Dhaka ০৮:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬, ২১ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
হোসেনপুরের উন্নয়নে কর্মকর্তাদের সাথে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের বৈঠক শহীদ জিয়া ও খালেদা জিয়া স্মৃতি আন্ত স্কুল ফুটবল টুর্নামেন্টঃ উপদেষ্টা ও পৃষ্ঠপোষক পরিষদ গঠিত বৃষ্টি ছাড়াই বজ্রপাত, ঠাকুরগাঁওয়ে গরুর মৃত্যু মোংলায় ভুয়া র‍্যাব পরিচয়কারী আটক গোবিন্দগঞ্জে মাদকসহ ২ জন কে ৩৭ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে বগুড়ার সাবেক পৌর প্রশাসক রাজিয়া সুলতানার বিরুদ্ধে তদন্তের নির্দেশ ভোলায় ফ্ল্যাট থেকে গৃহবধূর লাশ উদ্ধার স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন পলাতক কাউনিয়ার কুর্শায় নারী কৃষকদের উৎপাদিত দেশি হাঁস-মুরগি ও ডিমের হাট উদ্বোধন হামে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আড়াই মাসে প্রাণ গেল ৬০৫ জনের বন্ধ কারখানায় বিনিয়োগ টানতে রোড শো করবে সরকার: প্রধানমন্ত্রী

জুলাইয়ের হারিয়ে যাওয়া নারী কণ্ঠস্বর খুঁজে বের করবো: নাহিদ ইসলাম

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সারাদেশের জুলাইয়ের যে সব নারী কণ্ঠস্বর হারিয়ে গিয়েছে আমরা তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করবো বলে জানিয়েছেন, ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, আমাদের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বড় একটি স্টেকহোল্ডার হচ্ছে নারীরা। ফলে সেই জায়গায় আমাদের ওপরে এটা দায়িত্ব আসে। সারা দেশের জুলাইয়ের যে সব কণ্ঠস্বর, নারী কণ্ঠস্বর হারিয়ে গিয়েছে। আমরা তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করবো। জাতীয় নারী শক্তি সেটা চেষ্টা করবে। তারা রাজনীতি করুক বা না করুক, দেশ পরিবর্তনের মর্যাদা এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় সেই জায়গাটা তাদের কণ্ঠগুলো আমরা তাদের কথাগুলো যাতে শুনি এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করি। আজ রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় নারী শক্তির আত্মপ্রকাশ প্রকাশ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আমাদের সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে তা হলো—জুলাই আন্দোলনের সেই নারীরা এখন কোথায়? যারা রাজপথে সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে ছিলেন, পরবর্তীতে রাজনীতির মাঠে তাদের সেই হারে দেখা যাচ্ছে না কেন? আন্দোলনের নেতৃত্ব হিসেবে এর দায় আমাদের ওপর কতটুকু বর্তায়, সেটিও একটি বড় প্রশ্ন। তিনি আরও বলেন, আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। এটি বাস্তবতা যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যেসব নারী রাজপথে নেমে এসেছিলেন, তাদের সবাই পরবর্তীতে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেননি। বড় একটি অংশকে আমরা রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে হারিয়ে ফেলেছি। তবে আমরা যখন জুলাই পদযাত্রায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়েছি, তখন আন্দোলনকারী সেই সব নারী ও বোনদের সঙ্গে আমাদের দেখা হয়েছে। তাদের মাঝে পরিবর্তনের গভীর আকাঙ্ক্ষা এবং নিজেদের মতামত প্রকাশের প্রবল ইচ্ছা থাকলেও নানা পারিপার্শ্বিক বাস্তবতার কারণে তারা তা পেরে ওঠেননি।

আরও পড়ুনঃ  নেপালকে হারিয়ে টানা তৃতীয়বার ফাইনালে বাংলাদেশ

নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে নারীদের লক্ষ্য করে অনলাইন বা সাইবার বুলিংয়ের প্রবণতা অনেক বেড়ে গেছে। বিশেষ করে যে সব নারী রাজনৈতিকভাবে নিজেদের কণ্ঠস্বর জোরালো করার চেষ্টা করছেন, তাদের এমনভাবে টার্গেট করা হচ্ছে যে তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। এই পরিস্থিতির কারণে ছাত্র আন্দোলনের অনেক নারীই রাজনীতি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এছাড়া সাংগঠনিকভাবে হয়ত আমরাও নারীদের জন্য সেই কাঙ্ক্ষিত স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারিনি। সাইবার জগতের এই বিষাক্ত প্রভাব এতটাই তীব্র ছিল যে, আমাদের একজন নারী কর্মী নির্বাচনের আগে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছিলেন। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে ভয়াবহভাবে সাইবার বুলিং করা হয়। হয়ত তার ব্যক্তিগত জীবনে আরও অনেক কারণ থাকতে পারে, কিন্তু ওই ঘটনাটি তাকে এতটাই মানসিকভাবে আঘাত করেছিল যে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন। ঢাকা শহরেই যদি নারীদের এমন চাপ সহ্য করতে হয়, তবে ঢাকার বাইরের পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তা সহজেই অনুমেয়।

