
জাহেদ কায়সার, চট্টগ্রাম জেলা প্রতিনিধি : চট্টগ্রাম সীতাকুণ্ড উপজেলার জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় বড় পরিসরে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়েছে যৌথ বাহিনী। সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) প্রায় চার হাজার সদস্য এ অভিযানে অংশ নেয়। সোমবার (৯ মার্চ) ভোর ৬ টা থেকে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র্যাব) প্রায় চার হাজার সদস্য পুরো এলাকাটি ঘিরে ফেলে তল্লাশি শুরু করে। চট্টগ্রাম রেঞ্জের উপ-মহাপরিদর্শক (ডিআইজি) আহসান হাবিব পলাশ দুপুরে অভিযান সফল হয়েছে উল্লেখ করে বলেন, জঙ্গল সলিমপুর প্রশাসনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। ভোর ছয়টা থেকে সেনাবাহিনী, পুলিশ ও র্যাবের প্রায় তিন হাজার সদস্য জঙ্গল সলিমপুর এলাকায় অভিযান শুরু করেন। অভিযানের সময় প্রবেশ ও বের হওয়ার পথগুলোতে তল্লাশি চৌকি বসানো হয়েছে, যাতে কেউ পালিয়ে যেতে না পারে।
আজকের অভিযানে মোট কতজন আটক হয়েছে এবং কী পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে, তা অভিযান শেষে বলা যাবে।তিনি বলেন জঙ্গল সলিমপুরে আজ থেকে দুটি ক্যাম্প থাকবে, একটি পুলিশের এবং অন্যটি র্যাবের। অস্ত্র উদ্ধারের বিষয়ে জানতে চাইলে ডিআইজি মো. আহসান হাবীব পলাশ বলেন,এখন পর্যন্ত ১৫ জনের মত আটক করা হয়েছে। এবং বেশকিছু ‘অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে। এখানে যেহেতু নেটওয়ার্কের সমস্যা এখন পর্যন্ত কী পরিমাণ অস্ত্র উদ্ধার হয়েছে আমরা এখনো জানতে পারিনি।’ এর আগে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. রাসেল জানান, যৌথ বাহিনীর চার হাজার সদস্য এই অভিযানে অংশ নিচ্ছেন। অভিযানের বিস্তারিত ফলাফল ও উদ্ধার বা আটকের তথ্য পরে জানানো হবে।
সীতাকুণ্ড উপজেলার দুর্গম পাহাড়ী এলাকা জঙ্গল সলিমপুর দীর্ঘ দিন ধরেই অপরাধীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত। গত জানুয়ারিতে সেখানে অভিযানে গিয়ে অপরাধীদের হামলায় এক র্যাব কর্মকর্তা নিহত হয়। ওই ঘটনার পর থেকেই সেখানে সশস্ত্র অপরাধীদের দমনে সমন্বিত অভিযানের পরিকল্পনা ছিল প্রশাসনের। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে তা তখন স্থগিত করা হয়েছিল। চট্টগ্রাম নগরের বায়েজিদ বোস্তামী এলাকা থেকে প্রায় দুই কিলোমিটার পশ্চিমে, এশিয়ান উইমেন ইউনিভার্সিটির বিপরীতে লিংক রোডের উত্তর পাশে প্রায় ৩ হাজার ১০০ একর পাহাড়ি এলাকায় গড়ে উঠেছে জঙ্গল সলিমপুর। দুর্গম এই পাহাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে পাহাড় কেটে গড়ে উঠেছে হাজার হাজার অবৈধ বসতি ও প্লট-বাণিজ্য। এসব দখল ও বাণিজ্যকে কেন্দ্র করেই সেখানে গড়ে উঠেছে সশস্ত্র সন্ত্রাসী গ্রুপ।দুর্গম ভূখণ্ড ও লোকালয় থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ায় অপরাধীরা এখানে নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তুলেছে।
প্রতিবেদকের নাম 



















