
মাসুদ রানা মাসুম, নিজস্ব প্রতিবেদক: আজ চৈত্রের শেষ দিন। বছরের শেষ বিকেলটায় পার্বত্য অঞ্চলের পাহাড়-নদী-ঝিরিগুলো যেন এক অদ্ভুত নীরব সৌন্দর্যে বিদায় জানাচ্ছে পুরনো সময়কে। আর সেই নীরবতার ভেতরেই ধীরে ধীরে জমে উঠছে নতুন বছরের উচ্ছ্বাস—আগামীকাল পহেলা বৈশাখ।
তবে এবার উৎসবটি অন্যবারের মতো নয়—বরং নজিরবিহীন আয়োজনের সাক্ষী হতে যাচ্ছে পুরো পার্বত্য জনপদ। মারমা, চাকমা, ত্রিপুরা সহ বিভিন্ন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই, বৈসু ও বিজু উৎসবের সঙ্গে বাঙালির পহেলা বৈশাখ একসাথে মিলেমিশে তৈরি করেছে এক অনন্য সাংস্কৃতিক বন্ধন।
জেলা সদরের রাজার মাঠ থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত পাহাড়ি পাড়াগুলোতে চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। রঙিন পোশাক, পানির খেলা, ঐতিহ্যবাহী খাবার আর নৃত্যগীত—সব মিলিয়ে পুরো অঞ্চল যেন উৎসবের এক জীবন্ত ক্যানভাসে রূপ নিচ্ছে।
স্থানীয়দের ভাষায়, “এবারের আয়োজন শুধু উৎসব নয়, এটি একতার প্রতীক।” দীর্ঘদিনের বিভাজন ভুলে একসাথে উদযাপনের এই উদ্যোগ ইতোমধ্যেই সাধারণ মানুষের মাঝে সৃষ্টি করেছে ব্যাপক আগ্রহ ও উদ্দীপনা।
প্রশাসন ও সামাজিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত প্রচেষ্টায় নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হয়েছে। ফলে উৎসব ঘিরে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে সবাই সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
পুরনো বছরের ক্লান্তি ঝেড়ে ফেলে নতুন স্বপ্ন নিয়ে বৈশাখকে বরণ করতে প্রস্তুত পার্বত্য অঞ্চল। চৈত্রের শেষ সূর্যাস্ত যেন এক নতুন সূর্যের প্রতিশ্রুতি—যেখানে মিলবে সংস্কৃতি, সম্প্রীতি আর নতুন সম্ভাবনার আলো।
প্রতিবেদকের নাম 





















