
সিপন,নাগরপুর প্রতিনিধি: টাঙ্গাইলের নাগরপুর উপজেলায় তীব্র বিদ্যুৎ সংকট ও লাগামহীন লোডশেডিংয়ে জনজীবন চরম দুর্ভোগে পড়েছে। একদিকে প্রচণ্ড তাপদাহ, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েছেন শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা। পাশাপাশি বিদ্যুৎনির্ভর ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। স্থানীয়রা জানান, সাম্প্রতিক সময়ে লোডশেডিংয়ের মাত্রা আরও বেড়েছে। উপজেলা সদরে ২৪ ঘণ্টায় মাত্র ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাওয়া গেলেও গ্রামের পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। অনেক এলাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। এর সঙ্গে ঘন ঘন ভোল্টেজ ওঠানামার কারণে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত বিদ্যুৎ বিল আসছে বলেও অভিযোগ করেছেন একাধিক গ্রাহক।পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, নাগরপুর উপজেলায় পল্লী বিদ্যুতের আওতায় প্রায় ১ লাখ ১০ হাজার গ্রাহক রয়েছেন। এসব গ্রাহকের জন্য বিদ্যুতের চাহিদা প্রায় ২৮ মেগাওয়াট হলেও বর্তমানে সরবরাহ করা হচ্ছে মাত্র ৯ মেগাওয়াট। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অত্যন্ত কম হওয়ায় জোড়াতালি দিয়ে বিদ্যুৎ বিতরণ করতে হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
উপজেলার গ্রাহক মো. আয়নাল সিকদার বলেন, “বিদ্যুৎ যায় না, মাঝে মাঝে শুধু একটু আসে। এমন পরিস্থিতিতে স্বাভাবিক জীবনযাপন অসম্ভব হয়ে পড়েছে।” এদিকে ১৩৫ টাঙ্গাইল-৬ (নাগরপুর-দেলদুয়ার) আসনের বিদ্যুৎ সংকট নিরসনে স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়াল লাভলু বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীর কাছে একটি ডেমি অফিসিয়াল (ডিও) লেটার পাঠিয়েছেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এমপি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) চেয়ারম্যানের কাছে চিঠিটি প্রেরণ করেছেন। সংসদ সদস্য মো. রবিউল আওয়াল লাভলু আশা প্রকাশ করে বলেন, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে দ্রুত নাগরপুরের বিদ্যুৎ সংকট দূর হবে এবং গ্রাহকরা স্বস্তি ফিরে পাবেন। এ বিষয়ে নাগরপুর পল্লী বিদ্যুৎ জোনাল অফিসের ডিজিএম (অতিরিক্ত) নয়ন চন্দ্র সরকার বলেন, “চাহিদার তুলনায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অনেক কম থাকায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে লিখিতভাবে জানানো হয়েছে। সরবরাহ বাড়লেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে আসবে।”
প্রতিবেদকের নাম 








