধান হতে পারে।
সিএনএনের বিশ্লেষণ
প্রতিবেদকের নাম 























