Dhaka ১০:০৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
সমবায়কে উপেক্ষা করে পল্লী উন্নয়ন নয়: জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস কমিটিতে ইউসিসিএ সভাপতিদের বাদ দেওয়া কেন উদ্বেগজনক কুড়িগ্রামে ল্যাম্পি স্কিন ডিজিজ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক সভা ও ভ্যাকসিন কার্যক্রম সাঘাটায় বজ্রপাতে মা-ছেলের মর্মান্তিক মৃত্যু, ছয় মাসের শিশুকে নিয়ে দিশেহারা পুত্রবধূ বগুড়া শহর বাইপাস করে নতুন রেলপথের উদ্যোগ কেন্দুয়ায় ৫শ টাকা পাওনার বিরোধে একজনকে কুপিয়ে হত্যা! মা-ছেলে আটক পবায় গ্রাম আদালতের সেবা সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধিতে বার্ষিক ক্যাম্পেইন অনুষ্ঠিত মাদারগঞ্জে নিজ ঘরে বিষাক্ত সাপের কামড়ে, ছোট্ট শিশুর মৃত্যু ধমকিয়ে-পিটিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকা যায় না: মির্জা ফখরুল নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে বাংলাদেশ বিদ্যুতের দাম বাড়লো

আলীকদমে রাস্তা ও গাইড ওয়াল নির্মাণে মহাদুর্নীতি

মোঃরাসেল বিশেষ প্রতিনিধি: বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ২নং চৈক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডে পিআইও কার্যালয়ের অধীনে নির্মাণাধীন গ্রামীণ সড়ক ও গাইড ওয়াল প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র সামনে এসেছে। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে, প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই, নির্মাণের মাত্র কয়েকদিনের মাথায় গাইড ওয়ালের বিভিন্ন অংশ ভেঙে ও ফেটে চৌচির হয়ে গেছে।সরকারি ছুটি ও প্রকৌশলীর অনুপস্থিতির কারণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজ বন্ধ রাখার স্পষ্ট নির্দেশ থাকলেও, তা তোয়াক্কা না করে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে দেদারসে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বিতর্কিত ঠিকাদার মোঃ মোজাম্মেল।স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যে গাইড ওয়াল নির্মাণের কয়েকদিন না যেতেই ভেঙে পড়ছে, সেই কাজের পুরো বিল উঠে যাওয়ার পর রাস্তার কী অবস্থা হবে? বর্ষা শুরু হলে এই নামমাত্র দেওয়াল ধসে পুরো রাস্তা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। এটি সরকারি অর্থ হরিলুটের একটি বড় দুর্নীতির চিত্র।”এদিকে চলমান কাজের এই মহাদুর্নীতি এবং প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্যের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ঠিকাদার মোঃ মোজাম্মেল সরাসরি ঔদ্ধত্যপূর্ণ কণ্ঠে জানান, “প্রকল্পের বাজেট অনুমোদনের পর থেকেই আমাদের কাজ নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলছে। এখানে কোনো ধরনের বাধা-বিপত্তি আমরা মানি না।

আরও পড়ুনঃ  বাউফলে টাকা চাওয়া কে কেন্দ্র করে মা'রা'মা'রিতে নি'হত ১, আহ'ত ৩, গ্রেফ'তার- ৪

 

কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো মহলের কথায় বা হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ রাখার কোনো সুযোগ নেই।”ঠিকাদারের এমন বেপরোয়া ও প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া মন্তব্যের পরও প্রকল্পের মূল তদারককারী কর্মকর্তা, আলীকদম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) রহস্যজনক নীরবতা বজায় রেখেছেন। তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, যা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠছে।সরেজমিনে ও প্রাপ্ত চিত্রে দেখা যায়, পাহাড়ের মাটির চাপ ধরে রাখার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এই গাইড ওয়ালে ২ ও ৩ নম্বর গ্রেডের নড়বড়ে ও ভাঙা ইট ব্যবহার করা হয়েছে। সিমেন্ট-বালুর অনুপাত নামমাত্র দিয়ে শুধু মাটি ও বালু দিয়ে ফাঁকা স্থান ভরাট করার কারণে দেওয়ালটি এখনই ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। একই সাথে রাস্তার মূল নির্মাণ কাজেও সিডিউল নীতিমালার কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না।আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাময়িকভাবে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন নেই। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি—অবিলম্বে এই চোখের সামনের লুটপাট বন্ধ করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক এবং এই বড় দুর্নীতির সাথে জড়িত ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে কোস্টগার্ডের সফল অভিযান
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

