Dhaka ১০:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
চুনকুটিয়ায় কারখানার জেনারেটরে আগুন, স্থানীয়দের তৎপরতায় নিয়ন্ত্রণে কাউনিয়ায় জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে সমাবেশ ও শ্রমিক মিছিল জুলাই শহীদদের স্মরণে মোকামতলায় ফুটবল উৎসব, মাঠজুড়ে জনতার ঢল তারাগঞ্জে মহাসড়কের পাশে নারীর মরদেহ উদ্ধার অপমৃত্যুর মামলা ধামইরহাটে মাঠে কাজ করতে গিয়ে বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পৃথক অভিযানে পবায় জেন্ডার, গণতন্ত্র ও জলবায়ু বিষয়ে সচেতনতামূলক গম্ভীরার মধ্য দিয়ে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত শার্শায় ৬৫ পুরিয়া গাঁজাসহ নারী মাদক কারবারি গ্রেফতার আ. লীগের দেখানো পথেই হাঁটছে বর্তমান সরকার: ডা. শফিকুর রহমান জুলাইয়ের ভিত্তি রচিত হয়েছে ১৬ বছরের আন্দোলনে: পানিসম্পদমন্ত্রী

কুমিল্লায় মাছের ল্যান্ডিং স্টেশন ও রপ্তানি সুবিধার আশ্বাস কৃষি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর

জিএম মাকছুদুর রহমান, কুমিল্লা:

​জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি উৎপাদন হ্রাসের আশঙ্কা মোকাবিলায় নতুন নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনসহ গবেষণাভিত্তিক কৃষি উন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। ১ আগস্ট (শনিবার) দুপুরে কুমিল্লা সার্কিট হাউসে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কুমিল্লা অঞ্চলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় উপযোগী ফসলের জাত উদ্ভাবনে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) বিজ্ঞানীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। এর ধারাবাহিকতায় আগামী মৌসুমে হাওর অঞ্চলের জন্য শীত সহনশীল ‘ব্রি ধান-১১৮’ অবমুক্ত করা হবে, যা আগাম রোপণ ও কর্তনের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এতে আকস্মিক বন্যার আগেই কৃষকরা ফসল ঘরে তুলতে পারবেন এবং ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমে আসবে। পাশাপাশি আগামী বছর উপকূলীয় এলাকার জন্য লবণাক্ততা সহনশীল নতুন একটি ধানের জাত অবমুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ​শুধু খাদ্যশস্যই নয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের আধুনিকায়নেও একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, কুমিল্লা স্থলবন্দর দিয়ে মাছ রপ্তানির সম্ভাবনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কুমিল্লা অঞ্চলে মাছের ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করে উপযুক্ত সরকারি জমি পাওয়া গেলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দেশের ভোক্তারা মিঠাপানির মাছ তাজা অবস্থায় কিনতে আগ্রহী হওয়ায় সংরক্ষণ ব্যবস্থার পাশাপাশি আধুনিক বাজারজাতকরণ অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও জোর দিচ্ছে সরকার। প্রাণিসম্পদ খাতের আমদানিনির্ভরতা কমাতে বিদ্যমান ভ্যাকসিন উৎপাদন কেন্দ্র সম্প্রসারণে একটি বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে, যা বাস্তবায়িত হলে গবাদিপশুর পাশাপাশি হাঁস-মুরগির ভ্যাকসিনও দেশে অধিক পরিসরে উৎপাদন সম্ভব হবে। ​সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক বন্যা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে ইতোমধ্যে বীজ ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে এবং বন্যা-পরবর্তী রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোতে গবাদিপশুর বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় চলমান খাল পুনঃখনন কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং আগামী বছরও শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উক্ত মতবিনিময় সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. খোরশেদ আলম, জেলা প্রশাসক রোজী আকতার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মন্ডল, চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য দপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  কক্সবাজার থেকে আনা ২ হাজার পিস ইয়াবাসহ শ্যামলী পরিবহনের বাসচালক গ্রেফতার
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

চুনকুটিয়ায় কারখানার জেনারেটরে আগুন, স্থানীয়দের তৎপরতায় নিয়ন্ত্রণে

কুমিল্লায় মাছের ল্যান্ডিং স্টেশন ও রপ্তানি সুবিধার আশ্বাস কৃষি ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রীর

