Dhaka ০৫:৫৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
গাজীপুরে বিয়ের অনুষ্ঠানে ‘মদ’ভেবে মিথানল পান,দুই যুবকের মৃত্যু বাগমারা’য় পরীক্ষা কেন্দ্রে যাওয়ার পথে দুর্ঘটনা, ৬ পরীক্ষার্থীসহ আহত ৭ দীঘিনালা জোনের পক্ষ থেকে মাদ্রাসা ও এতিমখানায় গাছের চারা ও বিভিন্ন শুকনো খাবার প্রদান সাঘাটা পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ে অধ্যক্ষ ও অফিস সহায়কের বিদায় সংবর্ধনা ভাঙ্গুড়ায় মোবাইল কোর্টে ৬৫টি নিষিদ্ধ চায়না দুয়ারী জাল জব্দ ও ধ্বংস চাটমোহরে বিশেষ অভিযানে ছাত্রলীগ সভাপতি ও আওয়ামী লীগ নেতাকে গ্রেফতার গোপন বৈঠকের মামলায় ঈশ্বরদীতে যুবলীগ নেতা গ্রেপ্তার দিনাজপুরের ফুলবাড়িতে অটোরিকশা ছি,নতাইয়ের সময় সু,রিকাঘাতে নিহত দীঘিনালা সেনাবাহিনীর উদ্যোগে ২৬ হাজার চারা বিতরণ পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সহায়তায় মহালছড়িতে বন্যাদুর্গত মাঝে ত্রাণ বিতরণ: প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন

চট্টগ্রামে নিরাপদ পানির সংকটে ৮ লাখ মানুষ

মোঃ সৈয়দ মিয়া : চট্টগ্রাম ব্যুরো: ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও চন্দনাইশ উপজেলায় নিরাপদ পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) তথ্য অনুযায়ী, এ তিন উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার নলকূপ এবং ৫ হাজার ৬৯৪টি টয়লেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৮ লাখ মানুষ বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছেন। ডিপিএইচই জানায়, তিন উপজেলায় মোট ১৯ হাজার ৯৬১টি নলকূপ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ১১০টি সম্পূর্ণ এবং ৭ হাজার ৮৫১টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন উভয় ধরনের নলকূপই বন্যার পানিতে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। সাতকানিয়া উপজেলায় ৭ হাজার ১২৭টি নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ১৫টি সম্পূর্ণ এবং ২ হাজার ১১২টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। একই সঙ্গে উপজেলার ২ হাজার ১৫৬টি টয়লেট নষ্ট হয়েছে। বাঁশখালী উপজেলায় ৮ হাজার ২৬টি নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫২৩টি সম্পূর্ণ এবং ৩ হাজার ৫০৩টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। পাশাপাশি ২ হাজার ৪২৭টি টয়লেটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চন্দনাইশ উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪ হাজার ৮০৮টি নলকূপ। এর মধ্যে ২ হাজার ৫৭২টি সম্পূর্ণ এবং ২ হাজার ২৩৬টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। এ উপজেলায় ১ হাজার ৬৬টি টয়লেট নষ্ট হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বন্যার পানি নেমে গেলেও অধিকাংশ নলকূপ থেকে এখনও ঘোলা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি উঠছে। ফলে অনেক পরিবার দূর-দূরান্ত থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  কুলাউড়ায় মনু নদীর বিভিন্ন স্থানে বাঁধে ধস, আতঙ্কে তীরবর্তী মানুষ যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা

 

সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া গ্রামের বাসিন্দা সিদ্দিক আহমেদ বলেন, দুই দিন ধরে আমার ছোট মেয়ে ডায়রিয়ায় ভুগছে, আর স্ত্রী চর্মরোগে আক্রান্ত। বিশুদ্ধ পানির অভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাঁশখালীর কোকদণ্ডী গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ রফিক বলেন, আমাদের গ্রামের প্রায় সব নলকূপই দূষিত হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে অনেকে অনিরাপদ পানি পান করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপ দ্রুত জীবাণুমুক্ত ও মেরামত করে নিরাপদ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয়, টাইফয়েড ও চর্মরোগের প্রকোপ আরও বাড়তে পারে। তাই বন্যাদুর্গত মানুষকে পানি ফুটিয়ে বা বিশুদ্ধ করে পান করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাস বলেন, ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপ পুনঃস্থাপন, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপ মেরামত এবং দুর্গত এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবদুর রব বলেন, বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষকে অবশ্যই পানি ফুটিয়ে বা বিশুদ্ধ করে পান করতে হবে। ভালোভাবে হাত ধুতে হবে। সাপে কামড় দিলে বা পানিবাহিত রোগের লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে হাসপাতালে যেতে হবে। এ সময়ে এসে শিশু, বৃদ্ধ ও অন্তঃসত্ত্বাদের যেন অযত্ন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  ঐতিহ্যবাহী সিমসম ঘাট চালুর দাবিতে নৌকার মাঝিদের মানববন্ধন

 

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বন্যার পর পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই বিভিন্ন উপজেলায় মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসার পাশাপাশি ওষুধ, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. ফজলে রাব্বি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত আছে। আমাদের মেডিকেল টিমগুলো মাঠে সক্রিয় আছে। আগেই প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত করেছিলাম। এখন পর্যন্ত ৫০ হাজারের বেশি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত স্যালাইন ও ওষুধের মজুত রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  বায়ু-শব্দদূষণ রোধে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

গাজীপুরে বিয়ের অনুষ্ঠানে ‘মদ’ভেবে মিথানল পান,দুই যুবকের মৃত্যু

চট্টগ্রামে নিরাপদ পানির সংকটে ৮ লাখ মানুষ

আপডেটের সময়: ০৭:২৪:৩০ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

মোঃ সৈয়দ মিয়া : চট্টগ্রাম ব্যুরো: ভয়াবহ বন্যায় চট্টগ্রামের দক্ষিণাঞ্চলের সাতকানিয়া, বাঁশখালী ও চন্দনাইশ উপজেলায় নিরাপদ পানীয় জলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ডিপিএইচই) তথ্য অনুযায়ী, এ তিন উপজেলায় প্রায় ২০ হাজার নলকূপ এবং ৫ হাজার ৬৯৪টি টয়লেট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৮ লাখ মানুষ বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছেন। ডিপিএইচই জানায়, তিন উপজেলায় মোট ১৯ হাজার ৯৬১টি নলকূপ সম্পূর্ণ বা আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ১২ হাজার ১১০টি সম্পূর্ণ এবং ৭ হাজার ৮৫১টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। সরকারি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন উভয় ধরনের নলকূপই বন্যার পানিতে অকার্যকর হয়ে পড়েছে। সাতকানিয়া উপজেলায় ৭ হাজার ১২৭টি নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৫ হাজার ১৫টি সম্পূর্ণ এবং ২ হাজার ১১২টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। একই সঙ্গে উপজেলার ২ হাজার ১৫৬টি টয়লেট নষ্ট হয়েছে। বাঁশখালী উপজেলায় ৮ হাজার ২৬টি নলকূপ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ৫২৩টি সম্পূর্ণ এবং ৩ হাজার ৫০৩টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। পাশাপাশি ২ হাজার ৪২৭টি টয়লেটও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। চন্দনাইশ উপজেলায় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ৪ হাজার ৮০৮টি নলকূপ। এর মধ্যে ২ হাজার ৫৭২টি সম্পূর্ণ এবং ২ হাজার ২৩৬টি আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত। এ উপজেলায় ১ হাজার ৬৬টি টয়লেট নষ্ট হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, বন্যার পানি নেমে গেলেও অধিকাংশ নলকূপ থেকে এখনও ঘোলা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি উঠছে। ফলে অনেক পরিবার দূর-দূরান্ত থেকে খাবার পানি সংগ্রহ করতে বাধ্য হচ্ছে।

