Dhaka ০৩:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ভাঙ্গায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত ফরিদপুরে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) নিয়োগের দ্বিতীয় দিনের কার্যক্রম সম্পন্ন চট্টগ্রাম মাদরাসা স্কলারশিপ’র মেধাবী শিক্ষার্থীদের সম্মাননা প্রদান, শিক্ষার মানোন্নয়নে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজের আহ্বান ভরা মৌসুমে আমে জমজমাট পত্নীতলা বিভিন্ন হাট, দাম নিয়ে চাষীদের আক্ষেপ লোহাগাড়ায় তোলপাড় এমপি শাহজাহানকে ‘গুলি’র অডিও ফাঁস প্রবীণ সাংবাদিক মাওলানা মোজাহেরুল কাদের ফারুকীর মমতাময়ী “মা” মোহছেনা খাতুন’র ইন্তেকাল পলাশবাড়ীতে ৩ দিনব্যাপী জাতীয় ফল মেলার উদ্বোধন, লক্ষ্য পুষ্টি নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি অবর্ণনীয় দুর্ভোগে চন্দ্রগঞ্জের বসুদুহিতা গ্রাম: ভাঙ্গা ব্রিজ আর কর্দমাক্ত রাস্তায় থমকেছে জীবনযাত্রা লোহাগাড়ায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত পলাতক আসামি আটক চকরিয়ার বরইতলীর কৃতি সন্তান সাইফুল্লাহ আবির সেনাবাহিনীতে লেফটেন্যান্ট হিসেবে কমিশন লাভ

ভরা মৌসুমে আমে জমজমাট পত্নীতলা বিভিন্ন হাট, দাম নিয়ে চাষীদের আক্ষেপ

পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন হাটে জমে উঠেছে ভরা মৌসুমীমে আমের বেচাকেনা। বিভিন্ন এলাকায় আম বাগান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মন আম হাঁটে আসছে। ভোর রাত থেকে হাট গুলোতে জনগণের সরগম জমজমাট ভাবে লক্ষ্য করা যায়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পাইকারদের পদচরণায় মুখরিত হয়ে উঠছে হাটগুলো। তবে ফলন ভালো হলেও কাঙ্খিত দাম না পাওয়ায় অনেক আম কৃষকদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।

উপজেলা কৃষি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উপজেলার অধিকাংশ আম বাগানে আমের ফলন ভালো হয়েছে। বর্তমান বাজারে গোপালভোগ, ন্যাংড়া, হিমসাগর (ক্ষীরসাপাতি),আম্রপালি, বারি- ফোর, কাটিমনসহ বিভিন্ন জাতের আম উঠতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুনঃ  ফরিদপুরে বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্রের বইপড়া কর্মসূচির কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত

সরজমিনে গিয়ে হাট গুলোতে জাত ও মানভেদে আমগুলোর বর্তমান দরদাম জানা গেছে, গোপালভোগ প্রতি মন ২০০০ হাজার থেকে ৩০০০ টাকা, হিমসাগর ৩০০০ থেকে ৪৫০০ টাকা, ল্যাংড়া ২৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা, আম্রপালি ৩৫০০ টাকা থেকে ৫৫০০ টাকা এবং ফজলি ২০০০ থেকে ৩৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজার ভেদে এ দাম কিছুটা কমবেশি আছে।

মধুইল বাজারের এক আমচাষী জিল্লু মিয়া জানান, এ বছর আমের ফলন ভালো হলেও উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে। স্যার, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বর্তমান বাজার দর আমাদের প্রত্যাশা পুরুণ করতে পারছে না। অনেক আম চাষিরা মনে করছেন, হাট বাজারে আমের সরবারহ বেশি থাকায় দাম কিছুটা কমে গেছে বলে মনে করছেন।

আরও পড়ুনঃ  বড়গাছীর মথুরায় জামায়াতের উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হাফেজ, মাওলানা নুরুজ্জামানের গণসংযোগ

অন্যদিকে বিভিন্ন হাটে আসা পাইকাররা বলছন, পত্নীতলার আমের গুণগত মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তারা আম কিনতে আসছেন। বর্তমান বাজারে সরবারহ বেশি থাকলেও কেনাবেচা সন্তোষজনক রয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, বরিশাল সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ আমগুলো পাঠানো হচ্ছে।

এক পাইকার নজির উদ্দীন সাহেম, তিনি চট্টগ্রাম থেকে এসেছেন সে জানান,” পত্নীতলার আমের চাহিদা সব সময়ই ভালো।বর্তমানে সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কিছুটা কমে রয়েছে। তবে মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে চাহিদা বাড়লে মুল্যও বাড়তে পারে। ”

