Dhaka ০১:৫৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ঈশ্বরদী থানা পুলিশ, জেলা (ডিবি, র‌্যাব ও মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে গত তিন মাসে গ্রেফতার হয়েছে ১০৩ জন তারাগঞ্জে বাকপ্রতিবন্ধী শিশুকে ধর্ষণ, পুলিশি অভিযানে ধর্ষক মাহাবুল গ্রেফতার মান্দায় দুঃস্থ নারীদের মাঝে সেলাই মেশিন বিতরণ করলেন এমপি ডাঃ টিপু শিশু মুনতাসির বাঁচতে চায় ছয় অস্ত্রোপাচারের পরও থামেনি নিঃস্ব বাবা লড়াই চট্টগ্রামে শিশু আয়নী হত্যা মামলায় আসামি রুবেলের মৃত্যুদণ্ড ধুনটে বিশেষ অভিযানে ৪৮টি অবৈধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ, জনসম্মুখে পুড়িয়ে ধ্বংস আগানগর ইস্পাহানি ঘাটে বুড়িগঙ্গায় মালবাহী ট্রাক নিমজ্জিত: উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত কবে কাটবে ঈদগাঁও উপ-স্বাস্থ্যকেন্দ্রের সংকট? কাউনিয়ায় ১,১৪৫ পিস ইয়াবাসহ মাদক কারবারি গ্রেপ্তার পল্লী সঞ্চয় ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপকের রহস্যজনক মৃত্যু

এই নির্বাচনে নির্ধারণ হবে দেশ কাদের হাতে যাবে: মির্জা ফখরুল

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ০৮:৩৪:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১৯৩ সময় দেখুন

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আগামী জাতীয় নির্বাচনকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য ‘কঠিন পরীক্ষা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই নির্বাচনে নির্ধারণ হবে দেশ লিবারেল ডেমোক্রেসির (উদার গণতন্ত্র) হাতে থাকবে, নাকি উগ্রপন্থি-রাষ্ট্রবিরোধীদের দখলে যাবে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এই নির্বাচনে নির্ধারণ হবে যে এই দেশ কি উদার গণতান্ত্রিকদের হাতে থাকবে? নাকি-উগ্রপন্থি রাষ্ট্রবিরোধী লোকদের মধ্যে থাকবে নির্বাচনকে ঘিরে দেশে একটি অপপ্রচার চলছে বলে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। মির্জা ফখরুলের দাবি, নির্বাচন হলে বিএনপি ‘ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরি (ভূমিধস বিজয়) পাবে। বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা আশা করছি, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা একটা গণতান্ত্রিক অবস্থায় পৌঁছাব। যেখানে গেলে আমাদের সমস্যাগুলো সমাধান করে আমরা নতুন একটি বাংলাদেশ রাষ্ট্র তৈরি করব। কাজও হয়েছে অনেক। আমরাও কাজ করেছি। আমরা যখন আন্দোলন করছিলাম, তখনই আমরা এই রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছিলাম। প্রথমে খালেদা জিয়া দিয়েছিলেন ২০১৬ সালে ভিশন ২০৩০। এরপর বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান অন্য দলগুলোর সঙ্গে আলাপ করে ৩১ দফা দিয়েছেন।’

আরও পড়ুনঃ  ৪ বছরে ২ কোটি ৭০ লাখ কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড: শিবগঞ্জে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

মির্জা ফখরুল বলেন, সংস্কার নিয়ে সরকারপক্ষের অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, সেটি বিএনপিই ২০২২ সালে প্রথম সামনে এনেছিল। আমরা যা যা বলেছি, সব কটি আজকে এখানে আছে। সুতরাং, এই সংস্কার নিয়ে আবার আমাদেরকে প্রশ্ন করে অনেকে—আপনারা কি সংস্কারের পক্ষে না বিপক্ষে? এটা তো আমাদেরই সন্তান। আমি তো তার জন্য প্রাণ দিতে পারি। কিছু রাজনৈতিক শক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব। কোনো রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘তোমরা কিছুটা বেইমানি করেছ, আমার বলতে কোনো দ্বিধা নেই—যেগুলোতে আমরা একমত হই নাই, সেগুলো ঢুকিয়ে দিয়েছ। তারপরও আমরা মেনে নিয়েছি দেশের বৃহত্তর স্বার্থে।’

আরও পড়ুনঃ  চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালীতে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, কুমারীছড়ার ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

