Dhaka ০৫:৫৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৩ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
শেখ হাসিনার আর আপিলের সুযোগ নেই : চিফ প্রসিকিউটর দেশে ৫৮ হাজারের বেশি চিকিৎসকের ঘাটতি রয়েছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী ঢাকা দক্ষিণের ভোটার হলেন নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী উপজেলাভিত্তিক সব ইউনিয়ন পরিষদের ভোট একসঙ্গে হবে: ইসি সচিব সরকারি চাকরি থেকে চূড়ান্তভাবে বরখাস্ত হওয়ার প্রায় সাত বছর পর,চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাঁশের পণ্যেই চাঁন মিয়ার অদম্য সংগ্রাম পদ্মার গ্রাসে শত বিঘা জমি, শেষ আশ্রয়টুকুও হারানোর শঙ্কা সারাদেশে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির অংশ হিসেবেমধুখালীতে দুই কিলোমিটার সড়কে তালগাছের চারা রোপণ নবাবগঞ্জে আনসার-ভিডিপির তালগাছ রোপণ কর্মসূচি দারিদ্র্য বিমোচনে বিএনপি সবসময় চ্যাম্পিয়ন: রিজভী

ঈদ-উল-আযহায় নৌপথে সার্বিক নিরাপত্তা দিচ্ছে কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন

মোঃ শরিফ হোসেন, ভোলা জেলা, প্রতিনিধি

আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে উপকূলীয় নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন রোধ, ঘাটে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং কোরবানির পশুর নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করতে জোনের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সার্বক্ষণিক টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
রবিবার (২৪ মে ২০২৬) সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ঘাটগুলোতে কঠোর নজরদারি ও ডুবুরি দল প্রস্তুত
কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোঃ আরিফ হোসেন জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে নৌপথে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ভোলার ইলিশা, খেয়াঘাট, ভেদুরিয়া, নাজিরপুর, চৌমূহনী; লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাট, আলেকজান্ডার; বরিশালের ডিসি ঘাট, উলানীয়া, পুরাতন হিজলা; পটুয়াখালীর আলীপুর, কালাপাড়া, বাউশিয়া; নোয়াখালীর তমরুদ্দি, রাম নেওয়াজ এবং বরগুনার কাকচিড়া ও পাথরঘাটাসহ গুরুত্বপূর্ণ সকল লঞ্চ, খেয়া ও ফেরি ঘাটে কোস্ট গার্ডের সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের নৌ-দুর্ঘটনা মোকাবিলায় কোস্ট গার্ডের দক্ষ ডুবুরি দল এবং উচ্চগতিসম্পন্ন বোট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পশুর হাট ও চোরাচালান রোধে বিশেষ অভিযান
নৌপথে চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইসহ যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা গরু, মহিষসহ অন্যান্য কোরবানির পশুর নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করতে এবং পশু চোরাচালান দমনে কোস্ট গার্ডের একাধিক বিশেষ টহল টিম নিয়োজিত রয়েছে।
জনসচেতনতা ও যাত্রী নিরাপত্তা
লঞ্চ ও অন্যান্য নৌযানে অতিরিক্ত যাত্রী বহনজনিত দুর্ঘটনা রোধে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে ঘাটগুলোতে নিয়মিত মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। একই সাথে যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরিধান নিশ্চিতকরণ এবং ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করতে লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করা হচ্ছে। দুর্ঘটনা এড়াতে বিআইডব্লিউটিএ নির্ধারিত স্থান ব্যতীত ছোট বোট বা ট্রলারে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাত্রী ওঠানামা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তার জন্য কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জরুরি সেবা নম্বর: ১৬১১১ (যেকোনো নৌ-দুর্ঘটনা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তাৎক্ষণিক তথ্যের জন্য)
বিআইডব্লিউটিএ-এর কন্ট্রোল রুমের সাথে সমন্বয় করে কোস্ট গার্ডের প্রতিনিধিরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। সন্দেহজনক ব্যক্তি ও নৌযানে তল্লাশিসহ যাত্রীদের ব্যাগ স্ক্যানিংয়ের আওতা বাড়ানো হয়েছে।
কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন জানিয়েছে, দেশবাসী যেন একটি নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারেন এবং ঈদ শেষে নিরাপদে কর্মস্থলে ফিরতে পারেন, সেজন্য এই বিশেষ নিরাপত্তা কার্যক্রম ঈদ পরবর্তী সময় পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুনঃ  পত্নীতলায় মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে পুলিশ
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

শেখ হাসিনার আর আপিলের সুযোগ নেই : চিফ প্রসিকিউটর

ঈদ-উল-আযহায় নৌপথে সার্বিক নিরাপত্তা দিচ্ছে কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন

আপডেটের সময়: ১২:৪৭:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৪ মে ২০২৬

