
এন এস ফারুক স্টাফ রিপোর্টার রংপুর: রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা ও প্রশাসনের জারিকৃত ফৌজদারী কার্যবিধির ১৪৫ ধারার আদেশ অমান্য করে পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত জমি জোরপূর্বক বেদখল, ফসল নষ্ট, শ্লীলতাহানি ও প্রাণনাশের হুমকির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী চক্রের বিরুদ্ধে। উপজেলার ১নং আলমপুর ইউনিয়নের খোর্দ্দ বেলাইচন্ডি (সরদারপাড়া) গ্রামে এই ঘটনা ঘটে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী মোছাঃ জেসমিন আক্তার (৩৩) বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় একাধিক ব্যক্তির নাম উল্লেখ করে একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার খোর্দ্দ বেলাইচন্ডি গ্রামের মোছাঃ জেসমিন আক্তারের পিতা আব্দুল জব্বার পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ১ একর ৬৮ শতক জমি দীর্ঘ দিন ধরে ভোগদখল করে আসছিলেন। কিন্তু স্থানীয় আনিছুল ইসলাম, মোঃ আলী, মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিকসহ একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে উক্ত জমি জোরপূর্বক দখল করার পাঁয়তারা চালাচ্ছিল এবং জেসমিন ও তার পরিবারকে বসতভিটা থেকে উচ্ছেদের হুমকি দিয়ে আসছিল। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী পরিবার বিজ্ঞ আদালতের দ্বারস্থ হলে আদালত উক্ত জমিতে আসামীদের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। পরবর্তীতে মামলা নং-এমআর ১১৮৬/২৫ এর প্রেক্ষিতে বিজ্ঞ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-০২, রংপুর গত ১৭/০৬/২০২৬ তারিখে উক্ত ১ একর ৬৮ শতক সম্পত্তিতে আসামীদের প্রবেশাধিকার বারিত করে ফৌজদারী কার্যবিধি ১৪৫ ধারার আদেশ জারি করেন।
এরই ধারাবাহিকতায়, গত ১৩/০৭/২০২৫ তারিখে বিজ্ঞ আদালতের আদেশে আইনিভাবে তারাগঞ্জ উপজেলা ম্যাজিস্ট্রেট, কোর্ট নাজির, সেনাবাহিনী ও তারাগঞ্জ থানার পুলিশ সদস্য এবং সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে একটি উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে জমিটি প্রকৃত মালিকের দখলে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।তবে অভিযোগকারী জানান, ১৪৪/১৪৫ ধারার রায় আমরা ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে দেওয়ায় আদালতের আদেশে আমরা গত ০৯/০৭/২০২৬ তারিখে জমিতে চাষাবাদের জন্য যাই। বিকেল আনুমানিক ০৪:৩০ ঘটিকায় বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে আদালতের আদেশ অমান্য করে জোরপূর্বক পুনরায় উক্ত সম্পত্তিতে প্রবেশ করে। তারা জমিতে থাকা ৪১ শতক জমির ধানের চারা উপড়ে ফেলে প্রায় ৬০,০০০ টাকার ক্ষতিসাধন করে এবং অবশিষ্ট ৬৬ শতক জমিতে থাকা নেট জাল ও সিমেন্টের পিলার উপড়ে ফেলে জমি বেদখলের চেষ্টা চালায়। এ সময় জেসমিন আক্তার ও তার পরিবারের সদস্যরা বাধা দিতে গেলে বিবাদীরা দেশীয় অস্ত্র দ্বারা তাদের হত্যার চেষ্টা করে এবং জেসমিনের চুলের মুঠি ধরে টানা-হেঁচড়া করে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখমসহ শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালায়। জেসমিনের প্রবীণ বাবা আব্দুল জব্বার তাকে বাঁচাতে এগিয়ে আসলে বিবাদীরা তাকে ধাক্কা দিয়ে মাটির মধ্যে ফেলে দেয়। বিবাদীরা যাওয়ার সময় ভুক্তভোগীদের খুন করে লাশ গুম করা এবং রাস্তায় একাকী পেলে সম্মানহানির হুমকি প্রদর্শন করে। বর্তমানে পুরো ভুক্তভোগী পরিবারটি চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলেও জানান।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী মোছাঃ আফরোজা বেগম, মোছাঃ রিনা বেগম এবং মোঃ মতিউল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। ভুক্তভোগী পরিবারটি জমি উদ্ধার ও আসামীদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের নিকট আকুল আবেদন জানিয়েছে। এ বিষয়ে তারাগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) রুহুল আমিন জানান, “অভিযোগপত্রটি আমরা পেয়েছি। বিষয়টি তদন্তপূর্বক দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।”
প্রতিবেদকের নাম 


















