
সোহেল আমিন , ধামরাই (ঢাকা): ঢাকার ধামরাইয়ে এলপিজি গ্যাসের অতিরিক্ত মূল্য আদায় ও সরবরাহ সংকটের অভিযোগে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ ভোক্তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা। সরকারি নির্ধারিত দামের চেয়ে ৬০০ থেকে ৯০০ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে ১২ কেজির গ্যাস সিলিন্ডার। এতে সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।
বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) গত ২ নভেম্বর থেকে ১২ কেজির এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ২২৩ টাকা বাড়িয়ে ২ হাজার ৬০ টাকা নির্ধারণ করেছে। এর আগে এই সিলিন্ডারের দাম ছিল ১ হাজার ৮৩৭ টাকা।
তবে শুক্রবার (৬ নভেম্বর) সরেজমিনে ধামরাইয়ের বিভিন্ন বাজার ঘুরে দেখা যায়, সরকারি নির্ধারিত মূল্যের তোয়াক্কা না করে খুচরা দোকানগুলোতে ১২ কেজির প্রতিটি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ২ হাজার ৭০০ থেকে ৩ হাজার টাকা পর্যন্ত। নির্ধারিত দামে গ্যাস কিনতে চাইলে অনেক বিক্রেতা সরবরাহ সংকটের অজুহাত দেখাচ্ছেন বলে অভিযোগ ক্রেতাদের।
এদিকে গ্যাসের বাড়তি দামে সংসারের ব্যয় সামলাতে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য রান্নার গ্যাস কেনা এখন বাড়তি আর্থিক চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে বিপাকে পড়েছেন স্থানীয় হোটেল-রেস্তোরাঁর মালিক ও ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা।
ব্যবসায়ী ও গৃহিণীদের অভিযোগ, গ্যাসের দাম বেড়ে যাওয়ায় রান্নার খরচও বেড়েছে। অন্যদিকে বাড়তি ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে ব্যবসায়ীরা খাবারের দাম বাড়ানোর চিন্তা করছেন। এতে শেষ পর্যন্ত বাড়তি খরচের বোঝা গিয়ে পড়ছে সাধারণ ক্রেতাদের ওপর।
স্থানীয় ভোক্তাদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত দাম কার্যকর না থাকায় একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী ইচ্ছেমতো মূল্য আদায় করছেন। গ্যাসের কৃত্রিম সংকটের অজুহাত দেখিয়ে বেশি দাম নেওয়া হলেও বাজারে এর যথাযথ তদারকি দেখা যাচ্ছে না।
এ অবস্থায় এলপিজি গ্যাসের অতিরিক্ত দাম আদায় বন্ধ, সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং সরকারি নির্ধারিত মূল্যে সিলিন্ডার বিক্রি নিশ্চিত করতে প্রশাসনের দ্রুত বাজার মনিটরিং ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান জোরদারের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
তাঁদের প্রত্যাশা, অসাধু ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি গ্যাসের বাজারে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি কমাতে দ্রুত পদক্ষেপ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
প্রতিবেদকের নাম 
























