Dhaka ০৪:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০৫ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শিরোনামঃ
ক্যাম্পাসগুলোকে আবারো সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করা হচ্ছে: নাহিদ ধামইরহাটে বাবা মায়ের উপর অভিমান করে গ্যাস বরি খেয়ে মেয়ের আত্মহত্যার অভিযোগ ভিডিও ভাইরাল হওয়ার পর মির্জাপুরে ইভটিজিংয়ের অভিযুক্ত কিশোর আটক পত্নীতলা ১৪ বিজিবির চৌকস অভিযানে দুষ্প্রাপ্য কষ্টিপাথরের বিষ্ণু মূর্তি উদ্ধার রাজধানীর কদমতলীতে মানসিক ভারসাম্যহীন যুবকের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার টাঙ্গাইলের কৃষক লীগ নেতা বেনাপোল দিয়ে ভারতে পালানোর সময় আটক প্রতিবন্ধিতা যেন স্বপ্নের পথে বাধা না হয়: ঢাকার ডিসি ফরিদা খানম মনপুরা জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে দিনদুপুরে হামলা, বিচারে চেয়ে ভুক্তভোগীর সংবাদ সম্মেলন মান্দায় শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে অবরুদ্ধ প্রধান শিক্ষক, মোটরসাইকেলে আগুন ঢাকার তিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ছাত্রদল-ছাত্রশিবির সংঘর্ষ, আহত বেশ কয়েকজন

গ্যাসের সংকট দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে সড়ক থেকে শুরু করে বাসা বাড়ি সবখানে প্রভাব

মোঃ সৈয়দ মিয়া : চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামে গ্যাসের সংকট দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করেছে। সড়ক থেকে শুরু করে বাসাবাড়ি – সবখানে প্রভাব পড়েছে এই সংকটের। এতে করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন রুটিন পর্যন্ত পাল্টে যাচ্ছে। সিএনজি ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি মাইল ছাড়িয়ে গেছে। ৭/৮ ঘণ্টা অপেক্ষার পর পাওয়া যাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত গ্যাস। পাম্পে আটকে থাকার কারণে সড়কে কমে গেছে যানবাহনের সংখ্যা। এতে করে বেড়েছে যাত্রী ভোগান্তি।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্র জানায়, বর্তমানে চট্টগ্রামে গ্যাসের দৈনিক স্বাভাবিক চাহিদা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। সংকটের শুরুতে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছিল মাত্র ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি। কিন্তু আগস্টের শুরু থেকে সরবরাহ আরও কমে গেছে।

আরও পড়ুনঃ  দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ঝিলমিল আবাসিক এলাকা থেকে অজ্ঞাত নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস ডিভিশন) প্রকৌশলী মো. তাজউদ্দিন ঢালী বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। সীমিত ভাবে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। চাপও কম। রেশনিংয়ের মাধ্যমে গ্যাস বিতরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। ১ আগস্ট থেকে কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

এদিকে, গ্যাসের জন্য নগরীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনে মাইলের পর মাইল জুড়ে যানবাহনের লাইন পড়েছে। ৭/৮ ঘণ্টা অপেক্ষার পর পাওয়া যাচ্ছে গ্যাস।

নগরীর চান্দগাঁও থেকে সিএনজি টেম্পুতে উঠে আন্দরকিল্লা আসছিলেন কর্মজীবী মো. দবীর হুসেইন। এই দূরত্বটুকু তিনি টেম্পোতে ১৩ টাকা ভাড়ায় আসা যাওয়া করেন। কিন্তু আজ তাকে দিতে হচ্ছে ২০ টাকা। গাড়িতে উঠার সময় চালক ২০ টাকা ভাড়ার কথা বলেই যাত্রী উঠিয়েছেন। চলতে চলতে দবীর হুসেইন চালকের কাছ থেকে জানতে পারেন গ্যাস ভোগান্তির কথা।

