
মোঃ ইসমাইল হোসেন : চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা প্রতিনিধি, লক্ষ্মীপুর
লক্ষ্মীপুর জেলার চন্দ্রগঞ্জ উপজেলার চন্দ্রগঞ্জ ইউনিয়নের অতি পরিচিত সাদারঘর (হাদারঘর) ব্রিজটি বর্তমানে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় পড়ে রয়েছে। ব্রিজের গুরুত্বপূর্ণ সুরক্ষা অংশ ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেলেও দীর্ঘ মাস ধরে তা সংস্কারে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে প্রতিদিন চরম প্রাণঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী জেলার লাখ লাখ মানুষ।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কয়েক মাস আগে গভীর রাতে একটি বালুভর্তি ভারী ট্রাক ব্রিজের ওপর ঘোরাতে গিয়ে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে। এ সময় ট্রাকটির সজোরে ধাক্কায় ব্রিজের পশ্চিম পাশের নিরাপত্তা রিলিংয়ের মাঝখানের বড় একটি অংশ ভেঙ্গে খালে পড়ে যায়। কেবল রিলিং ভাঙ্গাই নয়, দুষ্কৃতকারীরা বা দুর্ঘটনার সুযোগে ব্রিজের দুই পাশে থাকা সুরক্ষামূলক বেশ কয়েকটি স্ল্যাবও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। ঘটনার পর থেকে দীর্ঘ সময় পার হয়ে গেলেও এলাকাটি এখনো অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে আছে।
এই ব্রিজ এবং সংশ্লিষ্ট সড়কটি লক্ষ্মীপুর ও নোয়াখালী অঞ্চলের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ পথ। প্রতিদিন এ পথ দিয়ে দূর-দূরান্তের বিভিন্ন স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীসহ হাজার হাজার সাধারণ পথচারী এবং ছোট-বড় অসংখ্য যানবাহন চলাচল করে।
রাতের অন্ধকারে কিংবা দ্রুতগতির যানবাহন যাতায়াতের সময় যেকোনো মুহূর্তে রিলিংহীন এই অংশ দিয়ে গাড়ি বা পথচারী খালে পড়ে গিয়ে বড় ধরনের প্রাণঘাতী দুর্ঘটনা ঘটতে পারে বলে চরম আতঙ্কে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
দীর্ঘদিন ধরে এমন বিপজ্জনক অবস্থা বিরাজ করলেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজর না দেওয়াকে অত্যন্ত দুঃখজনক বলে মনে করছেন ক্ষুব্ধ এলাকবাসী। তাদের প্রশ্ন—বড় কোনো প্রাণহানি বা বড় দুর্ঘটনার পরই কি তবে কর্তৃপক্ষের ঘুম ভাঙবে?
এলাকাবাসীর আকুল দাবি, জনস্বার্থ ও যাতায়াতের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অনতিবিলম্বে ব্রিজটির ভেঙ্গে যাওয়া রিলিং পুনর্নির্মাণ, নিখোঁজ স্ল্যাবগুলো পুনরায় স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার কাজ সম্পন্ন করতে হবে।
ঝুঁকিপূর্ণ এই ব্রিজের দ্রুত টেকসই সংস্কারের লক্ষ্যে সংশ্লিষ্ট স্থানীয় প্রকৌশলী, সড়ক ও জনপথ বিভাগ, জেলা প্রশাসক (ডিসি) এবং চন্দ্রগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) জরুরি হস্তক্ষেপ ও সরজমিনে তদন্তের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।
প্রতিবেদকের নাম 



