মোঃ শরিফ হোসেন, ভোলা জেলা, প্রতিনিধি

আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষ্যে উপকূলীয় নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং ঘরমুখো মানুষের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে বিশেষ নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে বাংলাদেশ কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন। অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহন রোধ, ঘাটে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ এবং কোরবানির পশুর নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করতে জোনের গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে সার্বক্ষণিক টহল ও গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।
রবিবার (২৪ মে ২০২৬) সকালে কোস্ট গার্ড মিডিয়া কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কমান্ডার সাব্বির আলম সুজন এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
ঘাটগুলোতে কঠোর নজরদারি ও ডুবুরি দল প্রস্তুত
কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোনের জোনাল কমান্ডার ক্যাপ্টেন মোঃ আরিফ হোসেন জানান, ঈদকে কেন্দ্র করে নৌপথে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশেষ নিরাপত্তা পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর অংশ হিসেবে ভোলার ইলিশা, খেয়াঘাট, ভেদুরিয়া, নাজিরপুর, চৌমূহনী; লক্ষ্মীপুরের মজুচৌধুরীর হাট, আলেকজান্ডার; বরিশালের ডিসি ঘাট, উলানীয়া, পুরাতন হিজলা; পটুয়াখালীর আলীপুর, কালাপাড়া, বাউশিয়া; নোয়াখালীর তমরুদ্দি, রাম নেওয়াজ এবং বরগুনার কাকচিড়া ও পাথরঘাটাসহ গুরুত্বপূর্ণ সকল লঞ্চ, খেয়া ও ফেরি ঘাটে কোস্ট গার্ডের সার্বক্ষণিক টহল জোরদার করা হয়েছে। যেকোনো ধরনের নৌ-দুর্ঘটনা মোকাবিলায় কোস্ট গার্ডের দক্ষ ডুবুরি দল এবং উচ্চগতিসম্পন্ন বোট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
পশুর হাট ও চোরাচালান রোধে বিশেষ অভিযান
নৌপথে চুরি, ডাকাতি, চাঁদাবাজি ও ছিনতাইসহ যেকোনো ধরনের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে শূন্য সহনশীলতা (জিরো টলারেন্স) নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা গরু, মহিষসহ অন্যান্য কোরবানির পশুর নিরাপদ পরিবহন নিশ্চিত করতে এবং পশু চোরাচালান দমনে কোস্ট গার্ডের একাধিক বিশেষ টহল টিম নিয়োজিত রয়েছে।
জনসচেতনতা ও যাত্রী নিরাপত্তা
লঞ্চ ও অন্যান্য নৌযানে অতিরিক্ত যাত্রী বহনজনিত দুর্ঘটনা রোধে কোস্ট গার্ডের পক্ষ থেকে ঘাটগুলোতে নিয়মিত মাইকিং ও লিফলেট বিতরণ করা হচ্ছে। একই সাথে যাত্রীদের লাইফ জ্যাকেট পরিধান নিশ্চিতকরণ এবং ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন না করতে লঞ্চ কর্তৃপক্ষকে বাধ্য করা হচ্ছে। দুর্ঘটনা এড়াতে বিআইডব্লিউটিএ নির্ধারিত স্থান ব্যতীত ছোট বোট বা ট্রলারে ঝুঁকিপূর্ণভাবে যাত্রী ওঠানামা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এছাড়া, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতিতে সহায়তার জন্য কোস্ট গার্ডের জরুরি সেবা নম্বর ১৬১১১-এ যোগাযোগ করার জন্য অনুরোধ জানানো হয়েছে।
জরুরি সেবা নম্বর: ১৬১১১ (যেকোনো নৌ-দুর্ঘটনা বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তাৎক্ষণিক তথ্যের জন্য)
বিআইডব্লিউটিএ-এর কন্ট্রোল রুমের সাথে সমন্বয় করে কোস্ট গার্ডের প্রতিনিধিরা সার্বক্ষণিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন। সন্দেহজনক ব্যক্তি ও নৌযানে তল্লাশিসহ যাত্রীদের ব্যাগ স্ক্যানিংয়ের আওতা বাড়ানো হয়েছে।
কোস্ট গার্ড দক্ষিণ জোন জানিয়েছে, দেশবাসী যেন একটি নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে ঈদ উদযাপন করতে পারেন এবং ঈদ শেষে নিরাপদে কর্মস্থলে ফিরতে পারেন, সেজন্য এই বিশেষ নিরাপত্তা কার্যক্রম ঈদ পরবর্তী সময় পর্যন্ত মাঠ পর্যায়ে কঠোরভাবে অব্যাহত থাকবে।

আরও পড়ুনঃ  জুলাই গণঅভ্যুত্থানের প্রত্যাশা বাস্তবায়নের লক্ষ্যে এই লং মার্চ সফল করতে প্রস্তুত ১১ দলীয় ঐক্য জোট