আলোচনা সভায় মুক্তিযুদ্ধ, ধর্ম ও রাজনৈতিক বিভ্রান্তি নিয়ে কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, যারা অতীতে বাংলাদেশকে স্বীকার করেনি, স্বাধীনতায় বিশ্বাসই করেনি, তারাই আজকে ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি বেহেশতে যাওয়া যাবে। বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের কথা খুব পরিষ্কার। আমরা ধর্মে বিশ্বাস করি। আমাদের নেতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম দিয়েছেন, আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থার কথা বলেছেন। নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘২৩ দিন বাকি আছে নির্বাচনের। এখন অনেকে বলে নির্বাচন হবে না, বাধা দেব। ভেতরে ভেতরে খবর নিয়ে দেখেন—তাদের তিনটা ভোটও নাই। বড় গলায় বলে নির্বাচন হতে দেব না। তো ভাই, হোক নির্বাচন। দেখা যাক, কে কতটা ভোট পায়।’

আরও পড়ুনঃ  সব ধর্ম-সম্প্রদায়ের মানুষকে নিয়ে দেশের উন্নয়নে কাজ করাই সরকারের লক্ষ্য: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী

তিনি বলেন, ‘জনগণ যদি আমাদের গ্রহণ করে, আমরা আছি। জনগণ যদি বাদ দেয়, বাদ দিয়ে দেবে। আমরা বিরোধী দলে থাকব। আগে থেকে এত গলাবাজি কেন দেশের মানুষকে অবশ্যই উদারপন্থি রাস্তা, গণতন্ত্রের রাস্তা বেছে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের এই পরীক্ষাটা খুব কঠিন পরীক্ষা। এই নির্বাচনে নির্ধারণ হবে, দেশ কি লিবারেল ডেমোক্রেসির হাতে থাকবে, নাকি উগ্রপন্থি রাষ্ট্রবিরোধী লোকদের মধ্যে থাকবে? আমাদের অবশ্যই উদারপন্থি রাস্তা বেছে নিতে হবে। গণতন্ত্রের রাস্তা বেছে নিতে হবে। মানুষের কল্যাণের রাস্তা বেছে নিতে হবে। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান প্রমুখ।

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ঈশ্বরদী থানা পুলিশ, জেলা (ডিবি, র‌্যাব ও মাদকদ্রব্য অধিদপ্তরের যৌথ অভিযানে গত তিন মাসে গ্রেফতার হয়েছে ১০৩ জন

এই নির্বাচনে নির্ধারণ হবে দেশ কাদের হাতে যাবে: মির্জা ফখরুল

আপডেটের সময়: ০৮:৩৪:০৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ জানুয়ারী ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ আগামী জাতীয় নির্বাচনকে দেশের ভবিষ্যতের জন্য ‘কঠিন পরীক্ষা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এই নির্বাচনে নির্ধারণ হবে দেশ লিবারেল ডেমোক্রেসির (উদার গণতন্ত্র) হাতে থাকবে, নাকি উগ্রপন্থি-রাষ্ট্রবিরোধীদের দখলে যাবে। আজ মঙ্গলবার দুপুরে রাজধানীর কাকরাইলের ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় এসব কথা বলেন মির্জা ফখরুল। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৯০তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এই আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

আলোচনা সভায় বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘এই নির্বাচনে নির্ধারণ হবে যে এই দেশ কি উদার গণতান্ত্রিকদের হাতে থাকবে? নাকি-উগ্রপন্থি রাষ্ট্রবিরোধী লোকদের মধ্যে থাকবে নির্বাচনকে ঘিরে দেশে একটি অপপ্রচার চলছে বলে মন্তব্য করে মির্জা ফখরুল বলেন, এটি সম্পূর্ণ পরিকল্পিত। মির্জা ফখরুলের দাবি, নির্বাচন হলে বিএনপি ‘ল্যান্ডস্লাইড ভিক্টরি (ভূমিধস বিজয়) পাবে। বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমরা আশা করছি, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আমরা একটা গণতান্ত্রিক অবস্থায় পৌঁছাব। যেখানে গেলে আমাদের সমস্যাগুলো সমাধান করে আমরা নতুন একটি বাংলাদেশ রাষ্ট্র তৈরি করব। কাজও হয়েছে অনেক। আমরাও কাজ করেছি। আমরা যখন আন্দোলন করছিলাম, তখনই আমরা এই রাষ্ট্র সংস্কারের রূপরেখা দিয়েছিলাম। প্রথমে খালেদা জিয়া দিয়েছিলেন ২০১৬ সালে ভিশন ২০৩০। এরপর বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক রহমান অন্য দলগুলোর সঙ্গে আলাপ করে ৩১ দফা দিয়েছেন।’