সমবায়কে উপেক্ষা করে পল্লী উন্নয়ন নয়: জাতীয় পল্লী উন্নয়ন দিবস কমিটিতে ইউসিসিএ সভাপতিদের বাদ দেওয়া কেন উদ্বেগজনক

আলীকদমে রাস্তা ও গাইড ওয়াল নির্মাণে মহাদুর্নীতি

আপডেটের সময়: ০৮:১৫:২৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২ জুন ২০২৬

মোঃরাসেল বিশেষ প্রতিনিধি: বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ২নং চৈক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদের ১নং ওয়ার্ডে পিআইও কার্যালয়ের অধীনে নির্মাণাধীন গ্রামীণ সড়ক ও গাইড ওয়াল প্রকল্পে ভয়াবহ অনিয়ম ও দুর্নীতির চিত্র সামনে এসেছে। পরিস্থিতি এতটাই নাজুক যে, প্রকল্পের কাজ পুরোপুরি শেষ হওয়ার আগেই, নির্মাণের মাত্র কয়েকদিনের মাথায় গাইড ওয়ালের বিভিন্ন অংশ ভেঙে ও ফেটে চৌচির হয়ে গেছে।সরকারি ছুটি ও প্রকৌশলীর অনুপস্থিতির কারণে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে কাজ বন্ধ রাখার স্পষ্ট নির্দেশ থাকলেও, তা তোয়াক্কা না করে অত্যন্ত নিম্নমানের সামগ্রী দিয়ে দেদারসে কাজ চালিয়ে যাচ্ছেন বিতর্কিত ঠিকাদার মোঃ মোজাম্মেল।স্থানীয় ভুক্তভোগী বাসিন্দারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “যে গাইড ওয়াল নির্মাণের কয়েকদিন না যেতেই ভেঙে পড়ছে, সেই কাজের পুরো বিল উঠে যাওয়ার পর রাস্তার কী অবস্থা হবে? বর্ষা শুরু হলে এই নামমাত্র দেওয়াল ধসে পুরো রাস্তা নিশ্চিহ্ন হয়ে যাবে। এটি সরকারি অর্থ হরিলুটের একটি বড় দুর্নীতির চিত্র।”এদিকে চলমান কাজের এই মহাদুর্নীতি এবং প্রশাসনের নিষেধাজ্ঞা অমান্যের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ঠিকাদার মোঃ মোজাম্মেল সরাসরি ঔদ্ধত্যপূর্ণ কণ্ঠে জানান, “প্রকল্পের বাজেট অনুমোদনের পর থেকেই আমাদের কাজ নিয়মতান্ত্রিকভাবে চলছে। এখানে কোনো ধরনের বাধা-বিপত্তি আমরা মানি না।

আরও পড়ুনঃ  চট্টগ্রামের কর্ণফুলী নদীতে কোস্টগার্ডের সফল অভিযান

 

কাজ পুরোপুরি শেষ না হওয়া পর্যন্ত কোনো মহলের কথায় বা হস্তক্ষেপে কাজ বন্ধ রাখার কোনো সুযোগ নেই।”ঠিকাদারের এমন বেপরোয়া ও প্রশাসনকে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দেওয়া মন্তব্যের পরও প্রকল্পের মূল তদারককারী কর্মকর্তা, আলীকদম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) রহস্যজনক নীরবতা বজায় রেখেছেন। তার মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি, যা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠছে।সরেজমিনে ও প্রাপ্ত চিত্রে দেখা যায়, পাহাড়ের মাটির চাপ ধরে রাখার জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এই গাইড ওয়ালে ২ ও ৩ নম্বর গ্রেডের নড়বড়ে ও ভাঙা ইট ব্যবহার করা হয়েছে। সিমেন্ট-বালুর অনুপাত নামমাত্র দিয়ে শুধু মাটি ও বালু দিয়ে ফাঁকা স্থান ভরাট করার কারণে দেওয়ালটি এখনই ধসে পড়ার উপক্রম হয়েছে। একই সাথে রাস্তার মূল নির্মাণ কাজেও সিডিউল নীতিমালার কোনো তোয়াক্কা করা হচ্ছে না।আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাময়িকভাবে কাজ বন্ধের নির্দেশ দিলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন নেই। ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর দাবি—অবিলম্বে এই চোখের সামনের লুটপাট বন্ধ করে তদন্ত কমিটি গঠন করা হোক এবং এই বড় দুর্নীতির সাথে জড়িত ঠিকাদার ও সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।

আরও পড়ুনঃ  কুলিয়ারচরে অজ্ঞাত যুবকের মরদেহ উদ্ধার