আরও পড়ুনঃ  কাউনিয়া ‘স্বপ্নসারথি’ কিশোরীদের ১ম পর্বের সমাপনী ও সনদ বিতরণ

এ বিষয়ে পত্নীতলা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষকরা যাতে ন্যায্য মূল্য পান এবং বাজারে কোন ধরনের অনিয়ম অপীতি কর ঘটনা না হয়, সে লক্ষ্যে নিয়মিত বাজার তদারকি করা হচ্ছে এবং বাড়তি সতর্কতা আওতায় আনা হয়েছে। আম বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসনের কড়াকড়ি নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মৌসুমের শুরুতেই ভালো ফলন ও ব্যাপক সরবরাহের কারণে বাজারে প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে বাজারে চাহিদা আরো বাড়লে আম চাষিরা ভালো ও ন্যায্য মূল্য পেতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ভাঙ্গায় মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও মাদ্রাসা প্রধানদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত

ভরা মৌসুমে আমে জমজমাট পত্নীতলা বিভিন্ন হাট, দাম নিয়ে চাষীদের আক্ষেপ

আপডেটের সময়: ১১:৩৬:৩৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

পত্নীতলা (নওগাঁ) প্রতিনিধি

নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার ঐতিহ্যবাহী বিভিন্ন হাটে জমে উঠেছে ভরা মৌসুমীমে আমের বেচাকেনা। বিভিন্ন এলাকায় আম বাগান থেকে প্রতিদিন হাজার হাজার মন আম হাঁটে আসছে। ভোর রাত থেকে হাট গুলোতে জনগণের সরগম জমজমাট ভাবে লক্ষ্য করা যায়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা পাইকারদের পদচরণায় মুখরিত হয়ে উঠছে হাটগুলো। তবে ফলন ভালো হলেও কাঙ্খিত দাম না পাওয়ায় অনেক আম কৃষকদের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।

উপজেলা কৃষি সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উপজেলার অধিকাংশ আম বাগানে আমের ফলন ভালো হয়েছে। বর্তমান বাজারে গোপালভোগ, ন্যাংড়া, হিমসাগর (ক্ষীরসাপাতি),আম্রপালি, বারি- ফোর, কাটিমনসহ বিভিন্ন জাতের আম উঠতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুনঃ  ফরিদপুরে ১ হাজার পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেফতার

সরজমিনে গিয়ে হাট গুলোতে জাত ও মানভেদে আমগুলোর বর্তমান দরদাম জানা গেছে, গোপালভোগ প্রতি মন ২০০০ হাজার থেকে ৩০০০ টাকা, হিমসাগর ৩০০০ থেকে ৪৫০০ টাকা, ল্যাংড়া ২৫০০ থেকে ৪০০০ টাকা, আম্রপালি ৩৫০০ টাকা থেকে ৫৫০০ টাকা এবং ফজলি ২০০০ থেকে ৩৫০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে বাজার ভেদে এ দাম কিছুটা কমবেশি আছে।

মধুইল বাজারের এক আমচাষী জিল্লু মিয়া জানান, এ বছর আমের ফলন ভালো হলেও উৎপাদন খরচ উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে গেছে। স্যার, কীটনাশক, সেচ, শ্রমিক ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধির কারণে বর্তমান বাজার দর আমাদের প্রত্যাশা পুরুণ করতে পারছে না। অনেক আম চাষিরা মনে করছেন, হাট বাজারে আমের সরবারহ বেশি থাকায় দাম কিছুটা কমে গেছে বলে মনে করছেন।

আরও পড়ুনঃ  বড়গাছীর মথুরায় জামায়াতের উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থী হাফেজ, মাওলানা নুরুজ্জামানের গণসংযোগ

অন্যদিকে বিভিন্ন হাটে আসা পাইকাররা বলছন, পত্নীতলার আমের গুণগত মান ভালো হওয়ায় দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে তারা আম কিনতে আসছেন। বর্তমান বাজারে সরবারহ বেশি থাকলেও কেনাবেচা সন্তোষজনক রয়েছে। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, রংপুর, বরিশাল সহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ আমগুলো পাঠানো হচ্ছে।

এক পাইকার নজির উদ্দীন সাহেম, তিনি চট্টগ্রাম থেকে এসেছেন সে জানান,” পত্নীতলার আমের চাহিদা সব সময়ই ভালো।বর্তমানে সরবরাহ বেশি থাকায় দাম কিছুটা কমে রয়েছে। তবে মৌসুমের মাঝামাঝি সময়ে চাহিদা বাড়লে মুল্যও বাড়তে পারে। ”

আরও পড়ুনঃ  দুর্গমতার সুযোগে চকরিয়ার বমু বিলছড়িতে কোটি টাকার সড়কে ‘পুকুরচুরি

এ বিষয়ে পত্নীতলা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কৃষকরা যাতে ন্যায্য মূল্য পান এবং বাজারে কোন ধরনের অনিয়ম অপীতি কর ঘটনা না হয়, সে লক্ষ্যে নিয়মিত বাজার তদারকি করা হচ্ছে এবং বাড়তি সতর্কতা আওতায় আনা হয়েছে। আম বাজারে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে প্রশাসনের কড়াকড়ি নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, মৌসুমের শুরুতেই ভালো ফলন ও ব্যাপক সরবরাহের কারণে বাজারে প্রাণ চাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। আগামী কয়েক সপ্তাহে বাজারে চাহিদা আরো বাড়লে আম চাষিরা ভালো ও ন্যায্য মূল্য পেতে পারেন বলে আশা করা হচ্ছে।