
জিএম মাকছুদুর রহমান, কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি:
লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে সংঘটিত এক লোমহর্ষক ও বর্বরোচিত হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়ে কুমিল্লার হোমনা উপজেলার লাটিয়া গ্রামে একই পরিবারের চারজনের দাফন সম্পন্ন হয়েছে। শুক্রবার (২৬ জুন) রাত ১০টার দিকে লাটিয়া ঈদগাহ মাঠে তাঁদের যৌথ জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। পরে স্থানীয় কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি কবরে মা ও তিন মেয়েকে দাফন করা হয়। এই হৃদয়বিদারক দৃশ্য দেখে উপস্থিত হাজারো মানুষ কান্নায় ভেঙে পড়েন।নিহতরা হলেন- শাহিনুর বেগম (৩৮), তাঁর বড় মেয়ে সায়মা আক্তার (২১), মেজ মেয়ে ইকরা আক্তার (১৭) এবং ছোট মেয়ে শিফা আক্তার (৯)। লক্ষ্মীপুরের এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় পুরো কুমিল্লার হোমনা এলাকায় নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া। এই ঘটনায় পরিবারের একমাত্র জীবিত সন্তান সিফাত এখন সম্পূর্ণ বাকরুদ্ধ ও স্তব্ধ হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে চারটি লাশ, একই কবরস্থানে পাশাপাশি চারটি দাফন। লক্ষ্মীপুর ও কুমিল্লার এই সংযোগকারী ট্র্যাজেডিতে লাটিয়া গ্রামসহ পুরো অঞ্চলের আকাশ-বাতাস ভারী হয়ে উঠেছে। জানাজায় অংশ নিতে আশেপাশের এলাকা ছাড়াও দূর-দূরান্ত থেকে হাজারো মানুষ ছুটে আসেন। মায়ের পাশে তিন মেয়ের নিথর দেহ দেখে উপস্থিত কেউই চোখের জল ধরে রাখতে পারেননি। অনেকেই বলছেন, এমন মর্মন্তুদ দৃশ্য তারা জীবনে কখনো দেখেননি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকাল পৌনে ১১টার দিকে অন্তর মজুমদার নামে এক যুবক পানির পাইপ মেরামতের মিস্ত্রি পরিচয়ে শাহিনুর বেগমের লক্ষ্মীপুরের রায়পুরের ভাড়া বাসায় প্রবেশ করে। ঘরে ঢোকার কিছুক্ষণের মধ্যেই সে ধারালো অস্ত্র দিয়ে শাহিনুর বেগম ও তার তিন মেয়ের ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। চিৎকার শুনে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে জানালা দিয়ে ঘরের ভেতরে রক্তারক্তি অবস্থা দেখতে পান। পরে দরজা ভেঙে চারজনকে রক্তাক্ত অবস্থায় উদ্ধার করে রায়পুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক শাহিনুর বেগম ও ছোট মেয়ে শিফাকে মৃত ঘোষণা করেন। গুরুতর আহত অবস্থায় বড় মেয়ে সায়মা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান এবং অপর মেয়ে ইকরাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় ঢাকায় নেওয়ার পথে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। এদিকে, ঘটনার পরপরই স্থানীয় জনতা অভিযুক্ত ঘাতক অন্তর মজুমদারকে গণপিটুনি দিয়ে পুলিশে সোপর্দ করে। পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তারও মৃত্যু হয়। জীবিকার সন্ধানে স্বামীহারা শাহিনুর বেগম তাঁর তিন মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে লক্ষ্মীপুরের রায়পুরে বসবাস করছিলেন। যে বাড়িতে সব সময় হাসিখুশি পরিবেশ থাকত, কুমিল্লার গ্রামের বাড়িতে ফিরলে যেখানে আনন্দের রোল উঠত, আজ সেখানে শুধুই স্বজনদের কান্নার আওয়াজ। পুলিশ জানিয়েছে, এই নৃশংস হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। লক্ষ্মীপুর জেলা পুলিশ ও স্থানীয় প্রশাসন ঘটনার রহস্য উদঘাটনে গভীর তদন্ত চালাচ্ছে।
প্রতিবেদকের নাম 


















