
এম, আজাদ খানস্টাফ রিপোর্টার, বগুড়া: বগুড়ার শিবগঞ্জে কামরুজ্জামান নামের এক ব্যক্তির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও বিভিন্ন প্রচারণাকে ভিত্তিহীন দাবি করে প্রতিবাদ জানিয়েছে তাঁর পরিবার। পরিবারের দাবি দীর্ঘদিনের মাদকাসক্তি ও অসুস্থতার কারণে কামরুজ্জামানের মৃত্যু হলেও ঘটনাটিকে ভিন্নভাবে উপস্থাপন করে তাঁদের পরিবারের সম্মানহানি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে শিবগঞ্জ প্রেস ক্লাবে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে মৃত কামরুজ্জামানের ৮ ভাই বোনসহ পরিবারের সদস্যরা এসব কথা বলেন। সংবাদ সম্মেলনে পরিবারের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কামরুজ্জামানের বড় ভাই ও তহশিলদার মোঃ মিজানুর রহমান।
লিখিত বক্তব্যে মিজানুর রহমান বলেন তাঁর ছোট ভাই কামরুজ্জামান দীর্ঘদিন ধরে মাদকাসক্ত ছিলেন। নেশার কারণে তিনি অনেকটা ভবঘুরে জীবনযাপন করতেন। নেশার টাকা জোগাতে নিজের অংশের প্রায় সব সম্পত্তি বিক্রি করে দেন। পরবর্তী সময়ে টাকার জন্য পরিবারের সদস্যদের ওপর মানসিক ও শারীরিক নির্যাতনও চালাতেন বলে দাবি করেন তিনি। পরিবারের পক্ষ থেকে আরও বলা হয় পারিবারিক বিরোধের জেরে কামরুজ্জামানের সঙ্গে তাঁর আরেক ভাই বুড়িগঞ্জ ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ওবায়দুর রহমানের বিরোধ তৈরি হয়। মিজানুর রহমানের অভিযোগ ওবায়দুর রহমান স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপির রাজনৈতিক অনুসারী হওয়ায় কামরুজ্জামান নেশাগ্রস্ত অবস্থায় প্রতিমন্ত্রীর নাম ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি লাইভ ভিডিও প্রচার করেন।
তবে পরিবারের দাবি ওই ভিডিওতে করা বিভিন্ন বক্তব্যের সঙ্গে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তাঁদের ভাষ্য কামরুজ্জামানের দীর্ঘদিনের মাদকাসক্তি ও অসুস্থতার বিষয়টি জানার পরও একটি মহল তাঁর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে। মিজানুর রহমান জানান লাইভ ভিডিও প্রচারের কয়েক দিন পর গত ৭ সেপ্টেম্বর অসুস্থ হয়ে পড়েন কামরুজ্জামান। তাঁকে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসা শেষে ১০ সেপ্টেম্বর তাঁকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়। এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর আবার অসুস্থ হয়ে পড়লে তাঁকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরদিন ১৬ সেপ্টেম্বর ভোরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়।
কামরুজ্জামানের মৃত্যুর পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন বক্তব্য ও ভিডিও নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা বলেন একজন মৃত মানুষকে নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালানো শুধু তাঁর স্মৃতির প্রতি অসম্মান নয় একই সঙ্গে জীবিত স্বজনদেরও সামাজিকভাবে হেয় করার শামিল।পরিবারের দাবি কামরুজ্জামানের মৃত্যু ছিল অসুস্থতাজনিত। তাঁর মৃত্যু নিয়ে কোনো ধরনের বিভ্রান্তি বা অপপ্রচার না ছড়ানোর জন্য তাঁরা সবার প্রতি আহ্বান জানান। একই সঙ্গে পরিবারের সম্মানহানির উদ্দেশ্যে কেউ অপপ্রচার চালিয়ে থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও সংবাদ সম্মেলনে সতর্ক করা হয়।
প্রতিবেদকের নাম 



















