
মাগুরা প্রতিনিধি: মাগুরা প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার ঝুঁকি কমাতে মাগুরা-ঢাকা মহাসড়কের নড়াইল সড়কের কেন্দ্রবিন্দুতে ক্ষতিগ্রস্ত অংশ সোমবার (১৩ জুলাই) রাতভর স্বেচ্ছাশ্রমে সংস্কার করেছেন একদল সমাজসচেতন তরুণ। তাদের এই মানবিক উদ্যোগে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও চালকদের মধ্যে ব্যাপক প্রশংসার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে বৃষ্টির পানি জমে ওই স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়। ফলে মোটরসাইকেল, ইজিবাইক, অ্যাম্বুলেন্স, ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহন চলাচলে চরম দুর্ভোগের পাশাপাশি প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছিল। বিশেষ করে বর্ষার পানির কারণে গর্তগুলো চোখে না পড়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়। এ অবস্থায় সরকারি উদ্যোগের অপেক্ষায় না থেকে রবিবার রাতে মাগুরা রিপোর্টার্স ইউনিটির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এ কে এম মাজেদুল আলম (ইভান), সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির, সহ-সাধারণ সম্পাদক মো. মিরাজ হাসান, দপ্তর সম্পাদক মো. মইনুর রহমান (পলিন), ক্রীড়া সম্পাদক স্বপন, নির্বাহী সদস্য মো. জিয়াউল কবির ও জেলা মোটরস শ্রমিক ইউনিয়নের সাবেক সেক্রেটারি মো. সেলিম রেজা নিজ উদ্যোগে নির্মাণসামগ্রী সংগ্রহ করে স্বেচ্ছাশ্রমে সড়কের গর্ত ভরাট করেন। এ সময় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও এলাকাবাসীও তাদের সহযোগিতা করেন।
উদ্যোক্তারা জানান, প্রতিদিন হাজারো মানুষ এ সড়ক দিয়ে চলাচল করেন। সামান্য অবহেলায় মূল্যবান প্রাণহানি ঘটতে পারে। তাই মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই তারা রাতভর কাজ করে সড়কটি সাময়িকভাবে চলাচলের উপযোগী করেছেন। তবে এটি কোনো স্থায়ী সমাধান নয়; সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত টেকসই সংস্কার এবং জলাবদ্ধতা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির বেহাল অবস্থার কারণে প্রতিনিয়ত ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছিল। স্বেচ্ছাসেবীদের এই উদ্যোগে তাৎক্ষণিকভাবে ঝুঁকি অনেকটাই কমেছে। তারা এ মানবিক উদ্যোগের প্রশংসা করে দ্রুত স্থায়ী সংস্কারের দাবি জানান। সচেতন মহলের মতে, জনস্বার্থে নাগরিকদের এমন স্বতঃস্ফূর্ত উদ্যোগ নিঃসন্দেহে প্রশংসনীয়। তবে জাতীয় মহাসড়কের গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিরাপদ রাখা এবং স্থায়ীভাবে সংস্কার করা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সাংবিধানিক ও প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব। এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, দ্রুত সময়ের মধ্যে সড়কটির স্থায়ী সংস্কার করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কোনো দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা না ঘটে।
প্রতিবেদকের নাম 



