আপডেটের সময়: ০৫:৫০:৫৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ অগাস্ট ২০২৬

জিএম মাকছুদুর রহমান, কুমিল্লা:

​জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে কৃষি উৎপাদন হ্রাসের আশঙ্কা মোকাবিলায় নতুন নতুন ধানের জাত উদ্ভাবনসহ গবেষণাভিত্তিক কৃষি উন্নয়নে সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রী হাজী আমিন উর রশিদ ইয়াছিন। ১ আগস্ট (শনিবার) দুপুরে কুমিল্লা সার্কিট হাউসে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের কুমিল্লা অঞ্চলের কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। মন্ত্রী জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় উপযোগী ফসলের জাত উদ্ভাবনে বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের (ব্রি) বিজ্ঞানীরা নিরলসভাবে কাজ করছেন। এর ধারাবাহিকতায় আগামী মৌসুমে হাওর অঞ্চলের জন্য শীত সহনশীল ‘ব্রি ধান-১১৮’ অবমুক্ত করা হবে, যা আগাম রোপণ ও কর্তনের সুযোগ সৃষ্টি করবে। এতে আকস্মিক বন্যার আগেই কৃষকরা ফসল ঘরে তুলতে পারবেন এবং ক্ষয়ক্ষতি অনেকটাই কমে আসবে। পাশাপাশি আগামী বছর উপকূলীয় এলাকার জন্য লবণাক্ততা সহনশীল নতুন একটি ধানের জাত অবমুক্ত করার পরিকল্পনাও রয়েছে। ​শুধু খাদ্যশস্যই নয়, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের আধুনিকায়নেও একাধিক পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানান মন্ত্রী। তিনি বলেন, কুমিল্লা স্থলবন্দর দিয়ে মাছ রপ্তানির সম্ভাবনা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে এবং এ বিষয়ে বাণিজ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে কুমিল্লা অঞ্চলে মাছের ল্যান্ডিং স্টেশন স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করে উপযুক্ত সরকারি জমি পাওয়া গেলে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দেশের ভোক্তারা মিঠাপানির মাছ তাজা অবস্থায় কিনতে আগ্রহী হওয়ায় সংরক্ষণ ব্যবস্থার পাশাপাশি আধুনিক বাজারজাতকরণ অবকাঠামো গড়ে তোলার বিষয়েও জোর দিচ্ছে সরকার। প্রাণিসম্পদ খাতের আমদানিনির্ভরতা কমাতে বিদ্যমান ভ্যাকসিন উৎপাদন কেন্দ্র সম্প্রসারণে একটি বৃহৎ প্রকল্প গ্রহণ করা হচ্ছে, যা বাস্তবায়িত হলে গবাদিপশুর পাশাপাশি হাঁস-মুরগির ভ্যাকসিনও দেশে অধিক পরিসরে উৎপাদন সম্ভব হবে। ​সংবাদ সম্মেলনে সাম্প্রতিক বন্যা ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়েও কথা বলেন কৃষিমন্ত্রী। তিনি জানান, ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে ইতোমধ্যে বীজ ও কৃষি উপকরণ বিতরণ করা হয়েছে এবং বন্যা-পরবর্তী রোগের প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে বন্যাকবলিত উপজেলাগুলোতে গবাদিপশুর বিনামূল্যে টিকাদান কর্মসূচি পরিচালনা করা হয়েছে। এছাড়া কৃষি মন্ত্রণালয়ের আওতায় চলমান খাল পুনঃখনন কার্যক্রম নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই বাস্তবায়ন করা হচ্ছে এবং আগামী বছরও শতভাগ লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উক্ত মতবিনিময় সভায় কৃষি মন্ত্রণালয়ের যুগ্মসচিব মো. খোরশেদ আলম, জেলা প্রশাসক রোজী আকতার, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মন্ডল, চট্টগ্রাম বিভাগীয় মৎস্য দপ্তরের পরিচালক মো. আনোয়ার হোসেনসহ স্থানীয় ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুনঃ  কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলায় খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধ ও স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ নিশ্চিত করতে পৃথক অভিযানে