আরও পড়ুনঃ  রাজশাহী থেকে হারিয়ে যাওয়া শিশুকে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দিল পুলিশ

চালক রহিম মিয়া তাকে বলেন, ভাই গতকাল রাত ৯টায় পাম্পে লাইন দিছি। রাতের ৪টা বাজে পাম্প থেকে গ্যাস নিয়ে বের হইছি। যারা সকালে লাইন দিছে তারা গ্যাস নিয়ে বের হতে সন্ধ্যা বা রাত হয়ে যাবে। চান্দগাঁও পাম্পে গ্যাস নিতে পুরাতন চান্দগাঁও থেকে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা পর্যন্ত লাইন পড়ে গেছে। আসার সময় দেখছেন তো। এ হল অবস্থা। গাড়ি কয়ঘণ্টা চালাতে পারছি। ভাড়া বেশি না নিয়ে কোনো উপায় নেই।

আরও পড়ুনঃ  লক্ষ্মীপুরে হাসপাতাল-ডায়াগনস্টিক সেন্টারে অভিযান, দুই প্রতিষ্ঠানে ১ লক্ষ ২০ হাজার জরিমানা

হালিশহর,আগ্রাবাদ,চান্দগাঁও, চকবাজার,বাকলিয়া,জামালখানসহ নগরীর অধিকাংশ এলাকায় গ্যাসের অভাবে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

হালিশহর এলাকার বাসিন্দা ইসমত আরা বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত গ্যাস থাকছে না। কিন্তু গতকাল থেকে সকাল ৭টাতেই গ্যাস চলে গেছে। রাত ১১ টার পর গ্যাস আসে। কিন্তু তাও প্রেসার একেবারে নেই। রান্নাবান্না, বাচ্চার নাশতা তৈরিসহ কোনো কাজই করা যাচ্ছে না। হোটেল থেকে নানরুটি, পাউরুটি কিনে খেতে হচ্ছে।

জানা যায়, গত ২১ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়

Tag :
জনপ্রিয় পোস্ট

ক্যাম্পাসগুলোকে আবারো সন্ত্রাসের অভয়ারণ্যে পরিণত করা হচ্ছে: নাহিদ

গ্যাসের সংকট দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করছে সড়ক থেকে শুরু করে বাসা বাড়ি সবখানে প্রভাব

আপডেটের সময়: ০২:৪৮:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ৩ অগাস্ট ২০২৬

মোঃ সৈয়দ মিয়া : চট্টগ্রাম ব্যুরো

চট্টগ্রামে গ্যাসের সংকট দিন দিন তীব্র আকার ধারণ করেছে। সড়ক থেকে শুরু করে বাসাবাড়ি – সবখানে প্রভাব পড়েছে এই সংকটের। এতে করে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন রুটিন পর্যন্ত পাল্টে যাচ্ছে। সিএনজি ফিলিং স্টেশনে যানবাহনের দীর্ঘ সারি মাইল ছাড়িয়ে গেছে। ৭/৮ ঘণ্টা অপেক্ষার পর পাওয়া যাচ্ছে কাঙ্ক্ষিত গ্যাস। পাম্পে আটকে থাকার কারণে সড়কে কমে গেছে যানবাহনের সংখ্যা। এতে করে বেড়েছে যাত্রী ভোগান্তি।

কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল) সূত্র জানায়, বর্তমানে চট্টগ্রামে গ্যাসের দৈনিক স্বাভাবিক চাহিদা প্রায় ৩৫০ মিলিয়ন ঘনফুট। সংকটের শুরুতে চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ হচ্ছিল মাত্র ২০০ মিলিয়ন ঘনফুটের কাছাকাছি। কিন্তু আগস্টের শুরু থেকে সরবরাহ আরও কমে গেছে।

আরও পড়ুনঃ  হাইদচকিয়া বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজে প্রথম অভিভাবক সমাবেশ অনুষ্ঠিত

কেজিডিসিএলের মহাব্যবস্থাপক (ইঞ্জিনিয়ারিং সার্ভিস ডিভিশন) প্রকৌশলী মো. তাজউদ্দিন ঢালী বলেন, জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। সীমিত ভাবে গ্যাস দেওয়া হচ্ছে। চাপও কম। রেশনিংয়ের মাধ্যমে গ্যাস বিতরণের চেষ্টা করা হচ্ছে। ১ আগস্ট থেকে কিছুটা স্বাভাবিক হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু তা হয়নি। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ রাখা হচ্ছে।

এদিকে, গ্যাসের জন্য নগরীর সিএনজি ফিলিং স্টেশনে মাইলের পর মাইল জুড়ে যানবাহনের লাইন পড়েছে। ৭/৮ ঘণ্টা অপেক্ষার পর পাওয়া যাচ্ছে গ্যাস।

নগরীর চান্দগাঁও থেকে সিএনজি টেম্পুতে উঠে আন্দরকিল্লা আসছিলেন কর্মজীবী মো. দবীর হুসেইন। এই দূরত্বটুকু তিনি টেম্পোতে ১৩ টাকা ভাড়ায় আসা যাওয়া করেন। কিন্তু আজ তাকে দিতে হচ্ছে ২০ টাকা। গাড়িতে উঠার সময় চালক ২০ টাকা ভাড়ার কথা বলেই যাত্রী উঠিয়েছেন। চলতে চলতে দবীর হুসেইন চালকের কাছ থেকে জানতে পারেন গ্যাস ভোগান্তির কথা।

আরও পড়ুনঃ  দক্ষিণ কেরানীগঞ্জে ঝিলমিল আবাসিক এলাকা থেকে অজ্ঞাত নারীর অর্ধগলিত মরদেহ উদ্ধার

চালক রহিম মিয়া তাকে বলেন, ভাই গতকাল রাত ৯টায় পাম্পে লাইন দিছি। রাতের ৪টা বাজে পাম্প থেকে গ্যাস নিয়ে বের হইছি। যারা সকালে লাইন দিছে তারা গ্যাস নিয়ে বের হতে সন্ধ্যা বা রাত হয়ে যাবে। চান্দগাঁও পাম্পে গ্যাস নিতে পুরাতন চান্দগাঁও থেকে চান্দগাঁও আবাসিক এলাকা পর্যন্ত লাইন পড়ে গেছে। আসার সময় দেখছেন তো। এ হল অবস্থা। গাড়ি কয়ঘণ্টা চালাতে পারছি। ভাড়া বেশি না নিয়ে কোনো উপায় নেই।

আরও পড়ুনঃ  কোম্পানীগঞ্জে সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের বার্ষিক কাউন্সিল অনুষ্ঠিত

হালিশহর,আগ্রাবাদ,চান্দগাঁও, চকবাজার,বাকলিয়া,জামালখানসহ নগরীর অধিকাংশ এলাকায় গ্যাসের অভাবে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।

হালিশহর এলাকার বাসিন্দা ইসমত আরা বলেন, ‘গত এক সপ্তাহ ধরে সকাল ১০ টা থেকে বিকাল ৩ টা পর্যন্ত গ্যাস থাকছে না। কিন্তু গতকাল থেকে সকাল ৭টাতেই গ্যাস চলে গেছে। রাত ১১ টার পর গ্যাস আসে। কিন্তু তাও প্রেসার একেবারে নেই। রান্নাবান্না, বাচ্চার নাশতা তৈরিসহ কোনো কাজই করা যাচ্ছে না। হোটেল থেকে নানরুটি, পাউরুটি কিনে খেতে হচ্ছে।

জানা যায়, গত ২১ জুলাই কক্সবাজারের মহেশখালীতে অবস্থিত ভাসমান এলএনজি (এফএসআরইউ) টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ড ও কারিগরি ত্রুটি দেখা দেয়। এর ফলে জাতীয় গ্রিডে এলএনজি গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়