
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সংঘর্ষে আহত শিক্ষার্থী ও জকসু নেতাদের চিকিৎসার জন্য রাজধানীর ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরও উত্তেজনা থামেনি। হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে গিয়ে তাদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় কয়েকজন সাধারণ রোগী, রোগীর স্বজন এবং দায়িত্ব পালনরত সাংবাদিকও আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মিলনায়তনে ইউজিসি চেয়ারম্যানের উপস্থিতিতে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিভিন্ন দাবি তুলে ধরে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়। জকসু প্রতিনিধিরা দ্বিতীয় ক্যাম্পাসের কাজ দ্রুত সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর, কেরানীগঞ্জে অস্থায়ী আবাসন প্রকল্প বাস্তবায়ন এবং মেডিকেল সেন্টারের উন্নয়নের দাবিতে প্ল্যাকার্ড প্রদর্শনের চেষ্টা করলে বাধার অভিযোগ ওঠে। এরপর ছাত্রদল, জকসু, ছাত্রশিবির, ছাত্রশক্তি ও অন্যান্য ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীদের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া এবং সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সংঘর্ষে জকসুর ভিপি মো. রিয়াজুল ইসলাম, জিএস আব্দুল আলিম আরিফ, এজিএস মাসুদ রানা, আইনবিষয়ক সম্পাদক ফারুক, ছাত্রশক্তির সভাপতি শাহিন মিয়া এবং সাধারণ সম্পাদক ফেরদৌস শেখসহ কয়েকজন ছাত্রনেতা আহত হন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে কয়েকজন সাংবাদিকও হামলার শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আহতদের চিকিৎসার জন্য ন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে আবারও উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, হাসপাতালের ভেতরে চিকিৎসাধীন শিক্ষার্থী ও জকসু নেতাকর্মীদের লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। হাসপাতালের বাইরে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনাও ঘটে। এতে কয়েকজন সাধারণ রোগী ও তাদের স্বজন আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। সংঘর্ষের কারণে কিছু সময়ের জন্য হাসপাতালের চিকিৎসাসেবাও ব্যাহত হয়। পরে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে হাসপাতাল ও আশপাশের এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। ঘটনার পর জকসু ও বিভিন্ন ছাত্রসংগঠন হামলার নিন্দা জানিয়ে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছে। অন্যদিকে ছাত্রদলের পক্ষ থেকেও এ ঘটনায় পাল্টা অভিযোগ আনা হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস থেকে হাসপাতাল পর্যন্ত সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়ায় জবি এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। শিক্ষার্থীরা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের শনাক্ত করে শাস্তি এবং ক্যাম্পাসে স্বাভাবিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।
প্রতিবেদকের নাম 

