আরও পড়ুনঃ  জামায়াত নেতারা অপপ্রচার, মিথ্যাচার করে: রিজভী

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, যে কোনো নির্বাচনের পরেই হঠাৎ করেই যেন নারীদের প্রতি সহিংসতা বেড়ে যায়। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাবো দৃঢ়ভাবে কঠোরভাবে এটা বন্ধ করার জন্য এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। কারণ বিচারহীনতা সংস্কৃতি থেকেই সমাজে এই জিনিসগুলো বাড়তে থাকে। তিনি বলেন, আমরা হাতিয়ার ঘটনা দেখেছি। আরও বিভিন্ন জায়গায় দেখেছি এবং যে কোনো পাওয়ার শিফটিংয়ের সঙ্গে সঙ্গেই নারীদের প্রতি সহিংসতা হঠাৎ করেই সমাজে বেড়ে যায়। এটা নিজের দলকেও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং দল মত যেই হোক না কেন অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে বিচার আওতায় আনতে হবে। সরকারের প্রতি সেই আহ্বান আমাদের থাকবে। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেত্রী নুসরাত, ঝুমা, জায়মা, মনিরা শারমিন প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় নারীশক্তি আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেন নাহিদ ইসলাম। এ সময় জাতীয় নারীশক্তির মুখ্য সংগঠক হিসেবে নুসরাত তাবাসসুম, সদস্য সচিব হিসেবে ডা. মাহমুদ আলম মিতু ও আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের নাম নাম ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  হামে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু, আড়াই মাসে প্রাণ গেল ৬০৫ জনের
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

হোসেনপুরের উন্নয়নে কর্মকর্তাদের সাথে জেলা প্রশাসক সোহানা নাসরিনের বৈঠক

জুলাইয়ের হারিয়ে যাওয়া নারী কণ্ঠস্বর খুঁজে বের করবো: নাহিদ ইসলাম

আপডেটের সময়: ০৭:২৬:২৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ৮ মার্চ ২০২৬

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ সারাদেশের জুলাইয়ের যে সব নারী কণ্ঠস্বর হারিয়ে গিয়েছে আমরা তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করবো বলে জানিয়েছেন, ঢাকা-১১ আসনের সংসদ সদস্য ও এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বলেন, আমাদের জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বড় একটি স্টেকহোল্ডার হচ্ছে নারীরা। ফলে সেই জায়গায় আমাদের ওপরে এটা দায়িত্ব আসে। সারা দেশের জুলাইয়ের যে সব কণ্ঠস্বর, নারী কণ্ঠস্বর হারিয়ে গিয়েছে। আমরা তাদের খুঁজে বের করার চেষ্টা করবো। জাতীয় নারী শক্তি সেটা চেষ্টা করবে। তারা রাজনীতি করুক বা না করুক, দেশ পরিবর্তনের মর্যাদা এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় সেই জায়গাটা তাদের কণ্ঠগুলো আমরা তাদের কথাগুলো যাতে শুনি এবং তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করি। আজ রোববার (৮ মার্চ) রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাগর-রুনি মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন। জাতীয় নারী শক্তির আত্মপ্রকাশ প্রকাশ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপি।

নাহিদ ইসলাম বলেন, গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে আমাদের সবচেয়ে বেশি যে প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়েছে তা হলো—জুলাই আন্দোলনের সেই নারীরা এখন কোথায়? যারা রাজপথে সক্রিয়ভাবে আন্দোলনে ছিলেন, পরবর্তীতে রাজনীতির মাঠে তাদের সেই হারে দেখা যাচ্ছে না কেন? আন্দোলনের নেতৃত্ব হিসেবে এর দায় আমাদের ওপর কতটুকু বর্তায়, সেটিও একটি বড় প্রশ্ন। তিনি আরও বলেন, আমাদের সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। এটি বাস্তবতা যে, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যেসব নারী রাজপথে নেমে এসেছিলেন, তাদের সবাই পরবর্তীতে সক্রিয় রাজনীতিতে অংশ নেননি। বড় একটি অংশকে আমরা রাজনৈতিক অঙ্গন থেকে হারিয়ে ফেলেছি। তবে আমরা যখন জুলাই পদযাত্রায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তে গিয়েছি, তখন আন্দোলনকারী সেই সব নারী ও বোনদের সঙ্গে আমাদের দেখা হয়েছে। তাদের মাঝে পরিবর্তনের গভীর আকাঙ্ক্ষা এবং নিজেদের মতামত প্রকাশের প্রবল ইচ্ছা থাকলেও নানা পারিপার্শ্বিক বাস্তবতার কারণে তারা তা পেরে ওঠেননি।

