
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: পারস্য উপসাগরে আটকা পড়ে আছেন ভারতসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ২০ হাজার নাবিক। ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের জেরে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালী কার্যত বন্ধ থাকায় গত আট সপ্তাহ ধরে গভীর সমুদ্রে ভাসছে কয়েকশ পণ্যবাহী জাহাজ ও তেলের ট্যাংকার। জীবন আর মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে থাকা এসব নাবিকদের দিন কাটছে ড্রোনের গর্জন আর মিসাইল বিস্ফোরণ দেখে। বর্তমানে দুই দেশের মধ্যে একটি ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি চললেও পরিস্থিতির তেমন উন্নতি হয়নি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি বাড়ালেও ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ বহাল রেখেছে ওয়াশিংটন। পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে তেহরান এই জলপথে চলাচলকারী জাহাজে হামলা চালাচ্ছে এবং বেশ কিছু জাহাজ জব্দ করেছে। এমন পরিস্থিতিতে কোনো কোম্পানিই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জাহাজ চালাতে সাহস পাচ্ছে না।
ভারতীয় ট্যাংকারের ক্যাপ্টেন রাহুল ধর জানান, চোখের সামনে ড্রোন আর মিসাইল ইন্টারসেপ্ট হতে দেখাটা চরম আতঙ্কের। টানা দুই মাস আটকা থাকায় নাবিকদের মনোবল ভেঙে পড়ছে। তবে ইন্টারনেটের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে কথা বলে তারা শক্তি সঞ্চয় করার চেষ্টা করছেন। কিন্তু অনেক জায়গায় সিগন্যাল জ্যামিং এবং উচ্চ রোমিং চার্জের কারণে সেই সুযোগও সীমিত হয়ে আসছে। তথ্যমতে, যুদ্ধের আগে এই রুট দিয়ে দৈনিক গড়ে ১৩০টির বেশি জাহাজ চলাচল করত। এখন সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে মাত্র কয়েকটিতে। যুদ্ধের শুরু থেকে এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জন নাবিক নিহত হয়েছেন। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের প্রধান আর্সেনিও ডমিঙ্গো জানিয়েছেন, সমুদ্রসীমায় মাইন বিছিয়ে রাখায় বর্তমানে হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ যাতায়াতের কোনো পরিবেশ নেই।
ফরওয়ার্ড সিমেন’স ইউনিয়ন অব ইন্ডিয়ার পক্ষ থেকে মনোজ কুমার যাদব জানান, হাজার হাজার নাবিক বন্দর আব্বাস ও খোররামশাহর বন্দরের কাছে নোঙর করা জাহাজে চরম ভীতি ও আইসোলেশনে দিন কাটাচ্ছেন। অনেক জাহাজে খাবার ও পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে নাবিকদের রসদ রেশনিং করে চলতে হচ্ছে। ভারত সরকার কিছু নাবিককে সরিয়ে নিতে সক্ষম হলেও বড় একটি অংশ এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে। গ্রিক মালিকানাধীন একটি কার্গো জাহাজের ইন্দোনেশীয় কর্মকর্তা রেজা মুহাম্মদ সালেহ জানান, ওমান উপকূলে আটকা পড়ে তারা বারবার বাঙ্কারে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছেন। জিপিএস ব্যবস্থা বিকল হয়ে পড়ায় এখন তাদের ম্যানুয়াল পদ্ধতিতে নেভিগেশন করতে হচ্ছে। অনিশ্চয়তা তাদের সবচেয়ে বড় শত্রু হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শিপিং কোম্পানিগুলোর জানায়, এই সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে দক্ষ নাবিকের সংকট আরও প্রকট হবে। করোনা মহামারি, ইউক্রেন যুদ্ধ এবং লোহিত সাগরে হুথি বিদ্রোহীদের হামলার পর এবার ইরানের এই যুদ্ধ সমুদ্রযাত্রাকে আরও বিপজ্জনক করে তুলেছে। এর ফলে ভবিষ্যতে অনেক নাবিকই এই পেশায় আসতে অনাগ্রহ প্রকাশ করতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রতিবেদকের নাম 





















