Dhaka ০৪:১০ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
আদালতে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে মামলার বাদীদের টার্গেট করে প্রতারণা গ্রীন এন্ড ক্লিন কর্মসূচি পালিত হচ্ছে হাকিমপুর উপজেলায় সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবি একই পরিবারের ৩ জনের মরদেহ উদ্ধার, বাবা এখনো নিখোঁজ যাত্রাবাড়ীতে সাঁড়াশি অভিযান: যুবলীগ নেতাসহ ১৬ জনকে আটক করল পুলিশ ডিমলায় ১০০ বস্তা ইউরিয়া সার আটক, পরে উধাও: নেপথ্যে জনপ্রতিনিধি ও সিন্ডিকেটের যোগসাজশের অভিযোগ বগুড়ায় রেলের দখলকৃত জলাশয় উদ্ধার, ডেঙ্গু প্রতিরোধে পরিচ্ছন্নতা অভিযান হৃদয়ে ছিদ্র নিয়ে বাঁচার লড়াই, ছোট্ট রিহানের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান রাজশাহীতে ৬১ কেজি গাঁজাসহ তিন মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার নাগরপুরে জালাই পাইকাইল স্পোর্টিং ক্লাবের ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্যের প্রতিবাদে চরযশোরদীতে ছাত্রদলের বিক্ষোভ মিছিল

শুভ মধু পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের গুরুত্বপূর্ণ তিথি

  • প্রতিবেদকের নাম
  • আপডেটের সময়: ১২:২৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৭৪ সময় দেখুন

দীঘিনালা প্রতিনিধিঃ মধু পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একটি অত্যন্ত পবিত্র ও আনন্দময় পূণ্যময় তিথি । ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এটি উদযাপিত হয়।এই পূর্ণিমার মূল তাৎপর্য ও প্রেক্ষাপট নিচে তুলে ধরা হলো:

 

​১. দান ও ঐক্যের শিক্ষা
​মধু পূর্ণিমার প্রধান শিক্ষা হলো দান, অহিংসা, ভালোবাসা এবং সকল জীবের প্রতি মৈত্রী ভাব। মধু যেমন বিভিন্ন ফুল থেকে সংগৃহীত হয়ে মিষ্টতা তৈরি করে, তেমনি জীবনের নানা বৈচিত্র্যের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখাই এই উৎসবের মূল বার্তা।

আরও পড়ুনঃ  রাজধানীর চারপাশের নদ-নদী দূষণের ৪২৪ উৎস শনাক্ত: পরিবেশ প্রতিমন্ত্রী

 

 

​২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (বানর ও হাতির দান)
​বৌদ্ধ ধর্মীয় ইতিহাস অনুযায়ী, গৌতম বুদ্ধ যখন কোশাম্বির ঘোষিতারামে অবস্থান করছিলেন, তখন তাঁর শিষ্যদের (ভিক্ষু সংঘের) মধ্যে কিছুটা মতভেদের সৃষ্টি হয়। ভগবান বুদ্ধ তাঁদের শান্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে এককভাবে নির্জনতা পালনের জন্য পারিলেয়্য বনে চলে যান।
​হাতির সেবা: সেই বনে ‘পারিলেয়্য’ নামের একটি বুনো হাতি বুদ্ধের নিঃস্বার্থ সেবা করা শুরু করে। হাতিটি প্রতিদিন বুদ্ধের থাকার স্থান পরিষ্কার করত এবং বনের ফলমূল সংগ্রহ করে বুদ্ধকে দান করত।বানরের মধু দান: হাতির সেবা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে বনের একটি বানর একটি গাছের কোটর থেকে মৌচাক সংগ্রহ করে তা বুদ্ধকে দান করে। চাকটিতে মৌমাছির ডিম ছিল বলে বুদ্ধ তা প্রথমে গ্রহণ করেননি। তা বুঝতে পেরে বানরটি সাবধানে ডিমগুলো সরিয়ে আবার বুদ্ধের কাছে মধু নিবেদন করে। বুদ্ধ প্রসন্ন মনে সেই মধু গ্রহণ করেন।
​বানরটি বুদ্ধের মধু গ্রহণের আনন্দ সহ্য করতে না পেরে গাছের ডাল ধরে লাফাতে গিয়ে পড়ে মারা যায় এবং তাঁর এই পরম দানের পুণ্যফলে দেবলোকে জন্মগ্রহণ করে।

আরও পড়ুনঃ  লালপুরে দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

 

 

​৩. সংঘবদ্ধতা ও শান্তির বার্তা
​কোশাম্বির বিরোধে জড়িয়ে পড়া শিষ্যরা যখন জানতে পারেন যে একজন বনের পশুও বুদ্ধের প্রতি অনুগত থেকে তাঁর সেবা করছে, তখন তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পারেন। তারা বুদ্ধের কাছে ক্ষমা চান এবং নিজেদের মধ্যকার বিভেদ ভুলে আবার ঐক্যবদ্ধ হন।
পূণ্যার্থীরা সকালে বিহারে এসে বুদ্ধকে বন্দনা পরে ভিক্ষুদের বন্দনা ও পঞ্চশীল গ্রহণ করে দান কার্য সম্পাদন করে থাকেন৷

আরও পড়ুনঃ  হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডে পাঁচ গুণ রোগী তীব্র সংকটে ওষুধ-সরঞ্জাম
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

আদালতে পুলিশ কর্মকর্তা পরিচয়ে মামলার বাদীদের টার্গেট করে প্রতারণা

শুভ মধু পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের গুরুত্বপূর্ণ তিথি

আপডেটের সময়: ১২:২৪:১৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬

দীঘিনালা প্রতিনিধিঃ মধু পূর্ণিমা বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের একটি অত্যন্ত পবিত্র ও আনন্দময় পূণ্যময় তিথি । ভাদ্র মাসের পূর্ণিমা তিথিতে এটি উদযাপিত হয়।এই পূর্ণিমার মূল তাৎপর্য ও প্রেক্ষাপট নিচে তুলে ধরা হলো:

 

​১. দান ও ঐক্যের শিক্ষা
​মধু পূর্ণিমার প্রধান শিক্ষা হলো দান, অহিংসা, ভালোবাসা এবং সকল জীবের প্রতি মৈত্রী ভাব। মধু যেমন বিভিন্ন ফুল থেকে সংগৃহীত হয়ে মিষ্টতা তৈরি করে, তেমনি জীবনের নানা বৈচিত্র্যের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতি বজায় রাখাই এই উৎসবের মূল বার্তা।

আরও পড়ুনঃ  জ্বালানি তেলের অযৌক্তিক মূল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত প্রত্যাহারের দাবিতে মৌলভীবাজার বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ

 

 

​২. ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট (বানর ও হাতির দান)
​বৌদ্ধ ধর্মীয় ইতিহাস অনুযায়ী, গৌতম বুদ্ধ যখন কোশাম্বির ঘোষিতারামে অবস্থান করছিলেন, তখন তাঁর শিষ্যদের (ভিক্ষু সংঘের) মধ্যে কিছুটা মতভেদের সৃষ্টি হয়। ভগবান বুদ্ধ তাঁদের শান্ত করার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে এককভাবে নির্জনতা পালনের জন্য পারিলেয়্য বনে চলে যান।
​হাতির সেবা: সেই বনে ‘পারিলেয়্য’ নামের একটি বুনো হাতি বুদ্ধের নিঃস্বার্থ সেবা করা শুরু করে। হাতিটি প্রতিদিন বুদ্ধের থাকার স্থান পরিষ্কার করত এবং বনের ফলমূল সংগ্রহ করে বুদ্ধকে দান করত।বানরের মধু দান: হাতির সেবা দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে বনের একটি বানর একটি গাছের কোটর থেকে মৌচাক সংগ্রহ করে তা বুদ্ধকে দান করে। চাকটিতে মৌমাছির ডিম ছিল বলে বুদ্ধ তা প্রথমে গ্রহণ করেননি। তা বুঝতে পেরে বানরটি সাবধানে ডিমগুলো সরিয়ে আবার বুদ্ধের কাছে মধু নিবেদন করে। বুদ্ধ প্রসন্ন মনে সেই মধু গ্রহণ করেন।
​বানরটি বুদ্ধের মধু গ্রহণের আনন্দ সহ্য করতে না পেরে গাছের ডাল ধরে লাফাতে গিয়ে পড়ে মারা যায় এবং তাঁর এই পরম দানের পুণ্যফলে দেবলোকে জন্মগ্রহণ করে।

আরও পড়ুনঃ  লালপুরে দুর্নীতি বিরোধী বিতর্ক প্রতিযোগিতা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠিত

 

 

​৩. সংঘবদ্ধতা ও শান্তির বার্তা
​কোশাম্বির বিরোধে জড়িয়ে পড়া শিষ্যরা যখন জানতে পারেন যে একজন বনের পশুও বুদ্ধের প্রতি অনুগত থেকে তাঁর সেবা করছে, তখন তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পারেন। তারা বুদ্ধের কাছে ক্ষমা চান এবং নিজেদের মধ্যকার বিভেদ ভুলে আবার ঐক্যবদ্ধ হন।
পূণ্যার্থীরা সকালে বিহারে এসে বুদ্ধকে বন্দনা পরে ভিক্ষুদের বন্দনা ও পঞ্চশীল গ্রহণ করে দান কার্য সম্পাদন করে থাকেন৷

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহী রেলস্টেশনে ভাঙচুর: ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে দুই তদন্ত কমিটি