আরও পড়ুনঃ  পতেঙ্গায় অবৈধ টমটমের দাপট ও লক্ষ টাকার টোকেন বাণিজ্য

নাহিদ ইসলাম উল্লেখ করেন, জুলাই-পরবর্তী সময়ে নারীদের লক্ষ্য করে অনলাইন বা সাইবার বুলিংয়ের প্রবণতা অনেক বেড়ে গেছে। বিশেষ করে যে সব নারী রাজনৈতিকভাবে নিজেদের কণ্ঠস্বর জোরালো করার চেষ্টা করছেন, তাদের এমনভাবে টার্গেট করা হচ্ছে যে তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়ছেন। এই পরিস্থিতির কারণে ছাত্র আন্দোলনের অনেক নারীই রাজনীতি ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন। এছাড়া সাংগঠনিকভাবে হয়ত আমরাও নারীদের জন্য সেই কাঙ্ক্ষিত স্বাচ্ছন্দ্য ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারিনি। সাইবার জগতের এই বিষাক্ত প্রভাব এতটাই তীব্র ছিল যে, আমাদের একজন নারী কর্মী নির্বাচনের আগে আত্মহত্যা করতে বাধ্য হয়েছিলেন। ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাকে ভয়াবহভাবে সাইবার বুলিং করা হয়। হয়ত তার ব্যক্তিগত জীবনে আরও অনেক কারণ থাকতে পারে, কিন্তু ওই ঘটনাটি তাকে এতটাই মানসিকভাবে আঘাত করেছিল যে তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন। ঢাকা শহরেই যদি নারীদের এমন চাপ সহ্য করতে হয়, তবে ঢাকার বাইরের পরিস্থিতি কতটা ভয়াবহ তা সহজেই অনুমেয়।

আরও পড়ুনঃ  ফ্ল্যাটে মায়ের নিঃসঙ্গ মৃত্যু ছেলে সেই যুগ্মসচিবকে প্রত্যাহার

এনসিপির আহ্বায়ক বলেন, যে কোনো নির্বাচনের পরেই হঠাৎ করেই যেন নারীদের প্রতি সহিংসতা বেড়ে যায়। আমরা সরকারের প্রতি আহ্বান জানাবো দৃঢ়ভাবে কঠোরভাবে এটা বন্ধ করার জন্য এবং আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য। কারণ বিচারহীনতা সংস্কৃতি থেকেই সমাজে এই জিনিসগুলো বাড়তে থাকে। তিনি বলেন, আমরা হাতিয়ার ঘটনা দেখেছি। আরও বিভিন্ন জায়গায় দেখেছি এবং যে কোনো পাওয়ার শিফটিংয়ের সঙ্গে সঙ্গেই নারীদের প্রতি সহিংসতা হঠাৎ করেই সমাজে বেড়ে যায়। এটা নিজের দলকেও নিয়ন্ত্রণ করতে হবে এবং দল মত যেই হোক না কেন অপরাধী যেই হোক না কেন তাকে বিচার আওতায় আনতে হবে। সরকারের প্রতি সেই আহ্বান আমাদের থাকবে। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সাবেক মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার, এনসিপির কেন্দ্রীয় নেত্রী নুসরাত, ঝুমা, জায়মা, মনিরা শারমিন প্রমুখ। অনুষ্ঠান শেষে জাতীয় নারীশক্তি আত্মপ্রকাশ ঘোষণা করেন নাহিদ ইসলাম। এ সময় জাতীয় নারীশক্তির মুখ্য সংগঠক হিসেবে নুসরাত তাবাসসুম, সদস্য সচিব হিসেবে ডা. মাহমুদ আলম মিতু ও আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের নাম নাম ঘোষণা করা হয়।

আরও পড়ুনঃ  ঈদ-পরবর্তী সময়েও পর্যটকদের পদচারণায় মুখর বান্দরবান