
মাসুদ রানা মাসুম পার্বত্য অঞ্চল ব্যুরো: বান্দরবানের রোয়াংছড়ি উপজেলার পুরাতন বাস স্টেশন এলাকায় গভীর রাতে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ৫-৬টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও কয়েকটি বসতবাড়ি পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। মঙ্গলবার দিবাগত রাত প্রায় ২টার দিকে হঠাৎ আগুনের সূত্রপাত হয়ে মুহূর্তেই তা ভয়াবহ রূপ নেয়। এতে প্রায় অর্ধ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সূত্র।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গভীর রাতে হঠাৎ আগুনের লেলিহান শিখা ও চিৎকারে ঘুম ভাঙে এলাকার মানুষের। একটি দোকান থেকে আগুনের উৎপত্তি হয়ে দ্রুত আশপাশের দোকান ও ঘরে ছড়িয়ে পড়ে। এলাকাটি ঘিঞ্জি এবং অধিকাংশ স্থাপনা কাঠ ও টিন দিয়ে তৈরি হওয়ায় আগুন অল্প সময়েই নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। আগুনের তীব্রতায় চারদিকে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে, অনেকে প্রাণ বাঁচাতে দিগ্বিদিক ছুটতে থাকেন।
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক ইউনিট। তাদের সঙ্গে যোগ দেয় স্থানীয় পুলিশ, সেনাবাহিনী ও সাধারণ জনগণ। দীর্ঘ দুই ঘণ্টার সম্মিলিত প্রচেষ্টার পর ভোর ৪টার দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়। তবে ততক্ষণে কয়েকটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও বসতঘর সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, আগুনে বড় আকারের ৩টি মুদি ও পাইকারি দোকান, ২টি ফার্নিচার ও হার্ডওয়্যার দোকান এবং অন্তত ৩টি বসতবাড়ি ভস্মীভূত হয়েছে। দোকানগুলোতে থাকা নগদ অর্থ, মালামাল, মূল্যবান কাঠ ও যন্ত্রাংশসহ সবকিছুই পুড়ে গেছে।
ক্ষতিগ্রস্ত এক ব্যবসায়ী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “আমার সারাজীবনের সঞ্চয় এই দোকানেই ছিল। কিছুই রক্ষা করতে পারিনি, এক নিমিষেই সব শেষ হয়ে গেছে।”
ফায়ার সার্ভিসের প্রাথমিক ধারণা, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট থেকেই আগুনের সূত্রপাত হতে পারে। তবে নাশকতার কোনো সংশ্লিষ্টতা আছে কিনা, সেটিও গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তাজমিন আলম তুলি সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের মাঝে তাৎক্ষণিকভাবে খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে এবং জরুরি আর্থিক সহায়তাও প্রদান করা হয়েছে। তিনি বলেন, ক্ষয়ক্ষতির সঠিক পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরি করে আরও সরকারি সহায়তা দেওয়ার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদকের নাম 


