আরও পড়ুনঃ  চকরিয়ার ফাঁসিয়াখালীতে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ, কুমারীছড়ার ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

মির্জা ফখরুল বলেন, সংস্কার নিয়ে সরকারপক্ষের অনেকে প্রশ্ন তুলছেন, সেটি বিএনপিই ২০২২ সালে প্রথম সামনে এনেছিল। আমরা যা যা বলেছি, সব কটি আজকে এখানে আছে। সুতরাং, এই সংস্কার নিয়ে আবার আমাদেরকে প্রশ্ন করে অনেকে—আপনারা কি সংস্কারের পক্ষে না বিপক্ষে? এটা তো আমাদেরই সন্তান। আমি তো তার জন্য প্রাণ দিতে পারি। কিছু রাজনৈতিক শক্তি ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেন বিএনপির মহাসচিব। কোনো রাজনৈতিক দলের নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, ‘তোমরা কিছুটা বেইমানি করেছ, আমার বলতে কোনো দ্বিধা নেই—যেগুলোতে আমরা একমত হই নাই, সেগুলো ঢুকিয়ে দিয়েছ। তারপরও আমরা মেনে নিয়েছি দেশের বৃহত্তর স্বার্থে।’

আরও পড়ুনঃ  বন্যা পরবর্তী ত্রাণ বিতরণ-পুনর্বাসনে কাজ চলছে: অর্থমন্ত্রী

আলোচনা সভায় মুক্তিযুদ্ধ, ধর্ম ও রাজনৈতিক বিভ্রান্তি নিয়ে কথা বলেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, যারা অতীতে বাংলাদেশকে স্বীকার করেনি, স্বাধীনতায় বিশ্বাসই করেনি, তারাই আজকে ধর্মকে ব্যবহার করে মানুষকে ভুল বোঝাচ্ছে। দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে নাকি বেহেশতে যাওয়া যাবে। বিএনপির মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের কথা খুব পরিষ্কার। আমরা ধর্মে বিশ্বাস করি। আমাদের নেতা প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান প্রথম সংবিধানে বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম দিয়েছেন, আল্লাহর প্রতি অবিচল আস্থার কথা বলেছেন। নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তার প্রসঙ্গে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘২৩ দিন বাকি আছে নির্বাচনের। এখন অনেকে বলে নির্বাচন হবে না, বাধা দেব। ভেতরে ভেতরে খবর নিয়ে দেখেন—তাদের তিনটা ভোটও নাই। বড় গলায় বলে নির্বাচন হতে দেব না। তো ভাই, হোক নির্বাচন। দেখা যাক, কে কতটা ভোট পায়।’

আরও পড়ুনঃ  ৪ বছরে ২ কোটি ৭০ লাখ কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড: শিবগঞ্জে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম

তিনি বলেন, ‘জনগণ যদি আমাদের গ্রহণ করে, আমরা আছি। জনগণ যদি বাদ দেয়, বাদ দিয়ে দেবে। আমরা বিরোধী দলে থাকব। আগে থেকে এত গলাবাজি কেন দেশের মানুষকে অবশ্যই উদারপন্থি রাস্তা, গণতন্ত্রের রাস্তা বেছে নিতে হবে বলে মন্তব্য করেন মির্জা ফখরুল। তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের এই পরীক্ষাটা খুব কঠিন পরীক্ষা। এই নির্বাচনে নির্ধারণ হবে, দেশ কি লিবারেল ডেমোক্রেসির হাতে থাকবে, নাকি উগ্রপন্থি রাষ্ট্রবিরোধী লোকদের মধ্যে থাকবে? আমাদের অবশ্যই উদারপন্থি রাস্তা বেছে নিতে হবে। গণতন্ত্রের রাস্তা বেছে নিতে হবে। মানুষের কল্যাণের রাস্তা বেছে নিতে হবে। আলোচনা সভায় আরও বক্তব্য দেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস, আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, সেলিমা রহমান প্রমুখ।