আরও পড়ুনঃ  প্রযুক্তির সঙ্গে তাল মিলিয়ে সাংবাদিকদের এগিয়ে যেতে হবে’- পিআইবির মহাপরিচালক

 

সাতকানিয়ার কেঁওচিয়া গ্রামের বাসিন্দা সিদ্দিক আহমেদ বলেন, দুই দিন ধরে আমার ছোট মেয়ে ডায়রিয়ায় ভুগছে, আর স্ত্রী চর্মরোগে আক্রান্ত। বিশুদ্ধ পানির অভাবেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। বাঁশখালীর কোকদণ্ডী গ্রামের বাসিন্দা মোহাম্মদ রফিক বলেন, আমাদের গ্রামের প্রায় সব নলকূপই দূষিত হয়ে গেছে। বাধ্য হয়ে অনেকে অনিরাপদ পানি পান করছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপ দ্রুত জীবাণুমুক্ত ও মেরামত করে নিরাপদ পানির সরবরাহ নিশ্চিত করা না গেলে ডায়রিয়া, কলেরা, আমাশয়, টাইফয়েড ও চর্মরোগের প্রকোপ আরও বাড়তে পারে। তাই বন্যাদুর্গত মানুষকে পানি ফুটিয়ে বা বিশুদ্ধ করে পান করার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার পরামর্শ দিয়েছেন তারা। জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম জেলার নির্বাহী প্রকৌশলী পলাশ চন্দ্র দাস বলেন, ক্ষয়ক্ষতির তালিকা তৈরি করে জরুরি ভিত্তিতে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। সম্পূর্ণ ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপ পুনঃস্থাপন, আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত নলকূপ মেরামত এবং দুর্গত এলাকায় নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিত করতে কাজ চলছে। চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবদুর রব বলেন, বন্যাদুর্গত এলাকার মানুষকে অবশ্যই পানি ফুটিয়ে বা বিশুদ্ধ করে পান করতে হবে। ভালোভাবে হাত ধুতে হবে। সাপে কামড় দিলে বা পানিবাহিত রোগের লক্ষণ দেখা দিলে অবিলম্বে হাসপাতালে যেতে হবে। এ সময়ে এসে শিশু, বৃদ্ধ ও অন্তঃসত্ত্বাদের যেন অযত্ন না হয়, সেদিকে খেয়াল রাখা প্রয়োজন।

আরও পড়ুনঃ  উত্তর পতেঙ্গাস্থ মুসলিমাবাদে মিফতাহুল জান্নাত ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প অনুষ্ঠিত

 

চট্টগ্রামের সিভিল সার্জন ডা. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বন্যার পর পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি বেড়ে যায়। তাই বিভিন্ন উপজেলায় মেডিকেল ক্যাম্প পরিচালনা করা হচ্ছে। রোগীদের বিনামূল্যে চিকিৎসার পাশাপাশি ওষুধ, পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট ও স্বাস্থ্যবিষয়ক পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। চট্টগ্রাম বিভাগীয় স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. ফজলে রাব্বি বলেন, স্বাস্থ্য বিভাগ প্রস্তুত আছে। আমাদের মেডিকেল টিমগুলো মাঠে সক্রিয় আছে। আগেই প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত করেছিলাম। এখন পর্যন্ত ৫০ হাজারের বেশি পানি বিশুদ্ধকরণ ট্যাবলেট বিতরণ করা হয়েছে এবং যেকোনো পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার মতো পর্যাপ্ত স্যালাইন ও ওষুধের মজুত রয়েছে।

আরও পড়ুনঃ  কুলাউড়ায় মনু নদীর বিভিন্ন স্থানে বাঁধে ধস, আতঙ্কে তীরবর্তী মানুষ যেকোনো সময় ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা