
এম. আজাদ খাঁন,স্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া: বগুড়া শহরের উপকণ্ঠে করতোয়া নদীর তীরের জঙ্গলঘেরা দুর্গম এলাকায় শুক্রবার (১ আগস্ট) রাত ১১টার দিকে কথিত একটি সন্ত্রাসী চক্রের গোপন আস্তানায় অভিযান চালিয়েছে জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ। এ সময় চক্রের কথিত প্রধানসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি বিদেশি রিভলবার, দেশীয় অস্ত্র, মাদক, নগদ টাকা এবং নির্যাতনে ব্যবহারের অভিযোগ থাকা উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন একটি বৈদ্যুতিক শকার উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।ডিবি পুলিশ জানায়, বগুড়া সদর উপজেলার ঠেঙ্গামারা এলাকার সীমান্তবর্তী করতোয়া নদীর তীরে একটি পেপার মিল ও টিএমএসএস কারখানার পেছনের নির্জন স্থানে তাঁবু ও পলিথিন দিয়ে অস্থায়ী আস্তানা গড়ে দীর্ঘদিন ধরে একটি চক্র অবস্থান করছিল। পুলিশ দাবি করছে, চক্রটি মাদক কারবারের পাশাপাশি অপহরণ, ভয়ভীতি প্রদর্শন এবং নির্যাতনের মাধ্যমে অর্থ আদায়সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিল।
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার মির্জা সায়েম মাহমুদের নির্দেশনা ও তত্ত্বাবধানে ডিবি পুলিশের একটি দল সেখানে অভিযান চালায়। অভিযানে চক্রের কথিত প্রধান রকি, তাঁর সহযোগী রাকিবসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে চক্রের আরও পাঁচ থেকে সাত সদস্য করতোয়া নদী সাঁতরে পালিয়ে যায় বলে জানিয়েছে ডিবি।পুলিশের ভাষ্য, অভিযানে একটি বিদেশি রিভলবার, তিনটি চায়নিজ কুড়াল, একটি ধারালো চাপাতি, কয়েকটি দেশীয় অস্ত্র, বিপুল পরিমাণ মাদক এবং মাদক বিক্রির নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া ২৫ হাজার ভোল্ট ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বৈদ্যুতিক শকার জব্দ করা হয়েছে। ডিবির দাবি, অপহরণ করে আনা ব্যক্তিদের ওপর নির্যাতনে এই শকার ব্যবহার করা হতো।ডিবি পুলিশের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর ইকবাল বাহার বলেন, গ্রেপ্তার হওয়া রকি ও রাকিবের বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক ও ফেনসিডিল-সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে। তাঁরা এর আগে গ্রেপ্তার হয়ে জামিনে মুক্তি পান। পরে লোকালয় ছেড়ে করতোয়া নদীর তীরের দুর্গম এলাকায় আস্তানা গড়ে পুনরায় অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড শুরু করেন বলে প্রাথমিক তদন্তে উঠে এসেছে।তিনি আরও জানান, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পালিয়ে যাওয়া অন্য সদস্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
প্রতিবেদকের নাম 



















