
নাজমুল ফয়েজ টুটুল, হোসেনপুর, কিশোরগঞ্জ,(প্রতিনিধি)
কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে খাস জমি ও খাল দখল নিয়ে সংবাদ প্রকাশের জেরে এক সাংবাদিকের ওপর হত্যাচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। হামলার হুকুমদাতা হিসেবে ১ নং জিনারী ইউনিয়ন বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি ও চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মো. আজহারুল ইসলামের নাম উল্লেখ করে থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগী সাংবাদিক।
শনিবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে হোসেনপুরের নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান টেলিকম ও ফার্নিচারের দোকানে হামলার শিকার হন দৈনিক সংগ্রাম ও সিএনবাংলার হোসেনপুর প্রতিনিধি। অভিযোগে বলা হয়, আজহারুল ইসলামের নির্দেশে আবুল কালাম গং দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়। হামলায় সাংবাদিক আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হোসেনপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
ভুক্তভোগী সাংবাদিক রোববার সকালে হোসেনপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তিনি আইনগত সহায়তা ও দোষীদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।
খাল-রাস্তা দখল নিয়ে বিরোধের সূত্রপাত
অভিযোগে জানা যায়, হোসেনপুর উপজেলার হাজিপুর বাজার কাচারী-গোবিন্দপুর রোডের খালপাড় দখল করে ১০-১৫টি দোকানের পাকা স্থাপনা নির্মাণ করা হচ্ছে। সাফ কাওলা দলিল দাবি করে সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ফাউন্ডেশন দিয়ে আলিশান মার্কেট গড়ে তোলা হয়েছে। এতে খালের পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং রাস্তায় ভাঙন ধরেছে।
এ বিষয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে ২০২১ সালে সহকারী কমিশনার ভূমি আবু বকর উচ্ছেদ অভিযান চালান। কিছুদিন বন্ধ থাকার পর আবার জেলা অফিস “ম্যানেজ” করে ফাউন্ডেশন দিয়ে মার্কেট নির্মাণ শুরু হয় বলে অভিযোগ।
দোকান মালিকরা মালিকানা দাবি করে বিভিন্ন সময়ে ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা ও সহকারী কমিশনার ভূমি অফিসে খাজনা নেওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় জেলা থেকে সাংবাদিক এনে চাপ সৃষ্টি করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ আছে।
উপজেলা সহকারী কমিশনার ভূমি ও পৌর প্রশাসক মোহসী মাসনাদ বলেন, জমির মালিকানা তাদের থাকতে পারে, কিন্তু রাস্তা ও খালের ওপর ফাউন্ডেশন দিয়ে পাকা স্থাপনা নির্মাণ আইনত অবৈধ। নদী প্রবাহ আইন অনুযায়ী এ ধরনের স্থাপনা খাস বা অবৈধ হিসেবে গণ্য হয়। এতে খাল ভরাট হচ্ছে, পানি প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
নিন্দা জানিয়েছেন বিএনপি নেতারা, ১ নং জিনারী ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিকের ওপর হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। পাশাপাশি দখলকৃত খাল দ্রুত উদ্ধারে প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মো. আজহারুল ইসলামের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
হোসেনপুর থানার ওসি জানান, অভিযোগ পেয়েছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রতিবেদকের নাম 



















