Dhaka ১১:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৩১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন ৮ জন কাউনিয়ায় মাদক খেয়ে মাতলামী দুই যুবকের কারাদণ্ড নরসিংদীর রায়পুরায় দৌলতকান্দি রেলস্টেশনে মালবাহী ট্রেনের বগি লাইনচ্যুত দৈনিক সকালের শিরোনামের ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি নাজমুল ইসলামের জন্মদিন পালিত কেরানীগঞ্জে সেলুনে ঢুকে মাছ ব্যবসায়ীকে হত্যা শরীয়তপুরে আল-মাদানী নূরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসার ষষ্ঠ বার্ষিকী উপলক্ষে ইসলামিক সাংস্কৃতিক ও প্রতিযোগিতা লামায় রেজিস্ট্রিকৃত দানপত্রের জায়গায় ঘর নির্মাণে বাধা নাগরপুরে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, পুড়ল ৩ দোকান ঝিনাইদহে মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সম্পত্তি দখলের হুমকির অভিযোগ নাটোরে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর স্বাস্থ্য অধিকার নিশ্চিতে সমন্বিত উদ্যোগের আহ্বান

হাজারীবাগে বিশাল হাসপাতাল, নেই চিকিৎসাসেবা

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৪:৫৩:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৪৪ সময় দেখুন

 নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মা ও শিশুর চিকিৎসাসেবার জন্য নয় তলা ভবন, আধুনিক যন্ত্রপাতি, অপারেশন থিয়েটার-সবই আছে। নেই শুধু কাক্সিক্ষত চিকিৎসাসেবা। রাজধানীর হাজারীবাগের কোম্পানিঘাট বেড়িবাঁধ এলাকার শহীদ রমিজ উদ্দিন মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসক অনুপস্থিতি, ওষুধ না পাওয়া, অপারেশন থিয়েটার তালাবদ্ধ থাকা এবং অব্যবস্থাপনার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সরকারি অর্থে নির্মিত এ হাসপাতাল থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসার জন্য অন্যত্র ছুটতে হচ্ছে এলাকার মানুষকে।সরেজমিনে দেখা যায় আজ ১৩ সেপ্টেম্বর, রবিবার, হাসপাতালের চতুর্থ থেকে নবম তলার বিভিন্ন অংশ কার্যত অচল। কক্ষগুলোয় ধুলাময়লা জমে আছে। দীর্ঘদিন আধুনিক যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ অপারেশন থিয়েটার তালাবদ্ধ। ফলে প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার ও প্রসূতিসেবা ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালের জেনারেটর ব্যবহার না করার অভিযোগও রয়েছে। এতে রোগী ও গর্ভবতী নারীদের সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের জন্য নির্মিত ১০ তলা ডরমিটরির বিভিন্ন কক্ষে বহিরাগতদের বসবাসের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আউটসোর্সিং কর্মীদের কেউ কেউ কক্ষ দখল করে থাকছেন, আবার কোনো কোনো কক্ষ ভাড়া দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। হাসপাতালের নবম তলায়ও আউটসোর্সিং কর্মীদের বসবাস করতে দেখা গেছে। এতে হাসপাতালের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়েও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। পরপর দুই দিন সরেজমিন গিয়েও কোনো চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি। দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক সেলিনা আক্তার লিপির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে জানান, অসুস্থতার কারণে ছুটিতে ছিলেন এবং এক সপ্তাহ আগে কাজে যোগ দিয়েছেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, হাজিরা খাতায় চিকিৎসকদের স্বাক্ষর থাকলেও নিয়মিত ডিউটিতে তাঁদের পাওয়া যায় না। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় ভুক্তভোগী শারমিন আক্তার বলেন, কয়েকবার হাসপাতালে গিয়েও নির্ধারিত সময়ে ওষুধ পাননি। সন্তানকে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। পরে গর্ভাবস্থায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সন্তান জন্মের পর শিশুর চিকিৎসার জন্য আবার এ হাসপাতালে গেলেও প্রয়োজনীয় ওষুধ বা মলম পাননি বলে জানান তিনি। আরেক ভুক্তভোগী নুরুন্নাহার জানান, গর্ভবতী বোনকে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসক না পাওয়ার পাশাপাশি শিশুর চিকিৎসায়ও সেবা পাননি। রহিমা আক্তারের অভিযোগ, কয়েকবার হাসপাতালে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও ওষুধ না পেয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতালের চিকিৎসক উপস্থিতি, হাজিরা, ওষুধ বিতরণ, অপারেশন থিয়েটারের ব্যবহার, আউটসোর্সিং কর্মীদের দায়িত্ব এবং ডরমিটরি ব্যবস্থাপনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবদুল বাতেন বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘হাসপাতালটি ৫০ শয্যার ঘোষণা পেলেও জনবল ছিল ১০ শয্যার জন্য। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকলে সেবা দেওয়া কঠিন।

আরও পড়ুনঃ  মাদারগঞ্জে ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও এডিস মশা নিধনে বিশেষ র‍্যালি ও পরিচ্ছন্নতা অভিযান
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

আলোচিত নুসরাত হত্যা মামলায় কাশিমপুর কারাগার থেকে মুক্তি পেলেন ৮ জন

হাজারীবাগে বিশাল হাসপাতাল, নেই চিকিৎসাসেবা

আপডেটের সময়: ০৪:৫৩:৪৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

 নিজস্ব প্রতিবেদকঃ মা ও শিশুর চিকিৎসাসেবার জন্য নয় তলা ভবন, আধুনিক যন্ত্রপাতি, অপারেশন থিয়েটার-সবই আছে। নেই শুধু কাক্সিক্ষত চিকিৎসাসেবা। রাজধানীর হাজারীবাগের কোম্পানিঘাট বেড়িবাঁধ এলাকার শহীদ রমিজ উদ্দিন মা ও শিশুকল্যাণ কেন্দ্রে চিকিৎসক অনুপস্থিতি, ওষুধ না পাওয়া, অপারেশন থিয়েটার তালাবদ্ধ থাকা এবং অব্যবস্থাপনার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। সরকারি অর্থে নির্মিত এ হাসপাতাল থাকা সত্ত্বেও চিকিৎসার জন্য অন্যত্র ছুটতে হচ্ছে এলাকার মানুষকে।সরেজমিনে দেখা যায় আজ ১৩ সেপ্টেম্বর, রবিবার, হাসপাতালের চতুর্থ থেকে নবম তলার বিভিন্ন অংশ কার্যত অচল। কক্ষগুলোয় ধুলাময়লা জমে আছে। দীর্ঘদিন আধুনিক যন্ত্রপাতিসমৃদ্ধ অপারেশন থিয়েটার তালাবদ্ধ। ফলে প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার ও প্রসূতিসেবা ব্যাহত হচ্ছে। বিদ্যুৎ চলে গেলে হাসপাতালের জেনারেটর ব্যবহার না করার অভিযোগও রয়েছে। এতে রোগী ও গর্ভবতী নারীদের সিঁড়ি দিয়ে ওঠানামা করতে হয়। হাসপাতালের চিকিৎসক ও কর্মীদের জন্য নির্মিত ১০ তলা ডরমিটরির বিভিন্ন কক্ষে বহিরাগতদের বসবাসের অভিযোগ পাওয়া গেছে। আউটসোর্সিং কর্মীদের কেউ কেউ কক্ষ দখল করে থাকছেন, আবার কোনো কোনো কক্ষ ভাড়া দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। হাসপাতালের নবম তলায়ও আউটসোর্সিং কর্মীদের বসবাস করতে দেখা গেছে। এতে হাসপাতালের নিরাপত্তা ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। চিকিৎসকদের উপস্থিতি নিয়েও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। পরপর দুই দিন সরেজমিন গিয়েও কোনো চিকিৎসককে পাওয়া যায়নি। দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক সেলিনা আক্তার লিপির সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে জানান, অসুস্থতার কারণে ছুটিতে ছিলেন এবং এক সপ্তাহ আগে কাজে যোগ দিয়েছেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, হাজিরা খাতায় চিকিৎসকদের স্বাক্ষর থাকলেও নিয়মিত ডিউটিতে তাঁদের পাওয়া যায় না। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় ভুক্তভোগী শারমিন আক্তার বলেন, কয়েকবার হাসপাতালে গিয়েও নির্ধারিত সময়ে ওষুধ পাননি। সন্তানকে নিয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। পরে গর্ভাবস্থায় শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সন্তান জন্মের পর শিশুর চিকিৎসার জন্য আবার এ হাসপাতালে গেলেও প্রয়োজনীয় ওষুধ বা মলম পাননি বলে জানান তিনি। আরেক ভুক্তভোগী নুরুন্নাহার জানান, গর্ভবতী বোনকে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসক না পাওয়ার পাশাপাশি শিশুর চিকিৎসায়ও সেবা পাননি। রহিমা আক্তারের অভিযোগ, কয়েকবার হাসপাতালে গিয়ে দীর্ঘক্ষণ অপেক্ষা করেও ওষুধ না পেয়ে ফিরে আসতে হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, হাসপাতালের চিকিৎসক উপস্থিতি, হাজিরা, ওষুধ বিতরণ, অপারেশন থিয়েটারের ব্যবহার, আউটসোর্সিং কর্মীদের দায়িত্ব এবং ডরমিটরি ব্যবস্থাপনা তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তরের উপপরিচালক মো. আবদুল বাতেন বলেন, ‘অভিযোগের বিষয়ে বিভাগীয় তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ তিনি বলেন, ‘হাসপাতালটি ৫০ শয্যার ঘোষণা পেলেও জনবল ছিল ১০ শয্যার জন্য। প্রয়োজনীয় জনবল না থাকলে সেবা দেওয়া কঠিন।

আরও পড়ুনঃ  ইসলামী ব্যাংকের সামনে ফের সংঘর্ষ, আহত অর্ধশত